📌 রাজশাহীতে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকি চরমে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরিপে ব্রেটো সূচক পাওয়া গেছে ৬১ দশমিক ৩৩, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত সীমার তিন গুণের বেশি। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে রাসিককে চিঠি দিয়েছে অধিদপ্তর
রাজশাহী শহরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, এডিস মশার প্রজননের ঘনত্ব নির্দেশক ব্রেটো সূচক দাঁড়িয়েছে ৬১ দশমিক ৩৩-তে, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত উচ্চ ঝুঁকির সীমা ২০-এর তিন গুণেরও বেশি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজশাহী সিটি করপোরেশনকে (রাসিক) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে অধিদপ্তর।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাজশাহীর কাজিহাটা, চণ্ডীপুর, উপরভদ্রা, নামোভদ্রা ও হাজরাপুকুর এলাকায় ৩ থেকে ১০ আগস্ট কীটতাত্ত্বিক জরিপ পরিচালনা করা হয়
- 📌 জরিপে ৭৫টি বাড়ির মধ্যে ২৪টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়, বাড়ির সূচক ৩২ শতাংশ
- 📌 ৬৮টি পাত্র পরীক্ষায় ৪৬টিতে লার্ভা শনাক্ত, পাত্রের সূচক ৬৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ
- 📌 সংগৃহীত ৬৮৫টি মশার লার্ভার মধ্যে ৫০৫টি ছিল এডিস অ্যালবোপিকটাস প্রজাতির
- 📌 রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ২৭ জন
📰 বিস্তারিত
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত জরিপে রাজশাহী শহরের পাঁচটি এলাকায় এডিস মশার ব্যাপক উপস্থিতি ধরা পড়ে। কাজিহাটা, চণ্ডীপুর, উপরভদ্রা, নামোভদ্রা ও হাজরাপুকুর এলাকায় পরিচালিত জরিপে মোট ৭৫টি বাড়ি পরিদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ২৪টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়, যার ফলে বাড়ির সূচক দাঁড়ায় ৩২ শতাংশ। একই সঙ্গে ৬৮টি পানি ধারণকারী পাত্র পরীক্ষা করে ৪৬টিতে মশার লার্ভা শনাক্ত করা হয়, যার সূচক ছিল ৬৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
জরিপে বিভিন্ন প্রজননস্থল থেকে মোট ৬৮৫টি মশার লার্ভা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ৫০৫টি ছিল এডিস অ্যালবোপিকটাস, ৮৬টি এডিস ইজিপ্টি এবং ৯৪টি অন্যান্য প্রজাতির মশার লার্ভা। লার্ভা পাওয়া প্রজননস্থলগুলোর মধ্যে ছিল ফুলদানি, প্লাস্টিক ও সিরামিকের টব, মাটি ও টিনের পাত্র, নারকেলের খোসা, সিমেন্টের টব, ড্রাম, জলমগ্ন মেঝে, রঙের বালতি ও প্লাস্টিকের বালতি।
বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, "ব্রেটো সূচক হলো কোনো এলাকায় এডিস মশার প্রজননের ঘনত্ব বোঝার একটি কীটতাত্ত্বিক সূচক। ১০০টি বাড়ি পরিদর্শন করে সেসব বাড়িতে পাওয়া এডিসের লার্ভাযুক্ত পাত্রের সংখ্যা দিয়ে এই সূচক নির্ণয় করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা অনুযায়ী, ব্রেটো সূচক ২০-এর বেশি হলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রাজশাহীর সর্বশেষ সূচক ৬১ দশমিক ৩৩, যা নির্ধারিত উচ্চ ঝুঁকির সীমার তিন গুণের বেশি।"
তিনি আরও জানান, গত মে মাসের জরিপেও রাজশাহী শহরে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকির চিত্র পাওয়া গিয়েছিল। তখন ৭৫ বাড়ির মধ্যে ১৫টিতে এডিসের লার্ভা পাওয়া যায়। বাড়ির সূচক ছিল ২০ শতাংশ। ৫২টি পাত্র পরীক্ষা করে ২৩টিতে লার্ভা পাওয়া যায়, যার সূচক ছিল ৪৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। ওই সময় ব্রেটো সূচক ছিল ৩০ দশমিক ৬৬। দুই মাসের ব্যবধানে তা বেড়ে ৬১ দশমিক ৩৩ হয়েছে।
"ডেঙ্গু পুরোপুরি নির্মূল সম্ভব নয়। তবে এর বিস্তার ঠেকাতে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম চলছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি বাসিন্দাদের সচেতন করা হচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী শহরের কাজিহাটা, চণ্ডীপুর, উপরভদ্রা, নামোভদ্রা ও হাজরাপুকুর এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. হাবিবুর রহমান (বিভাগীয় পরিচালক, স্বাস্থ্য)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ব্রেটো সূচক ৬১ দশমিক ৩৩, মোট লার্ভা সংগ্রহ ৬৮৫টি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!