📌 ত্রয়োদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশন ৯ দিনে শেষ হলেও উত্তাপ ও অচলাবস্থায় ভরা ছিল। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হন। বিরোধী দলের সাথে সরকারের মেরুকরণের কারণে প্রধান ইস্যু আলোচনা সম্ভব হচ্ছে না
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন ৯ কার্যদিবসে শেষ হলেও উত্তাপ ও অচলাবস্থায় ভরা ছিল। এই অধিবেশনে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে প্রতিটি কার্যদিবসে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়, যার ফলে একাধিকবার সংসদে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। এমনকি একমাত্র স্বতন্ত্র নারী সংসদ সদস্যকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত আপত্তিকর কটূক্তির ঘটনাও ঘটে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৯ কার্যদিবসে শেষ হল তৃতীয় অধিবেশন, কিন্তু উত্তাপ ও অচলাবস্থায় ভরা ছিল।
- 📌 স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য নিয়ে বিরোধী দলের সদস্যদের সাথে উত্তেজনাপূর্ণ বিতর্কে ১০ মিনিট সংসদ কার্যক্রম বন্ধ হয়।
- 📌 বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘সাংসদীয় ফ্যাসিবাদ’ অভিযোগ তুলেন।
- 📌 ৫০টি স্থায়ী কমিটির মধ্যে বিরোধী দল মাত্র ১টি সভাপতির পদ পায়।
- 📌 গবেষক অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান মেরুকরণের কারণে ভবিষ্যত অধিবেশনে প্রধান ইস্যু আলোচনা সম্ভব হবেনা বলে আশঙ্কা করেন।
- 📌 সাবেক আইজি বেনজীর আহমদকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও সংসদে আলোচনা হয়।
📰 বিস্তারিত
সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার অধীনে ২৭ আগস্ট শুরু হওয়া এই অধিবেশন ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়। চার দিনের সাপ্তাহিক ছুটি ও দুই দিনের বিরতি মিলিয়ে মোট ৯ কার্যদিবস চলে। অধিবেশনে ছয়টি বিল পাস হয়। তবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, সার সরবরাহ ব্যবস্থাপনা এবং বিদেশে পলাতক পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমদকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সংসদে আলোচনা হয়।
অধিবেশনের প্রথম দিনই উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বিরোধী দলের সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ শাহবাগ স্কয়ার ও পল্টনের বক্তৃতার সঙ্গে তুলনা করেন। বিরোধী দলের সদস্যরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পিকারের কাছে আশ্রয় চান এবং বক্তব্য প্রত্যাহার করলেও পরিস্থিতি শান্ত না হওয়ায় প্রায় ১০ মিনিট সংসদের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘সাংসদীয় ফ্যাসিবাদ’ অভিযোগ তুলেন।
দ্বিতীয় কার্যদিবসে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল উত্থাপনের প্রতিবাদে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে। তারা অভিযোগ করেন, সরকার সংস্কারের নামে সংসদকে একতরফাভাবে পরিচালনা করছে। বিল দুটি পাসের দিনও এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির বৈঠক থেকেও তারা ওয়াকআউট করেন। পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল নিয়ে বিরোধী দলের তীব্র আপত্তি ছিল। তারা বিলটিকে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আখ্যা দেন এবং সংসদকক্ষ ত্যাগ করেন। পরে ফিরে এসে সংশোধনী আলোচনায় অংশ নেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘একে অন্যকে কথা বলার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার প্রচেষ্টা সংসদের জন্য কোনো ভালো লক্ষণ নয়। আমি সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত।’ সংসদবিষয়ক গবেষক অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান বলেন, ‘এই অধিবেশনে দুই পক্ষের মধ্যে মেরুকরণ দেখা গেছে, যা সাংসদীয় রাজনীতির জন্য খুব বেশি সংগতিপূর্ণ নয়। ভবিষ্যত অধিবেশনে প্রধান ইস্যু আলোচনা সম্ভব হবেনা বলে আশঙ্কা করছি।’
স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বিতর্ক হয়। বিরোধী দলের দাবি, মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির ২৬ শতাংশ সভাপতির পদ তাদেরকে দিতে হবে। সরকারের জবাব, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়টি সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে বিরোধী দল সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যোগ দিলে তাদের অধিকার পূরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলকে কোনো মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতির পদ না দিয়েই ৩৯টি কমিটি গঠন করে সরকারি দল। সংসদ-সম্পর্কিত ১১টি বিষয়ভিত্তিক কমিটিও গঠন করা হয়। এর মধ্যে বিরোধী দলের হাতে রয়েছে মাত্র একটি কমিটির সভাপতির পদ, যা আগের অধিবেশনেই গঠিত হয়েছিল। অর্থাৎ ৫০টি সাংসদীয় কমিটির মধ্যে বিরোধী দল সভাপতির পদ পেয়েছে মাত্র একটিতে।
"যেভাবে একে অন্যকে কথা বলার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার প্রচেষ্টা লক্ষ করেছি, তা সংসদের জন্য কোনো ভালো লক্ষণ নয়। আমি কিন্তু সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত।"
"এই অধিবেশনে দুই পক্ষের মধ্যে একটা মেরুকরণ দেখতে পেয়েছি, যা সাংসদীয় রাজনীতির জন্য খুব বেশি সংগতিপূর্ণ নয়। ভবিষ্যত অধিবেশনে প্রধান ইস্যু আলোচনা সম্ভব হবেনা বলে আশঙ্কা করছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, জাতীয় সংসদ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হাফিজ উদ্দিন আহমদ (স্পিকার), সালাহউদ্দিন আহমদ (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী), শফিকুর রহমান, আল মাসুদ হাসানুজ্জামান, বেনজীর আহমদ (সাবেক আইজি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯ কার্যদিবস, ২৭ আগস্ট (শুরু), ১০ সেপ্টেম্বর (শেষ), ১০ মিনিট (অচলাবস্থা), ৫০টি কমিটি, ৩৯টি কমিটি (গঠিত), ১টি কমিটি (বিরোধী দলের সভাপতি পদ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!