📌 বগুড়ার পাঁচটি পলিশেড নির্মাণ প্রকল্পে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দে দুই বছরে পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে। নিম্নমানের সোলার প্যানেল, বিদ্যুৎ সংযোগের অভাব এবং নির্মাণ অনিয়মের কারণে কৃষকরা ফসল চাষ করতে পারছেন না। কৃষকদের দাবি, প্রকল্পের বাস্তবায়নে ব্যর্থতা সরকারি প্রকল্পের নাম ধরে কৃষকদের ক্ষতির মুখে ফেলেছে।
বগুড়া জেলার পাঁচটি পলিশেড নির্মাণ প্রকল্পে সরকারের ৫ কোটি টাকা বরাদ্দে দুই বছর ধরে প্রকল্পটি কার্যকর হচ্ছে না। প্রকল্পের আওতায় নির্মিত পলিশেডগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে এবং কৃষকদের জমি আটকে পড়েছে। প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল আধুনিক সেচ প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো, কিন্তু বাস্তবে প্রকল্পটি কৃষকদের জন্য কোনো লাভের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বগুড়ার পাঁচটি পলিশেডে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দে দুই বছরে কার্যকর হয়নি, পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে
- 📌 নিম্নমানের সোলার প্যানেল, বিদ্যুৎ সংযোগের অভাব এবং নির্মাণ অনিয়মের কারণে সেচযন্ত্র কাজ করছে না
- 📌 কৃষকদের জমিতে পানি দেওয়া সম্ভব হয় না, ফলে ফসল চাষ ব্যর্থ হয়েছে
- 📌 মহিষবাথান গ্রামের আলফাজ উদ্দিনের ২৯ শতাংশ জমিতে লাগানো ৩ হাজার টমেটো চারা মারা গেছে
- 📌 গনেশপুর গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ৪৪ শতাংশ জমিতে কলা চাষের সম্ভাবনা হারিয়ে গেছে
- 📌 প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান মাগুরার আদর্শ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী গোলাম রাহিদ জানান, প্রকল্পে বরাদ্দের পরও কাজের মান নিম্নমানের
📰 বিস্তারিত
বগুড়া সদরের শেখেরকোলা ইউনিয়নের মহিষবাথান, বালুপাড়া, গোকুল ইউনিয়নের গোকুল, মোকামতলা ইউনিয়নের গনেশপুর এবং দেউলী ইউনিয়নের পাকুড়তলা গ্রামে নির্মিত পাঁচটি পলিশেডের অবস্থা খারাপ। প্রকল্পের আওতায় নির্মিত পলিশেডগুলোতে সোলার প্যানেলের মান নিম্নমানের এবং বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবের কারণে সেচযন্ত্র ঠিকমতো কাজ করছে না। কৃষকদের অভিযোগ, সকাল ১০টার আগে পানি উঠে না এবং দুপুরের পরপরই পাম্প বন্ধ হয়ে যায়। শীতকালে সূর্যের আলো কম থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।
মহিষবাথান গ্রামের কৃষক আলফাজ উদ্দিন জানান, তাঁর ২৯ শতাংশ জমিতে দুই বছর আগে পলিশেড ও সেচপাম্প স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু সেচযন্ত্রে পানি উঠলেও কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পাওয়া যায় না। আলফাজ বলেন, ‘পলিশেডে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় ফগার মেশিন ও ফ্যান চালানো সম্ভব হয়নি। ফলে সেখানে চাষাবাদ করা সম্ভব হয়নি। এ বছর আমি পলিশেডে ৩ হাজার টমেটোর চারা রোপণ করেছিলাম, কিন্তু পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ও পানি না পাওয়ায় সেগুলো মারা গেছে।’
গনেশপুর গ্রামের কৃষক হেলাল উদ্দিনের ৪৪ শতাংশ জমিতে দুই বছর আগে পলিশেড ও সেচপাম্প স্থাপন করা হয়েছিল। তবে বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবের কারণে তিনি এত দিন সেখানে কোনো ফসল চাষ করতে পারেননি। হেলাল বলেন, ‘এই জমিতে কলা চাষ করতে পারলে বছরে প্রায় আড়াই লাখ টাকা আয় করতে পারতাম। সরকারি প্রকল্পের জন্য জমি দেওয়ার পর দুই বছর ধরে জমিটা পড়ে আছে। এক মাস আগে সাড়ে ৩ হাজার টমেটোর চারা লাগিয়েছিলাম, সেগুলোও মারা গেছে।’
প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান মাগুরার আদর্শ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী গোলাম রাহিদ জানান, প্রতিটি পলিশেড নির্মাণের জন্য বিএডিসি তাঁদের ১৫ লাখ টাকা করে দিয়েছে। তবে বিদ্যুৎ সংযোগ, ফগার মেশিন, সোলার প্যানেলসহ অন্যান্য কাজ অন্য প্রতিষ্ঠান করেছে। তিনি বলেন, ‘প্রকল্পে বরাদ্দের পরও কাজের মান নিম্নমানের এবং প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা বিএডিসি প্রকল্পের যথাযথ পরিদর্শন করেননি।’
"প্রকল্প পরিচালক মাহবুবর রহমান বলেন, বরাদ্দস্বল্পতার কারণে প্রকল্পে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। এখন বরাদ্দ পাওয়া গেছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পলিশেডগুলো চালু করা হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বগুড়া সদর, শেখেরকোলা ইউনিয়ন (মহিষবাথান, বালুপাড়া, গোকুল, গনেশপুর, পাকুড়তলা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলফাজ উদ্দিন, হেলাল উদ্দিন, গোলাম রাহিদ, মাহবুবর রহমান, আসমাউল বিন হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ, ২৯ শতাংশ জমি, ৩ হাজার টমেটো চারা, ৪৪ শতাংশ জমি, ১৫ লাখ টাকা প্রতিটি পলিশেডে, ৬ হাজার ৬১৫ পিস ইয়াবা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!