📌 সুফি সাধক খায়ের আন-নাসসাজের জীবনীতে বর্ণিত অলৌকিক ঘটনাগুলোতে মৃত্যুও তার কথায় থেমে যায়। ১২০ বছর বয়স পর্যন্ত জীবিত থাকা এই সাধকের জীবন ও অলৌকিক ঘটনাগুলো ফরিদ উদ্দিন আত্তারের তাজকিরাত আল-আউলিয়ায় বর্ণিত হয়েছে
১২০ বছর বয়স পর্যন্ত জীবিত থাকা সুফি সাধক খায়ের আন-নাসসাজের জীবন ও অলৌকিক ঘটনাগুলো মৃত্যুকে নিজের কথায় থামিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছিল। ফরিদ উদ্দিন আত্তারের রচিত তাজকিরাত আল-আউলিয়া গ্রন্থে এই সাধকের জীবনী বর্ণিত হয়েছে, যেখানে ৩৮টি পর্বে সুফিসাধকদের অলৌকিক ঘটনাগুলো সংকলিত। ব্রিটিশ প্রাচ্যবিদ এ জে আরবেরি এই গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ প্রকাশ করেন, যার নাম ছিল ‘মুসলিম সেইন্টস অ্যান্ড মিস্টিকস’।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **খায়ের আন-নাসসাজ** ছিলেন ইরাকের সামাররার প্রখ্যাত সুফি সাধক, যিনি ১২০ বছর বয়স পর্যন্ত জীবিত ছিলেন এবং ৩২২ হিজরিতে (৯২৪ খ্রিষ্টাব্দে) মৃত্যুবরণ করেন।
- 📌 **দাসত্ব থেকে মুক্তি** পাওয়ার কাহিনিতে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি নিজেও তো সেটাই খুঁজছি, যিনি আমাকে আমার প্রভুর কাছে ফিরিয়ে দেবেন’।
- 📌 **জুনায়েদ বাগদাদী** তাঁকে শ্রেষ্ঠ সাধক হিসেবে ঘোষণা করেন এবং বলেছিলেন, ‘আমাদের মধ্যে খায়েরই শ্রেষ্ঠ’।
- 📌 **অলৌকিক ঘটনা** হিসেবে বর্ণিত হয়েছে যে, খায়ের নদীর তীরে যেতে গেলে মাছেরা তাঁর কাছে এগিয়ে আসত এবং তাঁকে জিনিসপত্র এনে দিত।
- 📌 **ফরিদ উদ্দিন আত্তারের** তাজকিরাত আল-আউলিয়া গ্রন্থে এই সাধকের জীবনী বর্ণিত হয়েছে, যা ফারসি ভাষায় রচিত।
📰 বিস্তারিত
খায়ের আন-নাসসাজের জীবনীতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ইরাকের ঐতিহাসিক শহর সামাররার অধিবাসী ছিলেন। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল (খায়ের ইবনে আবদুল্লাহ) আল-নাসসাজ। তিনি ছিলেন সারি আল-সাকাতির শিষ্য এবং আল-জুনায়েদের ঘনিষ্ঠ পরিমণ্ডলের একজন সদস্য। একসময় তিনি দাস হিসেবে বসরায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীকালে মক্কায় গমন করেন।
খায়ের আন-নাসসাজের জীবনীতে বর্ণিত একটি অলৌকিক ঘটনা হলো, তিনি হজের উদ্দেশ্যে পথিমধ্যে কুফার ভেতর দিয়ে যাচ্ছিলেন। জোড়াতালি দেওয়া একটি জোব্বা গায়ে তিনি কুফার ফটকে উপস্থিত হলেন। একজন ব্যক্তি তাঁকে দেখে বললেন, ‘তুমি কি একজন দাস?’ খায়ের উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ’। লোকটি বলল, ‘তুমি কি তোমার মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আগপর্যন্ত আমি তোমার দায়িত্ব নেব?’ খায়ের বললেন, ‘আমি নিজেও তো সেটাই খুঁজছি, যিনি আমাকে আমার প্রভুর কাছে ফিরিয়ে দেবেন’। লোকটি তাঁকে নিজের গৃহে নিয়ে গেল এবং বয়নের কাজ শেখাল।
বছরের পর বছর তিনি ওই লোকের অধীনে কাজ করলেন। শেষ পর্যন্ত খায়েরের একনিষ্ঠতা ও নিখুঁত আচরণ দেখে লোকটি অনুতপ্ত হলো এবং বললেন, ‘তুমি আমার দাস নও। তুমি যেখানে ইচ্ছা, সেখানে যাও’। এরপর খায়ের মক্কার উদ্দেশে রওনা হলেন এবং সেখানে উচ্চ মর্যাদার বুজুর্গি অর্জন করলেন। জুনায়েদ বাগদাদী তাঁকে শ্রেষ্ঠ সাধক হিসেবে ঘোষণা করেন এবং বলেন, ‘আমাদের মধ্যে খায়েরই শ্রেষ্ঠ’।
"আমি নিজেও তো সেটাই খুঁজছি, যিনি আমাকে আমার প্রভুর কাছে ফিরিয়ে দেবেন"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইরাকের সামাররা, কুফা, মক্কা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: খায়ের আন-নাসসাজ, ফরিদ উদ্দিন আত্তার, এ জে আরবেরি, জুনায়েদ বাগদাদী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৮টি পর্ব, ১২০ বছর বয়স, ৩২২ হিজরি, ৯২৪ খ্রিষ্টাব্দ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!