📌 ইরান প্রথমবারের মতো 'ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল' প্রযুক্তি চালিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে মার্কিন নৌযান ও জর্ডানের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড নিশ্চিত করেছে, কিন্তু পেন্টাগন জানিয়েছে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ধ্বংস হয়। হরমুজ প্রণালি ও সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার অতিক্রম করেছে
ইরান প্রথমবারের মতো উন্নত ‘ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল’ প্রযুক্তি চালিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে মার্কিন নৌযান ও জর্ডানের সামরিক ঘাঁটিতে জোড়ালো হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি ও জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলা পরিচালিত হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) হামলার খবর নিশ্চিত করেছে, তবে পেন্টাগন জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ধ্বংস করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইরান প্রথমবারের মতো ‘ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল সিকার’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে মার্কিন নৌযান ও জর্ডানের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায় — জিপিএস ছাড়াই ক্যামেরা ও লাইট সেন্সর ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে আঘাত হানতে সক্ষম এই প্রযুক্তি।
- 📌 হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থানরত অন্তত ১০টি মার্কিন রণতরী এবং জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে আইআরজিসি একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে।
- 📌 হামলায় ৯টি মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের নতুন সচিব মহসেন রেজাই জানান, নতুন ‘বিশেষ ডেস্ট্রয়ার-বিরোধী’ ক্ষেপণাস্ত্রের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে এই হামলায়।
- 📌 খার্গ দ্বীপের তেল হাবের কাছে পাঁচটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইআরজিসি সতর্ক করে দেয়, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থানরত সামুদ্রিক ট্যাংকার ও ঘাঁটিতেও সম্ভাব্য হামলা হতে পারে।
- 📌 বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহিত বিশ্ববাজারের ২০ শতাংশ তেলের কারণে জুলাই মাসের পর প্রথমবারের মতো ব্যারেল প্রতি ১০০ মার্কিন ডলারের বেশি হয়েছে তেলের দাম।
- 📌 মার্কিন ও ইরানের মধ্যকার সরাসরি সামরিক পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলকে বৃহৎ আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ইরান ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
ইরানের ইসলামি রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালি ও জর্ডানের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে নতুন প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের জবাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। লন্ডনভিত্তিক দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলায় ইরান প্রথমবারের মতো তাদের উন্নত ‘ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল সিকার’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র জিপিএস সংযোগ ছাড়াই কেবল ক্যামেরা ও বিশেষ লাইট সেন্সর ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও আঘাত হানতে সক্ষম, যা জ্যামিং ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা কঠিন।
ইরানের সরকারের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, খার্গ দ্বীপের তেল হাবের কাছে পাঁচটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, ইরানি তেল ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী পদক্ষেপের জবাবে এবং আত্মরক্ষার অধিকার হিসেবে জর্ডানের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও নৌযান লক্ষ্য করে এই আক্রমণ পরিচালনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইআরজিসি সতর্ক করে দেয়, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থানরত সামুদ্রিক ট্যাংকার ও ঘাঁটিতেও সম্ভাব্য হামলা হতে পারে।
বিশ্ববাজারে ব্যবহৃত অপরিশোধিত খনিজ তেলের ২০ শতাংশ পরিবহন হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। হামলা ও নিরাপত্তার আশঙ্কায় গত জুলাই মাসের পর প্রথমবারের মতো বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সরাসরি সামরিক পাল্টাপাল্টি হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলকে একটি বৃহৎ আকারের আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
"মার্কিন নৌযান ও জর্ডানের সামরিক ঘাঁটিতে ছোড়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ধ্বংস করা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হরমুজ প্রণালি, জর্ডান (মার্কিন সামরিক ঘাঁটি), খার্গ দ্বীপ (তেল হাব), বাহরাইন ও কুয়েত (সামুদ্রিক ট্যাংকার ও ঘাঁটি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মহসেন রেজাই (ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব), মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড কর্মকর্তা, পেন্টাগন কর্মকর্তা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০টি মার্কিন রণতরী, ৯টি ক্ষতিগ্রস্ত যুদ্ধবিমান, ২০ শতাংশ বিশ্ববাজারের তেল, ব্যারেল প্রতি ১০০ মার্কিন ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!