📌 ২৫ বছর আগে ৯/১১ হামলার পর মার্কিন নেতৃত্বে শুরু হওয়া ওয়ার অন টেরর অভিযানে ৪৭ লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ৮ ট্রিলিয়ন ডলার বিনষ্ট হয়েছে। আফগানিস্তান, ইরাক ও অন্যান্য দেশে যুদ্ধের পরিণতি এখনও বেসামরিক মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে রাখছে
২৫ বছর আগে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার সদস্যরা চারটি বাণিজ্যিক বিমান ছিনতাই করে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও পেন্টাগনে আঘাত হানলে বিশ্বের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি বদলে যায়। সেই হামলার পর মার্কিন নেতৃত্বে শুরু হওয়া ওয়ার অন টেরর অভিযানে ২৫ বছর পেরিয়ে গেছে। এই অভিযানে আনুমানিক ৪৭ লাখ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং ৮ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থ বিনষ্ট হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ‘কস্ট অব ওয়ার’ প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধগুলোতে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ৪৫ থেকে ৪৭ লাখ মানুষ মারা গেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার সদস্যরা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও পেন্টাগনে আঘাত হানলে মার্কিন ওয়ার অন টেরর অভিযান শুরু হয়
- 📌 ২৫ বছরের অভিযানে আনুমানিক ৪৭ লাখ মানুষ নিহত, যার মধ্যে সরাসরি ৯ লাখ ৪০ হাজার এবং পরোক্ষভাবে ৩৬ থেকে ৩৮ লাখ
- 📌 আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মার্কিন বাহিনী নিয়োজিত ছিল, যা দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সামরিক সংঘাত
- 📌 যুদ্ধের কারণে আফগানিস্তানে খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা ৬২ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৯২ শতাংশে
- 📌 পাকিস্তান, ইয়েমেন, সোমালিয়া ও লিবিয়ায় মার্কিন বিমান ও ড্রোন হামলায় শত শত বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন
- 📌 ২০০৩ সালের ইরাক আগ্রাসনে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ওমর বলেন, ‘আমরা বোমার শব্দ স্মরণ করতে পারি, আমরা খুব ভয় পেয়েছিলাম’
📰 বিস্তারিত
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার সদস্যরা চারটি বাণিজ্যিক বিমান ছিনতাই করে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও পেন্টাগনে আঘাত হানলে মার্কিন ওয়ার অন টেরর অভিযান শুরু হয়। এই হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আফগানিস্তান ও ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু হয়। আফগানিস্তানে ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর ‘অপারেশন এনডিউরিং ফ্রিডম’ শুরু হয়। এই যুদ্ধে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মার্কিন বাহিনী নিয়োজিত ছিল, যা দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সামরিক সংঘাত। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ‘কস্ট অব ওয়ার’ প্রকল্পের হিসাব অনুযায়ী, এই যুদ্ধে সরাসরি ১ লাখ ৭৬ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। যুদ্ধের আগে আফগানিস্তানে খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা ছিল ৬২ শতাংশ, কিন্তু যুদ্ধের পর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯২ শতাংশে।
ইরাক যুদ্ধে ২০০৩ সালের ১৯ মার্চ মার্কিন আগ্রাসন শুরু হয়। এই যুদ্ধে অন্তত ৩ লাখ ১৫ হাজার মানুষ প্রাণ হারান। ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ওমর আল জাজিরাকে বলেন, ‘আমরা বোমার শব্দ স্মরণ করতে পারি। আমরা খুব ভয় পেয়েছিলাম। আমাদের বন্ধুদের সতর্ক করা হয়েছিল বাইরে যাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। তারা গেল, কিন্তু আর ফিরে আসেনি। আমরা যখন এসব মনে করি, তখন খুব কষ্ট হয়।’
যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তান, ইয়েমেন, সোমালিয়া ও লিবিয়ায় ব্যাপকভাবে অঘোষিত বিমান ও ড্রোন অভিযান চালায়। পাকিস্তানে ৪২৩টি হামলায় ২ হাজার ৪৯৯ থেকে ৪ হাজার ১ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৪২৪ থেকে ৯৬৬ জন বেসামরিক নাগরিক। ইয়েমেনে ১৮৬টি হামলায় ৮৫৩ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৫৮ জন বেসামরিক নাগরিক। সোমালিয়ায় ১৯ থেকে ২৩টি হামলায় ১৮৮ থেকে ২৭৬ জন নিহত হয়েছেন। লিবিয়ায় ২০১১ সালে ৯ হাজার ৭০০টি হামলা চালানো হয়, যেখানে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য জাতিসংঘের অনুমোদন ছিল।
"আমরা বোমার শব্দ স্মরণ করতে পারি। আমরা খুব ভয় পেয়েছিলাম। আমাদের বন্ধুদের সতর্ক করা হয়েছিল বাইরে যাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। তারা গেল, কিন্তু আর ফিরে আসেনি। আমরা যখন এসব মনে করি, তখন খুব কষ্ট হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আফগানিস্তান, ইরাক, পাকিস্তান, ইয়েমেন, সোমালিয়া, লিবিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ওমর (১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী), জর্জ ডব্লিউ বুশ (মার্কিন প্রেসিডেন্ট)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৭ লাখ (প্রাণহানি), ৮ ট্রিলিয়ন ডলার (অপচয়), ২৫ বছর (অভিযান চলমান), ৩ হাজার (৯/১১ হামলায় নিহত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!