📌 পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা তহবিল পাওয়ার সম্ভাবনা কমে গেছে। সৌদি আরবের ৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণ নবায়ন প্রস্তাবিত হয়েছে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২১.৫ বিলিয়ন ডলারের উপরে উন্নীত হয়েছে
পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তা তহবিল পাওয়ার সম্ভাবনা কমে গেছে। সৌদি আরবের ৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণ নবায়ন প্রস্তাবিত হয়েছে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব জানান, সৌদি আরব গত এপ্রিলে দেওয়া ৩ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন সুবিধার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা তহবিল পাওয়ার সম্ভাবনা কমে গেছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব।
- 📌 সৌদি আরবের ৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণ নবায়ন প্রস্তাবিত হয়েছে, যা আগে ৩১ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা ছিল।
- 📌 পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২১.৫ বিলিয়ন ডলারের উপরে উন্নীত হয়েছে।
- 📌 অর্থমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্কের কারণে ঋণ নবায়নের বিষয়ে উদ্বেগ নেই।
- 📌 পাকিস্তান ইউরোবন্ড ও পাণ্ডা বন্ড ইস্যু করার পরিকল্পনা করেছে।
- 📌 আইএমএফের নির্বাহী পর্ষদ আগামী ডিসেম্বরে পাকিস্তানের ১.২ বিলিয়ন ডলার ঋণ ছাড়ের অনুমোদন নিয়ে বৈঠক করবে।
📰 বিস্তারিত
পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব গত বুধবার পার্লামেন্ট ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের কৌশলগত সম্পর্কের কারণে ঋণ নবায়নের বিষয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। তিনি জানান, সৌদি আরবের অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জাদানের সঙ্গে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বৈঠকের ফাঁকে আলোচনা হয়েছিল।
মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব বলেন, ‘সৌদি আরব গত এপ্রিলে পাকিস্তানকে দেওয়া ৩ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন সুবিধার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ পরিশোধের কারণে সৃষ্ট অর্থের ঘাটতি মোকাবিলায় ওই অর্থায়ন নেওয়া হয়েছিল।’ তিনি আরও জানান, সৌদি আরব পাকিস্তানকে দেওয়া ৫ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন সুবিধার মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাড়িয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বিলিয়ন ডলারের ‘এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন সাপোর্ট ফ্যাসিলিটি’ (ইএসএসএফ) পাওয়ার সম্ভাবনা কমে গেছে। তিনি জানান, ‘জুলাইয়ে আমরা যে সহায়তা চেয়েছিলাম, তা ছিল আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার। আমরা সেই প্রবেশাধিকার পেয়েছি।’ তিনি উল্লেখ করেন, গত সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের ইস্যু করা ৩ বিলিয়ন ডলারের বন্ডের বিপরীতে ৬ বিলিয়ন ডলারের ক্রয়াদেশ পাওয়া গিয়েছিল।
আওরঙ্গজেব বলেন, ‘ইএসএসএফ বাস্তবায়িত হলে তা তারল্য সহায়তা তহবিল হিসেবে কাজ করবে। তবে তা না হলেও আমাদের বিকল্প পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা আরও ইউরোবন্ড ও পাণ্ডা বন্ড ইস্যু করব। পাশাপাশি রুপিভিত্তিক ডলার-পরিশোধযোগ্য বন্ড ছাড়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।’ তিনি জানান, ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ৭০ থেকে ৮০টি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা স্পষ্টতই আইএমএফের কর্মসূচির পরবর্তী সময়ের কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা করছি। পাকিস্তানে মার্কিন বিনিয়োগকারী ও রপ্তানিকারকদের সহায়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক (এক্সিম ব্যাংক) এবং ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশনের (ডিএফসি) ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।’
‘এটি প্রকৃত অর্থায়ন এবং প্রকৃত ঋণ সহায়তা।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পাকিস্তান, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, ব্যাংকক (বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ বৈঠক)
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব (পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী), মোহাম্মদ আল-জাদান (সৌদি আরবের অর্থমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ বিলিয়ন ডলার (সৌদি ঋণ নবায়ন), ১০ বিলিয়ন ডলার (যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তা), ২১.৫ বিলিয়ন ডলার (বৈদেশিক রিজার্ভ), ৩.৫ বিলিয়ন ডলার (সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঋণ), ১.২ বিলিয়ন ডলার (আইএমএফের ঋণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!