📌 ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা পরবর্তী প্রথম দিনে ঢাকায় মাছ-ডিমের দাম কমার প্রতিবেদন থেকে শুরু করে, বাংলাদেশে দাম বাড়ার চাপ ৫৫ বছরে কখনো কমেনি। অর্থমন্ত্রীদের বাজেট বক্তৃতায় মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ই সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়ায়
১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে দাম বাড়ার চাপ একটি নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাধীনতার প্রথম দিনে দৈনিক বাংলা প্রকাশিত প্রতিবেদনে ঢাকায় মাছ, ডিম ও শাকসবজির দাম কমার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু মাত্র ২২ দিন পরেই ১৯৭২ সালের ১৯ জানুয়ারি একই পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে দ্রব্যমূল্য বাড়ার কথা তুলে ধরা হয়। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘কোনো কোনো জিনিসের দাম ইতিমধ্যেই আকাশচুম্বী হয়ে জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবার উপক্রম হয়েছে’। সেই থেকে ৫৫ বছরে বাংলাদেশে দাম বাড়ার গতি কখনো কমেনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৭১ সালের ২৭ ডিসেম্বর দৈনিক বাংলা প্রকাশ করে ঢাকায় মাছ, ডিম ও শাকসবজির দাম কমার খবর, কিন্তু মাত্র ২২ দিন পরেই ১৯৭২ সালের ১৯ জানুয়ারি দ্রব্যমূল্য বাড়ার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়
- 📌 ১৯৭২ সালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কেরোসিনের দাম সাড়ে ছ টাকা থেকে ২৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, আর চাল, ডাল, সরিষার তেল, সাবান, শিশুখাদ্য ইত্যাদির দাম দ্বিগুণ বা তিনগুণ বেড়েছে
- 📌 অর্থমন্ত্রীদের বাজেট বক্তৃতায় মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ই সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়, কিন্তু সাফল্যের কথা কম, ব্যর্থতার কথাই বেশি
- 📌 বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, কিন্তু আয় পাল্লা দিতে পারেনি ব্যয়ের সঙ্গে, ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে
- 📌 বিশ্বের বিভিন্ন দেশে (জার্মানি, জিম্বাবুয়ে, ভেনেজুয়েলা) হাইপার-ইনফ্লেশন দেখা গেছে, যেখানে মাসিক মূল্যস্ফীতি ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছে
- 📌 ২০১১ সালের গবেষণায় দেখা যায়, খাদ্যমূল্য বাড়লে নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয় এবং বিক্ষোভের ঝুঁকি বাড়ে
📰 বিস্তারিত
স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে দাম বাড়ার চাপ একটি স্থায়ী সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৭১ সালের ২৭ ডিসেম্বর দৈনিক বাংলা প্রকাশ করে ঢাকায় মাছ, ডিম ও শাকসবজির দাম কমার খবর। কিন্তু মাত্র ২২ দিন পরেই ১৯৭২ সালের ১৯ জানুয়ারি একই পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে দ্রব্যমূল্য বাড়ার কথা উল্লেখ করা হয়। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আজকাল জনজীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে’। কেরোসিনের দাম সাড়ে ছ টাকা থেকে ২৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, আর চাল, ডাল, সরিষার তেল, সাবান, শিশুখাদ্য, সিগারেট, দেশলাই, ব্লেড ইত্যাদির দাম দ্বিগুণ বা তিনগুণ বেড়েছে।
৫৫ বছরের এই সময়ে অর্থমন্ত্রীদের বাজেট বক্তৃতায় মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ই সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতিকে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়, কারণ এটি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান হ্রাস করে। বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, কিন্তু আয় পাল্লা দিতে পারেনি ব্যয়ের সঙ্গে। ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এ দেশের সাধারণ মানুষের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাইপার-ইনফ্লেশন দেখা গেছে, যেখানে মাসিক মূল্যস্ফীতি ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছে। যেমন, জার্মানিতে ১৯২৩ সালের অক্টোবরে মাসিক মূল্যস্ফীতি ছিল প্রায় ২৯ হাজার ৫০০ শতাংশ। জিম্বাবুয়েতে ২০০৮ সালের নভেম্বরে তা ছিল ৭ হাজার ৯৬০ কোটি শতাংশ। ভেনেজুয়েলায় ২০১৮ সালে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ছিল প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার শতাংশ। এই ধরনের উচ্চ মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তোলে এবং রাষ্ট্রীয় অস্থিরতা সৃষ্টি করে।
২০১১ সালের গবেষণায় দেখা যায়, খাদ্যমূল্য বাড়লে নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয় এবং বিক্ষোভ, দাঙ্গা ও সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ে। কেননা, খাবারের দাম বাড়লে দরিদ্র মানুষের জীবন কঠিন হয়, যা অন্য ক্ষোভের সঙ্গে মিলে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। এই সমস্যা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়।
"কোনো কোনো জিনিসের দাম ইতিমধ্যেই আকাশচুম্বী হয়ে জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবার উপক্রম হয়েছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা সরবরাহের অজুহাত দেখিয়ে থাকেন। কিন্তু সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি থাকলেই যে সাড়ে ছ টাকার কেরোসিন তেল চব্বিশ টাকা বিক্রি করতে হবে তার পেছনে অতি মুনাফার লোভ ছাড়া অন্য কোন ন্যায়সঙ্গত যুক্তি নেই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অর্থমন্ত্রীরা, ব্যবসায়ীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭ (ডিসেম্বর), ২২ (দিন), ১৯ (জানুয়ারি), ৫৫ (বছর), ৫০ (শতাংশ), ২৯ হাজার ৫০০ (শতাংশ), ৭ হাজার ৯৬০ কোটি (শতাংশ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!