📌 শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় গারো পাহাড়ের পাদদেশে শুরু হয়েছে ফাতেমা রানীর ২৯তম তীর্থোৎসব। দেশ-বিদেশের প্রায় ৫০ হাজার পুণ্যার্থী মোমবাতি হাতে পাহাড়ি পথে শোভাযাত্রায় অংশ নিচ্ছেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জড়িত ৪০০-এর বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড়ের পাদদেশে ভারত সীমান্ত ঘেঁষা বারোমারী সাধু লিওর ধর্মপল্লিতে শুরু হয়েছে ফাতেমা রানীর তীর্থোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। মোমবাতির আলোয় আলোকিত পাহাড়ি পথে হাজারো পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটেছে। এই বার্ষিক ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ২৯তম আয়োজনে ‘মানবতার জননী: ফাতেমা রানী মা মারিয়া’ প্রতিপাদ্য নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল চারটায় পবিত্র খ্রিষ্টযাগ অনুষ্ঠিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫০ হাজার পুণ্যার্থী দেশ-বিদেশ থেকে গারো পাহাড়ে সমবেত হয়েছে ফাতেমা রানীর তীর্থোৎসবে।
- 📌 ২৯তম বার এই তীর্থোৎসবের প্রতিপাদ্য ‘মানবতার জননী: ফাতেমা রানী মা মারিয়া’।
- 📌 দুই দিনব্যাপী উৎসবের প্রথম দিন রাত ১১টায় নিরাময় অনুষ্ঠান ও নিশি জাগরণ অনুষ্ঠিত হয়।
- 📌 ৪০০-এর বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।
- 📌 ১৯৪২ সালে প্রতিষ্ঠিত ধর্মপল্লিটি ১৯৯৮ সাল থেকে বার্ষিক তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত।
📰 বিস্তারিত
গতকাল রাত ৯টায় মোমবাতি প্রজ্বালন করে শুরু হয় আলোক শোভাযাত্রা। প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ পাহাড়ি পথে হাজারো পুণ্যার্থী মোমবাতি হাতে এগিয়ে চলেছেন। তাদের অধিকাংশের হাতে জ্বলছে মোমবাতি। কেউ পাপ স্বীকার করে মুক্তি লাভের আশায় এসেছেন, কেউ প্রিয়জনের রোগমুক্তি কামনা করছেন, আর কেউ পরিবার, দেশ ও জাতির কল্যাণে প্রার্থনা করছেন। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মের মানুষের উপস্থিতিতে তীর্থস্থানটি পরিণত হয়েছে সম্প্রীতির মিলনমেলায়।
উৎসবের প্রথম দিন রাত ১১টায় অনুষ্ঠিত হয় আরাধ্য সাক্রামেন্টের আরাধনা। এরপর মধ্যরাতে নিরাময় অনুষ্ঠান ও নিশি জাগরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় প্রথম দিনের ধর্মীয় কার্যক্রম। আজ শুক্রবার সকাল আটটায় জীবন্ত ক্রুশের পথ এবং সকাল ১০টায় মহাখ্রিষ্টযাগের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই দুই দিনব্যাপী আয়োজন।
বারোমারী খ্রিষ্টান মিশনের ফাদার তরুণ বনোয়ারী বলেছেন, ‘মানুষ মা মারিয়ার কাছে পাপ স্বীকার করতে এবং নিজের পরিবার, দেশ ও জাতির কল্যাণে প্রার্থনা করতে আসেন। অন্য বছরের তুলনায় এবার ভক্তদের সমাগম বেশি হয়েছে।’
"তীর্থে আসা ভক্তরা মোমবাতি জ্বালিয়ে পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ পাড়ি দেন। সবাই নিজের পাপ স্বীকার করে মুক্তির আশায় প্রার্থনা করেন। ধর্মীয় নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তীর্থের গাম্ভীর্য ফুটে ওঠে।"
শেরপুর জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন জানান, ‘তীর্থোৎসব সুন্দরভাবে আয়োজনের জন্য এক সপ্তাহ ধরে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এলাকাটিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়েছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শেরপুর জেলা, নালিতাবাড়ী উপজেলা, গারো পাহাড়ের পাদদেশ, বারোমারী সাধু লিওর ধর্মপল্লি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফাদার তরুণ বনোয়ারী, ফরিদা ইয়াসমিন (জেলা প্রশাসক), ক্লোডিয়া নকরেক (পুণ্যার্থী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ হাজার পুণ্যার্থী, ২৯তম বার, ৪০০ সদস্য নিরাপত্তা বাহিনী, ৪২ একর জমি, ২ দিনব্যাপী উৎসব
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!