📌 নওগাঁর চাল ও ধানের দাম এক সপ্তাহে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। চালের দাম কমে ভোক্তাদের স্বস্তি হলেও কৃষকদের হতাশা বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারের অতিরিক্ত চাল আমদানি ও মজুতের কারণে চাহিদা কমে গেছে।
নওগাঁ জেলার চাল ও ধানের বাজারে দামের নাটকীয় হ্রাস ঘটেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম কেজিপ্রতি এক থেকে দুই টাকা কমেছে এবং আউশ ধানের দাম মণপ্রতি সর্বোচ্চ ৫০ টাকা কমে গেছে। যদিও ভোক্তাদের কাছে চালের দাম কমে স্বস্তি এসেছে, তবুও কৃষকদের হতাশা বেড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, চাহিদা কমে যাওয়ায় চালের পাইকারি বেচাকেনা হ্রাস পেয়েছে এবং গুদামে চালের মজুত বাড়ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নওগাঁর বাজারে আউশ ধানের দাম মণপ্রতি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় নেমেছে, এক সপ্তাহ আগে ছিল ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা
- 📌 গত বছরের একই সময়ে আউশ ধানের দাম ছিল ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা
- 📌 কাটারি ধানের বর্তমান দাম ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা, গত বছরে ছিল ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা
- 📌 জিরা ধানের দাম মণপ্রতি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, গত বছরের তুলনায় সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা কমেছে
- 📌 চালের দামও কমেছে: জিরা চাল ৫৬ থেকে ৬১ টাকা, কাটারি চাল ৭৩ থেকে ৭৪ টাকা, স্বর্ণা চাল ৪২ থেকে ৪৪ টাকা
- 📌 জেলা প্রশাসক সতর্কতা জারি করেছেন চালে কৃত্রিম সুগন্ধি ও ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানো থেকে বিরত থাকার জন্য
- 📌 ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারের অতিরিক্ত চাল আমদানি ও মজুতের কারণে চাহিদা কমে গেছে
- 📌 কৃষকেরা ধানের ন্যায্য মূল্য পাবেন সে জন্য আউশ মৌসুমে সরকারের চাল কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে
📰 বিস্তারিত
নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেছেন, গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অতিরিক্ত চাল আমদানি করা হয়েছিল। এ কারণে বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত চালের মজুত রয়েছে। এই মজুতের কারণে মোকামে চালের চাহিদা কমে গেছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, গত তিন-চার বছরের তুলনায় এ বছর ধান-চালের দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। চালের চাহিদা না থাকায় মিলমালিকেরা ধান কেনাও কমিয়ে দিয়েছেন, যার কারণে বাজারে আউশ ধানের দামও কমে গেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে নওগাঁর বাজারে আউশ ধান (পারিজা ও ব্রি ধান-৪৮) প্রতি মণ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে এই ধানের দাম ছিল ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এই ধানের দাম ছিল ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা। কাটারি ধান বর্তমানে প্রতি মণ ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় ১০০ থেকে ২০০ টাকা কম। জিরা ধানের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, বর্তমানে প্রতি মণ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা কম।
চালের দামও কমেছে। বর্তমানে নওগাঁর মোকামে পাইকারিতে প্রতি কেজি জিরা চাল ৫৬ থেকে ৬১ টাকা, কাটারি চাল ৭৩ থেকে ৭৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই দুই ধরনের চালের দাম কেজিতে প্রায় দুই টাকা কমেছে। স্বর্ণা চাল হিসেবে পরিচিত মোটা চাল বর্তমানে প্রতি কেজি ৪২ থেকে ৪৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা।
"চালের চাহিদা না থাকায় মিলমালিকেরা ধান কেনাও কমিয়ে দিয়েছেন। এ কারণে বাজারে আউশ ধানের দামও কমে গেছে। কৃষকেরা যাতে ধানের ন্যায্যমূল্য পান, সে জন্য আউশ মৌসুমেও সরকারের চাল বা ধান কেনা উচিত।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নওগাঁ জেলা, বাংলাদেশ
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: ফরহাদ হোসেন চকদার (জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক), জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ফরহাদ খোন্দকার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ টাকা (আউশ ধানের এক সপ্তাহের কমতি), ৭০০-৮০০ টাকা (আউশ ধানের বর্তমান দাম), ১ হাজার ২০০-১ হাজার ৩০০ টাকা (জিরা ধানের বর্তমান দাম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!