📌 বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে গাছের শেকড় নিজের প্রজাতির মৃত বা পচা অংশের গন্ধ পেলে তা থেকে দূরে সরে যায়। এই কৌশলকে 'স্যাপ্রোট্রপিজম' বলা হয়। চীনের বিজ্ঞানী ইয়ুঝউ ঝাংয়ের নেতৃত্বে এই গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে
গাছের শেকড়ের অদ্ভুত কৌশল আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণা অনুসারে, গাছের শেকড় নিজের প্রজাতির মৃত বা পচা অংশের গন্ধ পেলে তা থেকে দূরে সরে যায়। বিজ্ঞানীরা এই কৌশলকে 'স্যাপ্রোট্রপিজম' নাম দিয়েছেন। এই আবিষ্কারটি বিজ্ঞানের ইতিহাসে নতুন একটি পাতা খুলেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাছের শেকড় নিজের প্রজাতির মৃত বা পচা অংশের গন্ধ পেলে তা থেকে দূরে সরে যায় — বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন এই 'স্যাপ্রোট্রপিজম' কৌশল
- 📌 চীনের নর্থওয়েস্ট এঅ্যান্ডএফ ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী ইয়ুঝউ ঝাংয়ের নেতৃত্বে এই গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে
- 📌 গাছের এই কৌশলটি অক্সিন হরমোনের পরিবর্তে 'অ্যাবসিসিক অ্যাসিড' হরমোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত
- 📌 পরীক্ষায় দেখা গেছে, টমেটো ও গমের চারাও এই কৌশল অবলম্বন করে
- 📌 পচা অংশের জীবাণু ও প্যাথোজেন গাছের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে
📰 বিস্তারিত
আমরা মনে করি গাছগুলো শান্তভাবে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গাছগুলো প্রতিনিয়ত নড়াচড়া করে। আলোর দিকে হেলে পড়া, মাধ্যাকর্ষণের টানে শেকড় মাটির গভীরে পাঠানো বা জলের খোঁজে শেকড় বাঁকানো — এই সবই গাছের স্বাভাবিক আচরণ। তবে বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি একটি নতুন কৌশল আবিষ্কার করেছেন, যা গাছের জীবনরক্ষাকারী হতে পারে। গাছের শেকড় নিজের প্রজাতির মৃত বা পচা অংশের গন্ধ পেলেই তা থেকে দূরে সরে যায়। বিজ্ঞানীরা এই কৌশলকে 'স্যাপ্রোট্রপিজম' বলেছেন।
চীনের নর্থওয়েস্ট এঅ্যান্ডএফ ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞানী ইয়ুঝউ ঝাংয়ের নেতৃত্বে এই গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে। তিনি অস্ট্রিয়ার একটি ল্যাবরেটরিতে গাছের শেকড়ের গতিপথ নিয়ে কাজ করছিলেন। একদিন পরীক্ষার অ্যাগার প্লেটে জীবাণু ঢুকে পচা ছত্রাক পড়ে যায়। বিজ্ঞানীরা যখন সেটি ডাস্টবিনে ফেলতে যাচ্ছিলেন, তখন তারা দেখলেন, প্রতিটি চারাগাছের শেকড় পচা অংশের দিকে না গিয়ে উল্টো দিকে বেঁকে গেছে। এই অদ্ভুত ঘটনাকে অনুসন্ধান করে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন যে, গাছের শেকড় নিজের প্রজাতির পচা অংশের গন্ধ পেলে তা থেকে দূরে সরে যায়।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, যে গাছগুলোর শেকড় পচা আপেলের পচনশীল এলাকার কাছে গিয়েছিল, সেগুলো অবিলম্বে নিজেদের শেকড়ের গতিপথ বদলে ফেলে পচা অংশ থেকে দূরে সরে গেছে। অন্যদিকে, পচা আপেল না থাকা পাত্রগুলোর শেকড় সোজা নিচের দিকে নেমে গেছে। বিজ্ঞানীরা টমেটো ও গমের চারা নিয়ে পরীক্ষা করেও একই ফলাফল পেয়েছেন। তবে, প্রাণীর পচা টিস্যু রাখলে গাছগুলো কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।
"গাছের এই স্যাপ্রোট্রপিজম কৌশলটি প্রচলিত বিজ্ঞানের নিয়মে মোটেও কাজ করে না। এটি গাছের চেনা কোনো পদ্ধতি নয়। এখানে অক্সিনের পরিবর্তে 'অ্যাবসিসিক অ্যাসিড' হরমোন কাজ করে।"
বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, পচা অংশ থেকে যে জীবাণু বা প্যাথোজেন ছড়ায়, তা গাছের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। আমরা যেমন পচা খাবারের দুর্গন্ধ পেলেই সেখান থেকে দূরে সরে যাই, গাছও নিজের প্রজাতির পচা অংশের রাসায়নিক সংকেত পেয়ে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে সেখান থেকে পালাতে শুরু করে। এই আবিষ্কার বিজ্ঞানের নতুন একটি দিক খুলেছে এবং গাছের জীবনরক্ষাকারী কৌশল সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান বৃদ্ধি করেছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: অস্ট্রিয়া (ল্যাবরেটরি), চীন (নর্থওয়েস্ট এঅ্যান্ডএফ ইউনিভার্সিটি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইয়ুঝউ ঝাং (বিজ্ঞানী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ (একটি গবেষণা পত্রিকায় প্রকাশিত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!