📌 অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ক্ষুদ্রঋণের ভূমিকা বৃদ্ধি পেতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। গোলটেবিল বৈঠকে তারা দাবি করেছেন, কৃষক ও উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণসহায়তা প্যাকেজে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার, সুদহার কমিয়ে আনতে হবে এবং প্রক্রিয়াগত জটিলতা দূর করতে হবে
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ক্ষুদ্রঋণের ভূমিকা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। গত বৃহস্পতিবার ঢাকার কারওয়ান বাজারে অনুষ্ঠিত ‘কৃষক, গ্রামীণ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির গুরুত্ব’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তারা দাবি করেছেন, শুধু ঋণ নয়, সামগ্রিক প্যাকেজ নিয়ে অগ্রসর হতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার, সুদহার কমিয়ে আনতে হবে এবং প্রক্রিয়াগত জটিলতা দূর করতে হবে যাতে কৃষক ও উদ্যোক্তারা ঝুঁকি হ্রাস পেয়ে সুরক্ষিত হয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২৪ শতাংশ সুদহার** বর্তমানে ক্ষুদ্রঋণদাতা প্রতিষ্ঠান (এমএফআই) দিচ্ছে, যা কমিয়ে আনতে হবে বলে দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
- 📌 **বাংলাদেশ ব্যাংক** চলতি অর্থবছরে **৬০ হাজার কোটি টাকা** কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা আগের চেয়ে **৩৯ হাজার কোটি টাকা** বেশি।
- 📌 **কৃষক ও উদ্যোক্তাদের জন্য** তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুত ঋণ বিতরণের প্রক্রিয়া সহজতর করতে হবে বলে মনে করেন বক্তারা।
- 📌 **পিকেএসএফ** ১৭ শতাংশ সুদে ক্ষুদ্রঋণ দিচ্ছে, যা বর্তমান ২৪ শতাংশের তুলনায় কম।
- 📌 **ব্যাংক ও এমএফআই** কৃষক ও উদ্যোক্তাদের সাথে সংযোগ স্থাপন করে তাদের ব্যবসা বাড়াতে সহায়তা করতে হবে বলে দাবি করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্রঋণের ভূমিকা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার ঢাকার কারওয়ান বাজারে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা একমত হয়েছেন যে, শুধু ঋণ নয়, সামগ্রিক প্যাকেজ নিয়ে অগ্রসর হতে হবে। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার, ক্ষুদ্রঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা বলেছেন, কৃষক ও উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণসহায়তা প্যাকেজে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুত ঋণ বিতরণের প্রক্রিয়া সহজতর করতে হবে।
বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা **হোসেন জিল্লুর রহমান** বলেছেন, গ্রামীণ অর্থনীতিতে অনেক সম্ভাবনাময় উদ্যোগ তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি অর্থবছরে ৬০ হাজার কোটি টাকার কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। তবে শুধু অর্থায়ন ও সুদহারের পাশাপাশি প্রক্রিয়াগত জটিলতা বা হয়রানি বন্ধ, নীতি ঘাটতি দূর এবং উদ্ভাবনে জোর দেওয়া দরকার।’ তিনি আরও বলেন, ঋণসহায়তার পাশাপাশি স্থানীয় অবকাঠামো উন্নত করতে হবে।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক **মুস্তফা কে মুজেরী** বলেছেন, গ্রামীণ কৃষি ও উদ্যোক্তাদের বিকাশে ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে এমএফআই। তিনি বলেন, ‘কৃষক আগের চেয়ে বেশি উৎপাদন করছেন এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। তবে বড় ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। তাই কৃষকের জন্য ক্ষুদ্রঋণের সঙ্গে বিভিন্ন সেবা নিয়ে আসতে হবে। একইভাবে উদ্যোক্তাদের শুধু ঋণ দিলে হবে না, তাঁদের প্রয়োজনীয় অন্যান্য সেবাও দিতে হবে।’
ইউসিবি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) **মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ** বলেছেন, ‘কৃষিঋণের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো সময়মতো অর্থায়ন না হলে ঋণের কার্যকারিতা অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। সে জন্য আমরা মৌসুমের শুরুতেই সংশ্লিষ্ট ফসলের জন্য কৃষিঋণ বিতরণ, আবেদনপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং দ্রুততম সময়ে ঋণ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। বর্তমানে আমরা এক দিনে কৃষিঋণ বিতরণ করছি।’
পল্লী কর্ম–সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক **ফজলুল কাদের** বলেছেন, ‘২৪ শতাংশ সুদহার কার্যকর নয়। যখন কৃষকদের টাকা লাগে, তখন পান না। সে জন্য তাঁরা একাধিক এমএফআইয়ে যান।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘কৃষিকাজে মুনাফা বাড়েনি। খরচ বেড়েছে। গড়ে ৬ শতাংশ মুনাফা হয়।’
"অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে শুধু অর্থায়ন ও সুদহারের পাশাপাশি প্রক্রিয়াগত জটিলতা বন্ধ, নীতি ঘাটতি দূর এবং উদ্ভাবনে জোর দেওয়া দরকার।"
— **হোসেন জিল্লুর রহমান**, পিপিআরসি নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (কারওয়ান বাজার, প্রথম আলো কার্যালয়)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হোসেন জিল্লুর রহমান, মুস্তফা কে মুজেরী, মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ, ফজলুল কাদের
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০ হাজার কোটি টাকা (কৃষিঋণ লক্ষ্যমাত্রা), ২৪ শতাংশ (বর্তমান সুদহার), ১৭ শতাংশ (পিকেএসএফের সুদহার), ৬০ হাজার কোটি টাকা (বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!