📌 ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা স্থাপনের প্রথম দুই দিনেই ট্রাফিক আইন ভঙ্গের মামলা ৯০ শতাংশ কমেছে। অতিরিক্ত গতি ও উল্টোপথে গাড়ি চালানোর দায়ে উদ্বোধনী দিনে ৪৪৬টি মামলা হলেও দ্বিতীয় দিনে তা নেমে আসে মাত্র ৪২টিতে
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ক্যামেরা স্থাপনের দুই দিনের ব্যবধানে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের মামলা ৯০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার উদ্বোধন হওয়া এআই ক্যামেরাগুলোর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধ শনাক্ত করে মামলা নথিভুক্ত করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 উদ্বোধনী দিনে অতিরিক্ত গতি ও উল্টোপথে গাড়ি চালানোর দায়ে মোট ৪৪৬টি মামলা নথিভুক্ত হয়
- 📌 দ্বিতীয় দিনে মামলার সংখ্যা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৪২টিতে
- 📌 অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর দায়ে উদ্বোধনী দিনে ৪১৭টি মামলা হয়, যার মধ্যে কুমিল্লা অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৩৯৭টি
- 📌 উল্টোপথে গাড়ি চালানোর দায়ে উদ্বোধনী দিনে মোট ২৯টি মামলা নথিভুক্ত হয়
- 📌 দ্বিতীয় দিনে উল্টোপথে গাড়ি চালানোর কোনো ঘটনা শনাক্ত হয়নি
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের অন্যতম ব্যস্ত মহাসড়ক হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা স্থাপনের পরপরই ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মহাসড়কের দুই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল গাজীপুর ও কুমিল্লায় স্থাপিত এআই ক্যামেরা উদ্বোধনের প্রথম দিনেই অতিরিক্ত গতি ও উল্টোপথে গাড়ি চালানোর দায়ে মোট ৪৪৬টি মামলা নথিভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর দায়ে ৪১৭টি মামলা হয়, যার মধ্যে কুমিল্লা অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৩৯৭টি এবং গাজীপুর অঞ্চলে ২০টি মামলা রেকর্ড করা হয়। অন্যদিকে উল্টোপথে গাড়ি চালানোর দায়ে মোট ২৯টি মামলা নথিভুক্ত হয়, যার মধ্যে গাজীপুর অঞ্চলে ২৩টি এবং কুমিল্লা অঞ্চলে ৬টি ঘটনা শনাক্ত করা হয়।
তবে উদ্বোধনের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ বুধবার পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়। দ্বিতীয় দিনে শুধুমাত্র অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর দায়ে মাত্র ৪২টি মামলা নথিভুক্ত হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, দ্বিতীয় দিনে উল্টোপথে গাড়ি চালানোর কোনো ঘটনা শনাক্ত করা যায়নি। হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ জেলা পর্যন্ত অংশ গাজীপুর অঞ্চলের অধীনে এবং দাউদকান্দি থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত অংশ কুমিল্লা অঞ্চলের অধীনে পড়ে।
হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশনস) মুনতাসিরুল ইসলাম জানান, এআই ক্যামেরা স্থাপনের ফলে মহাসড়কে আইন মেনে চলার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘আইন মেনে চলার প্রবণতা ও দুর্ঘটনা কমছে কি না, তা নির্দিষ্ট সময় পরপর মূল্যায়ন করা হবে। এরই মধ্যে মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে। এআই ক্যামেরার উদ্যোগটি সফল হবে বলে আশা করি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধ শনাক্ত হওয়ায় মামলা প্রক্রিয়ায় মানুষের হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই। মামলার তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মোবাইলে বার্তা হিসেবে প্রেরণ করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পের আওতায় মহাসড়কের ২৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ অংশে ১ হাজার ৪২৭টি এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। মহাসড়কের উভয় পাশে অবস্থিত ৪৯০টি খুঁটিতে এসব ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এগুলো একটি ডেটা সেন্টার ও পাঁচটি মনিটরিং সেন্টার থেকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটির ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৪২ কোটি টাকা। এআই ক্যামেরা অতিরিক্ত গতি, উল্টোপথে গাড়ি চালানো, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল চালানো, থ্রি-হুইলার চলাচল, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা এবং অবৈধ পার্কিংয়ের মতো অপরাধ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত ও রেকর্ড করতে সক্ষম।
‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধ শনাক্ত করে মামলা হওয়ায় এতে মানুষের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। মামলা অটোমেটিক হচ্ছে, অটোমেটিক মোবাইলে মেসেজ চলে যাচ্ছে। আপনাকে সেটা পে করতে হচ্ছে। মামলা এড়ানোর কোনো রাস্তা থাকবে না।’ — মুনতাসিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশনস), হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তর
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি কফিল উদ্দিন আহমেদ জানান, এআই ক্যামেরা ব্যবহারের ফলে মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘হাইওয়েতে যানবাহন চলাচলে গতিসীমা মানাসহ ট্রাফিক আইন মানতে মালিক ও চালকদের কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ৮০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে গাড়ি না চালানোর নির্দেশনা দিয়ে ইতিপূর্বেই সব গাড়িতে সার্কুলার জারি করা হয়েছে সমিতির পক্ষ থেকে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুনতাসিরুল ইসলাম (অতিরিক্ত ডিআইজি, হাইওয়ে পুলিশ), কফিল উদ্দিন আহমেদ (সভাপতি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৪৬টি (প্রথম দিনের মামলা), ৪২টি (দ্বিতীয় দিনের মামলা), ১ হাজার ৪২৭টি (এআই ক্যামেরা), ২৫০ কিলোমিটার (মহাসড়কের দৈর্ঘ্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!