📌 হাদিসে বর্ণিত চারটি ঘটনা আল্লাহর নাম নেওয়ার গুরুত্ব ও বরকত তুলে ধরে। খাবার খাওয়ার সময় বিসমিল্লাহ না বললে শয়তান ক্ষতি করে, ঘর বের হওয়ার সময় নির্দিষ্ট দোয়া পড়লে ফেরেশতারা সুরক্ষা দেন এবং দাম্পত্য মিলনেও আল্লাহর আশ্রয় চাওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে
হাদিসে বর্ণিত চারটি ঘটনা আল্লাহর নাম নেওয়ার (বিসমিল্লাহ) গুরুত্ব ও বরকতকে স্পষ্ট করে তুলেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন ও শিক্ষা থেকে জানা যায়, দৈনন্দিন জীবনের বৈধ কাজগুলো আল্লাহর নামে শুরু করা মুমিনদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব ঘটনা শেখায় যে, শয়তানের ক্ষতি থেকে সুরক্ষা পাওয়ার পথ হলো আল্লাহর নামে কাজ শুরু করা এবং তাঁর ওপর নির্ভরতা প্রকাশ করা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 খাবার খাওয়ার সময় বিসমিল্লাহ না বললে শয়তান ক্ষতি করে: এক ব্যক্তি খাবার খাওয়ার সময় বিসমিল্লাহ বলেননি, শেষে বললেন ‘বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু’—তখন শয়তান তার পেট থেকে সব বমি করে দিল।
- 📌 বেদুইনের খাবার চুরি: নবীজির সঙ্গে ছয় সাহাবি খাবার খাচ্ছিলেন, এক বেদুইন দুই লোকমায় সব খেয়ে ফেললেন—রাসুল (সা.) বললেন, ‘বিসমিল্লাহ বলতেন তাহলে খাবার সবার জন্য যথেষ্ট হতো’।
- 📌 ঘর বের হওয়ার সময়ের দোয়া: ‘বিসমিল্লাহি, তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহি’ পড়লে ফেরেশতারা সুরক্ষা দেন এবং শয়তান দূরে সরে যায়।
- 📌 দাম্পত্য মিলনে শয়তানের ক্ষতি থেকে সুরক্ষা: ‘বিসমিল্লাহি, আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শাইতানা’ পড়লে সন্তান শয়তানের ক্ষতি থেকে রক্ষিত হয়।
📰 বিস্তারিত
রাসুলুল্লাহ (সা.) দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজে বিসমিল্লাহ বলার শিক্ষা দিয়েছেন। হাদিসে বর্ণিত চারটি ঘটনা এ শিক্ষার প্রমাণ। প্রথম ঘটনায়, এক ব্যক্তি খাবার খাওয়ার সময় বিসমিল্লাহ বলেননি। শেষে তিনি বললেন, ‘বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু’—এই দোয়া শুনে রাসুল (সা.) হেসে বললেন, ‘শয়তানও তার সঙ্গে খাবার খাচ্ছিল। বিসমিল্লাহ বলার পর শয়তান তার পেট থেকে সব বমি করে দিয়েছে’। এ ঘটনাটি প্রমাণ করে, খাবার খাওয়ার সময় বিসমিল্লাহ না বললে শয়তান ক্ষতি করতে পারে।
দ্বিতীয় ঘটনায়, নবীজির সঙ্গে ছয় সাহাবি খাবার খাচ্ছিলেন। এমন সময় এক বেদুইন এসে খাবারে অংশ নিলেন এবং দুই লোকমায় সব খেয়ে ফেললেন। রাসুল (সা.) বললেন, ‘সে যদি বিসমিল্লাহ বলত, তাহলে খাবার তোমাদের সবার জন্য যথেষ্ট হতো’। এ ঘটনাটি বিসমিল্লাহ বলার বরকত এবং তা বাদ দেওয়ার প্রভাব তুলে ধরেছে।
তৃতীয় ঘটনায়, ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বিসমিল্লাহ বলার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘বিসমিল্লাহি, তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহি, লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ পড়লে ফেরেশতারা সুরক্ষা দেন এবং শয়তান দূরে সরে যায়। এ দোয়ায় আল্লাহর নামে বের হওয়ার পাশাপাশি তাঁর ওপর নির্ভরতার ঘোষণা রয়েছে।
চতুর্থ ঘটনায়, দাম্পত্য মিলনে শয়তানের ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘বিসমিল্লাহি, আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শাইতানা’ পড়লে সন্তান শয়তানের ক্ষতি থেকে রক্ষিত হয়। তবে এতে সন্তান কখনো অসুস্থ হবে না বা বিপদে পড়বে না—এই নয়, বরং আল্লাহর আশ্রয় চাওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
"বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (লেখক ফয়জুল্লাহ রিয়াদের উল্লেখিত জামিয়া আরাবিয়া দারুস সুন্নাহ রাজাবাড়ী)
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: রাসুলুল্লাহ (সা.), ওমর ইবনে আবু সালামা (রা.), ইবনে আব্বাস (রা.), শয়তান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪টি ঘটনা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!