📌 ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) কর্তৃক প্রতি বাসায় মাসে ১০০ টাকার বিল নির্ধারণ করা হলেও বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দারা অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন এবং নিয়মিত ময়লা সংগ্রহও হচ্ছে না। স্থানীয় কর্মকর্তাদের গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) কর্তৃক প্রতি বাসায় মাসে ১০০ টাকার বিল নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে বাসিন্দারা অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন এবং ময়লা সংগ্রহ অনিয়মিতভাবে চলছে। ধানমন্ডির বাসিন্দা লামিয়া আক্তার জানান, তাঁর বাসায় প্রতি মাসে ১২০ টাকার রসিদ আসে, কিন্তু অতিরিক্ত ৫০ টাকা হাতে নেওয়া হয়। একই এলাকার আরেকজন বাসিন্দা বলেন, তাঁদের বাসায় প্রতি মাসে ১৬০ টাকা করে নেওয়া হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ধানমন্ডি এলাকার বাসিন্দা লামিয়া আক্তারের বাসায় প্রতি মাসে ১২০ টাকার রসিদ আসে, কিন্তু অতিরিক্ত ৫০ টাকা হাতে নেওয়া হয়
- 📌 যাত্রাবাড়ীর মীর হাজীরবাগ এলাকায় প্রতি মাসে ২০০ টাকা বিল দিতে হয়, কিন্তু ময়লা সংগ্রহ অনিয়মিতভাবে চলছে
- 📌 ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ ১০০ টাকার বেশি বিল আদায়ের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়েছেন, কিন্তু অনিয়ম বন্ধ হয়নি
- 📌 আঞ্চলিক কর্মকর্তারা সাত দিন অন্তর প্রতিবেদন জমা দিতে বাধ্য হলেও তা নিয়মিত হচ্ছে না
- 📌 ময়লা সংগ্রহের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে
📰 বিস্তারিত
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) কর্তৃক প্রতি বাসায় মাসে ১০০ টাকার বিল নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে বাসিন্দারা অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন এবং ময়লা সংগ্রহ অনিয়মিতভাবে চলছে। ধানমন্ডির বাসিন্দা লামিয়া আক্তার জানান, তাঁর বাসায় প্রতি মাসে ১২০ টাকার রসিদ আসে, কিন্তু অতিরিক্ত ৫০ টাকা হাতে নেওয়া হয়। একই এলাকার আরেকজন বাসিন্দা বলেন, তাঁদের বাসায় প্রতি মাসে ১৬০ টাকা করে নেওয়া হয়।
যাত্রাবাড়ীর মীর হাজীরবাগ এলাকায় বাসিন্দা আরভীন সোনিয়া জানান, তাঁদের এলাকায় প্রতি মাসে ২০০ টাকা করে বিল দিতে হয়, কিন্তু প্রতিদিন ময়লা নেওয়া হয় না। দু-তিন মাস ধরে কর্মীরা দুই বা তিন দিন পরপর ময়লা সংগ্রহ করতে আসছেন।
ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানান, ১০০ টাকার বেশি বিল আদায়ের সুযোগ নেই। নির্ধারিত টাকার বেশি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বাস্তবে এই নিয়ম মানা হচ্ছে না।
গত মে মাসে প্রথম আলোতে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের কষ্টের কাজটি করেন নিম্ন আয়ের কর্মীরা, কিন্তু আদায় করা টাকার বড় অংশ তাদের হাতে যায় না, যায় নিয়ন্ত্রণকারীদের পকেটে। এই খাতের নিয়ন্ত্রণকারীরা রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ও স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী।
গত ৪ জুন ডিএসসিসির সচিবের সই করা এক অফিস আদেশে ১০টি অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের (পিসিএসপি) কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। আদেশে বলা হয়েছিল, পিসিএসপিগুলো প্রতিদিন বর্জ্য সংগ্রহ করছে কি না, বাসাবাড়ি থেকে ১০০ টাকার বেশি ফি নেওয়া হচ্ছে কি না, সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে (এসটিএস) কার্যক্রম ঠিকভাবে হচ্ছে কি না—এসব বিষয় তদারকি করতে হবে। সার্বিক বিষয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বরাবর সাত দিন পরপর প্রতিবেদন দিতে হবে।
তবে তিন মাস পরও এই আদেশের প্রভাব মাঠপর্যায়ে তেমন দেখা যাচ্ছে না। ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের সাত দিন অন্তর প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও তা নিয়মিত জমা পড়ছে না। ফলে কোন ওয়ার্ডে কত টাকা নেওয়া হচ্ছে, কোথায় নিয়মিত ময়লা সংগ্রহ হচ্ছে না, কোন ওয়ার্ডে কোন প্রতিষ্ঠান শর্ত ভাঙছে—এসব বিষয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি হয়নি।
ধানমন্ডি এলাকা ডিএসসিসির অঞ্চল-১-এর আওতায়। এ অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মুহা. মাছুম বিল্লাহ জানান, তিনি নতুন যোগ দিয়েছেন এবং তদারকি ও প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনার বিষয়টি তিনি জানেন না। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
"১০০ টাকার বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। নির্ধারিত টাকার বেশ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে ডিএসসিসির কর্মকর্তাদের গাফিলতি থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি), ধানমন্ডি, যাত্রাবাড়ী, মীর হাজীরবাগ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লামিয়া আক্তার, আরভীন সোনিয়া, মো. আবদুস সালাম, মুহা. মাছুম বিল্লাহ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০০ টাকা (নির্ধারিত বিল), ১২০ টাকা, ৫০ টাকা, ১৬০ টাকা, ২০০ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!