📌 শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এইচএসসি পরীক্ষা মূল্যায়নে ভুলের জন্য পরীক্ষকদের শাস্তি ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ঘোষণা করেছেন। এসএসসি পরীক্ষায় ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর ফলাফল পরিবর্তিত হওয়ায় খাতা পুনর্নিরীক্ষণ ও দ্রুত ফলাফল প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এইচএসসি পরীক্ষা মূল্যায়নে ভুল ও দায়িত্বহীনতার জন্য সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, খাতা মূল্যায়নের দক্ষতায় ঘাটতি থাকলে পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়াও, ভুল মূল্যায়নের কারণে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত ফলাফল নিশ্চিত করতে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পাশাপাশি মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার দুর্বলতা চিহ্নিত করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 এইচএসসি পরীক্ষা মূল্যায়নে ভুলের জন্য পরীক্ষকদের শাস্তি ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রী
- 📌 এসএসসি পরীক্ষায় ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর ফলাফল পরিবর্তিত হয়েছে, যার মধ্যে ৫ হাজার শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছেন
- 📌 নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী
- 📌 এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ২ ডিসেম্বর নেওয়া হবে, ফলাফল ২৩ ডিসেম্বর প্রকাশ
- 📌 খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ৭ নভেম্বর পর্যন্ত নেওয়া হবে, ফলাফল ২৩ নভেম্বর প্রকাশ
- 📌 চীনের সহযোগিতায় কারিগরি শিক্ষা উন্নয়নে ৯টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে চীনা কারিকুলাম চালু হবে
- 📌 প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপনের কাজ আগামী বছর শুরু হবে
📰 বিস্তারিত
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ডেমরার সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, এইচএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে ভুল ও দায়িত্বহীনতার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও, খাতা মূল্যায়নের দক্ষতায় ঘাটতি থাকলে পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, এসএসসি পরীক্ষায় খাতা পুনর্নিরীক্ষণে বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া গেছে। প্রায় ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী। এই অভিজ্ঞতা থেকে খাতা মূল্যায়নের দুর্বলতা চিহ্নিত করা হচ্ছে।
এইচএসসিতে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা আগামী ২ ডিসেম্বর নেওয়া হবে। এই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে ২৩ ডিসেম্বর। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের পুরো এক বছর অপেক্ষা করতে না হয়, সে জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থা ভবিষ্যতে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও চালু করা হবে।
খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ৭ নভেম্বর পর্যন্ত নেওয়া হবে। পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশ করা হবে ২৩ নভেম্বর। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রমের সময় বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ফলাফল প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ভুল মূল্যায়ন নয়, প্রকৃত ফলাফল চান শিক্ষামন্ত্রী।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, এইচএসসি পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, খাতা পুনর্নিরীক্ষণে যাঁদের ফলাফল পরিবর্তন হয়ে পাস হবে, তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবেন। তবে পুনর্নিরীক্ষণের পরও যাঁরা অকৃতকার্য থাকবেন, তাঁরা ভর্তি হতে পারবেন না।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বই ইতিমধ্যে জেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বই ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পৌঁছে যাবে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে বাড়ি ফিরার দিনই নতুন বই তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, চীনের সহযোগিতায় দেশের কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে কাজ চলছে। ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ আট বিভাগে আটটি এবং কক্সবাজারে একটিসহ মোট নয়টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে চীনা কারিকুলাম, ল্যাব, শিক্ষক ও ভাষাশিক্ষা চালু করা হবে। এছাড়াও, দেশের প্রায় ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ভাষাশিক্ষা চালু হয়েছে। আগামী বছর থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্মার্ট ক্লাসরুম ও ল্যাব স্থাপনের কাজ শুরু হবে। শিক্ষকদের জন্য ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি নেওয়া হবে, যা সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে।
"পরীক্ষার ফলাফলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিক্ষার মান জানা জরুরি। প্রকৃত ফলাফল জানা গেলে শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (ডেমরা), কক্সবাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৫ হাজার (ফলাফল পরিবর্তিত শিক্ষার্থী), ৫ হাজার (ফেল থেকে পাস), ৩ হাজার ৭৯ জন (জিপিএ-৫ পেয়েছেন), ২ ডিসেম্বর (পরীক্ষা তারিখ), ২৩ ডিসেম্বর (ফলাফল প্রকাশ), ৭ নভেম্বর (পুনর্নিরীক্ষণ আবেদন শেষ), ২৩ নভেম্বর (পুনর্নিরীক্ষণ ফলাফল), ৩০ নভেম্বর (মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বই পৌঁছানো), ৫০টি (বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ভাষা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!