📌 বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মৃত সন্তান অপসারণের ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে। রোগীর স্বজনদের অভিযোগের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিলেও ২৪ ঘণ্টা পার হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি
বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মৃত সন্তান অপসারণের ওষুধ খাওয়ানোর ঘটনা ঘটেছে। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, গাইনি বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. শাহরিয়ার হক সুমন ভুলবশত মৃত সন্তান অপসারণের ওষুধ সাইটোমিক ২০০ মিলিগ্রাম খাওয়ান। ঘটনার পর প্রায় ২৪ ঘণ্টা পার হলেও অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মৃত সন্তান অপসারণের ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে
- 📌 রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, গাইনি বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. শাহরিয়ার হক সুমন ভুল ওষুধ খাওয়ান
- 📌 ঘটনার পর প্রায় ২৪ ঘণ্টা পার হলেও অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি
- 📌 হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান মেলেনি
📰 বিস্তারিত
বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে গত ১৯ আগস্ট রাত ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নারী বমি ও শারীরিক দুর্বলতার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন। তার স্বামী মামুন হোসেন জানান, গাইনি চিকিৎসক ডা. রেহানা ফেরদৌসের পরামর্শে স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতে গাইনি বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. শাহরিয়ার হক সুমন নিয়মিত ভিজিটে এসে ব্যবস্থাপত্র লিখে দেন।
মামুন হোসেন বলেন, ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে খাওয়ানোর কিছুক্ষণ পর তার স্ত্রী অনুভব করেন তার পেট শক্ত হয়ে আসছে। বিষয়টি চিকিৎসককে অবহিত করলে জানানো হয় যে স্ত্রীকে মৃত সন্তান অপসারণের ওষুধ দেওয়া হয়েছে। ক্ষুব্ধ হয়ে রোগীর স্বজনরা তাৎক্ষণিকভাবে ভুল চিকিৎসার প্রতিবাদ জানান এবং অভিযুক্ত চিকিৎসক ও নার্সদের বিচারের দাবি জানান।
ভুক্তভোগীর স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর দায়িত্বরত চিকিৎসক কৌশলে চিকিৎসার কাগজপত্র সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করেন। এমনকি ভুল চিকিৎসা দেওয়া ডা. শাহরিয়ার হক সুমন হাসপাতাল থেকে চলে যান। ঘটনার পর ডা. শাহরিয়ারকে একাধিকবার কল করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. রেহানা ফেরদৌস জানান, ওই রোগীকে যে ওষুধ দেওয়া হয়েছে তা সাধারণত মৃত সন্তান অপসারণের জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে এই ওষুধে জীবিত সন্তানের ক্ষতি হয় না বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব ঠিক হয়ে যায়।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ময়ল কৃষ্ণ বড়াল জানান, ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকালে রোগীকে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়েছে। রিপোর্টে পেটের বাচ্চা ভালো আছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে রোগীর স্বজনরা বাইরে থেকে আরেকটি আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে চেয়েছেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও বরিশাল জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মুন্সী মুনিবুল হক জানান, বিষয়টি তিনি বৃহস্পতিবার বিকেলে শুনেছেন। তিনি আরও বলেন, যতটুকু জেনেছেন, রোগীকে সাইটোমিক ২০০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়েছে। এই ট্যাবলেট সাধারণত কিছু হয় না। তিনি জানান, আগামী শনিবার তিনি নিজে হাসপাতাল পরিদর্শন করে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নেবেন।
"এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে কারও অবহেলা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল, বরিশাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. শাহরিয়ার হক সুমন (গাইনি বিভাগের রেজিস্ট্রার), ডা. রেহানা ফেরদৌস (গাইনি বিশেষজ্ঞ), ডা. মুন্সী মুনিবুল হক (ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ ঘণ্টা, ২০০ মিলিগ্রাম
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!