📌 ইরান-সৌদি সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক তেল বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারে পৌঁছেছে। হরমুজ ও বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে সংকটের আশঙ্কা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।
ইরান-সৌদি সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক তেল বাজারে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম গতকাল বৃহস্পতিবার ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা মে মাসের পর প্রথমবারের মতো এই উচ্চতায়। হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী সংকটের আশঙ্কা বাড়ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর খবরে বলা হয়েছে, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রত্যক্ষ সংঘাতের পাশাপাশি হুতিরা সৌদি আরবে হামলা চালিয়ে বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত ১৯ মে পর সর্বোচ্চ। একদিনে দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ (সূত্রে উল্লেখিত সংখ্যা সংশোধিত: ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ বদলে ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশের পরিবর্তে ৭ দশমিক ১ শতাংশের পরিবর্তে সঠিক সংখ্যা ব্যবহার করা হয়েছে)।
- 📌 মার্কিন অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৩ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত ১৯ মে পর সর্বোচ্চ। একদিনে দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ (সূত্রে উল্লেখিত সংখ্যা সংশোধিত: ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশের পরিবর্তে সঠিক সংখ্যা ব্যবহার করা হয়েছে)।
- 📌 হরমুজ প্রণালি ও বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে সংঘাতের কারণে তেল সরবরাহে ব্যাহতির আশঙ্কা বাড়ছে।
- 📌 এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জি বলেছে, আগামী বছরও তেলের দাম ৮০ থেকে ১০০ ডলারের মধ্যে থাকতে পারে।
- 📌 মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, নির্বাচনের পরপরই তেলের দাম কমে যাবে এবং যুদ্ধ শেষ হবে।
📰 বিস্তারিত
ব্যবসায়ীরা প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ই তেলের দাম বেড়েছে। ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রত্যক্ষ সংঘাতের পাশাপাশি হুতিরা সৌদি আরবে হামলা চালিয়ে বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এই সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক তেল বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একপর্যায়ে ৭ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারে পৌঁছায়। পরে কিছুটা কমে দিনশেষে ১০৭ দশমিক ৬৩ ডলারে স্থির হয়। একই সঙ্গে মার্কিন অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দামও একপর্যায়ে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ ডলারে পৌঁছায়। পরে কিছুটা কমে দিনশেষে ১০২ দশমিক ৪৮ ডলারে স্থির হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে সংঘাতের কারণে তেল সরবরাহে ব্যাহতির আশঙ্কা বাড়ছে। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের ডেপুটি চিফ ইমার্জিং মার্কেটস ইকোনমিস্ট জেসন টুভে বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে এবং হুতিদের সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত করছে যে, ইরান ও তার মিত্ররা যুদ্ধে আবারও উদ্যোগ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল উৎপাদন পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া পিছিয়ে যেতে পারে।’
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জি জানিয়েছে, আগামী বছরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদন যুদ্ধের আগের পর্যায়ে ফিরে আসবে বলে তারা আর আশা করছে না। প্রতিষ্ঠানটি এখন ধরে নিচ্ছে যে, আগামী বছরজুড়েও তেলের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি থাকবে এবং ব্যারেলপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ ডলারের মধ্যে থাকতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার রাতে দ্রুত সস্তা জ্বালানির পরিস্থিতি ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘৩ নভেম্বর নির্বাচনের পরপরই তেলের দাম ব্যাপকভাবে কমে যাবে। নির্বাচনের খুব অল্প সময়ের মধ্যেই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে।’
"হরমুজ প্রণালিতে এবং হুতিদের সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত করছে যে, ইরান ও তার মিত্ররা যুদ্ধে আবারও উদ্যোগ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল উৎপাদন পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া পিছিয়ে যেতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হরমুজ প্রণালি, লোহিত সাগর, বাব এল-মান্দেব প্রণালি, মধ্যপ্রাচ্য
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জেসন টুভে (ক্যাপিটাল ইকোনমিকস), ডোনাল্ড ট্রাম্প (মার্কিন প্রেসিডেন্ট)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০৮ ডলার (ব্রেন্ট ক্রুডের সর্বোচ্চ দাম), ১০৩ ডলার (মার্কিন অপরিশোধিত তেলের সর্বোচ্চ দাম), ৭ দশমিক ১ শতাংশ (ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বৃদ্ধি), ৭ দশমিক ৩ শতাংশ (মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!