📌 ঘানার ১.৮ মিলিয়ন বাসগৃহের ঘাটতি রয়েছে, কিন্তু বিনিয়োগ বাড়লেও বাসগৃহের দাম সাধারণ মানুষের পকেটের বাইরে। সরকারের নীতি ও বেসরকারি অংশগ্রহণের পাশাপাশি নির্মাণ খরচ, জমির দাম ও অর্থপ্রদানের অসুবিধা বাসগৃহের অ্যাক্সেসকে আরও কঠিন করছে
ঘানা শহরতলির বাসগৃহের দাম সাধারণ মানুষের পকেটের বাইরে থাকায় দেশের ১.৮ মিলিয়ন বাসগৃহের ঘাটতি পূরণে বিনিয়োগ বাড়লেও তা যথেষ্ট নয়। এই সমস্যা নিয়ে গত সপ্তাহে আক্রা শহরে অনুষ্ঠিত আফ্রিকা রিয়েল এস্টেট কনফারেন্স এন্ড এক্সপো (ARCE)-এ বিকাশকারীরা, নীতিনির্ধারকরা, বিনিয়োগকর্তারা ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা আলোচনা করেছেন। তারা জানিয়েছেন, বিনিয়োগ বাড়ানো মাত্রই সমাধান নয়—বাস্তবে বাসগৃহের দাম কেনো কমছে না? কারণ বাসগৃহ নির্মাণের খরচ, জমির দাম ও অর্থপ্রদানের অসুবিধা সাধারণ মানুষের জন্য বাসগৃহ অ্যাক্সেসকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঘানার ৫৬.৭ শতাংশ জনসংখ্যা শহুরে এলাকায় বাস করে, কিন্তু মাত্র ৫ শতাংশ মানুষ সরকারি সহায়তা ছাড়া বাসগৃহ কিনতে পারেন।
- 📌 সরকারের নতুন নীতির মাধ্যমে মর্টগেজের হার কমিয়ে ৮.৪ শতাংশে নিয়ে আসা হয়েছে (পূর্বে ১৩.৫ শতাংশ)।
- 📌 ৩ বিলিয়ন সেডি (প্রায় ২৫৬ মিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগের মাধ্যমে সরকার ১৫ থেকে ২০ বছরের মেয়াদে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বাসগৃহ নির্মাণের লক্ষ্য রাখছে।
- 📌 সাগলেমি বাসগৃহ প্রকল্পের প্রথম ৭০০ ইউনিটের নির্মাণের লক্ষ্য ২০২৭ সালের মার্চে পূরণ করা হয়েছে।
- 📌 ২০০ একর জমির উপর ডেডেসুয়া এলাকায় সবুজ শহর প্রকল্পের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
- 📌 ঘানার মোট বাসগৃহের ৯০ শতাংশ ব্যক্তিগত বাঁচানো ও ধাপে ধাপে নির্মাণের মাধ্যমে তৈরি হয়, মর্টগেজের হার মাত্র ০.৩ শতাংশ জিডিপি।
- 📌 বাকো আম্বিয়ান্ডা, ব্যাকবোন ক্যাপিটাল ভেঞ্চার্সের সিইও বলেছেন, আফ্রিকার বাসগৃহের সমস্যা নেই—বরং বাসগৃহ নির্মাণের খরচ, অর্থপ্রদানের সুযোগ ও সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে মেলবন্ধুতা নেই।
- 📌 স্যামুয়েল আমেগায়িবোর, ঘানার রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক বলেছেন, অর্থপ্রদানের সুযোগ ও নিরাপদ জমি পাওয়ার অসুবিধা নির্মাণকারীদের জন্য প্রধান বাধা।
📰 বিস্তারিত
ঘানার বাসগৃহের সমস্যা কেবল বিনিয়োগের অভাব নয়—বরং বাসগৃহের দাম সাধারণ মানুষের পকেটের বাইরে থাকায় বাসগৃহের অ্যাক্সেস সীমিত। দেশের ৫৬.৭ শতাংশ জনসংখ্যা শহুরে এলাকায় বাস করলেও মাত্র ৫ শতাংশ মানুষ সরকারি সহায়তা ছাড়া বাসগৃহ কিনতে পারেন। এই অসামঞ্জস্য বেসরকারি বিকাশকারীদের ও ঐতিহ্যবাহী মর্টগেজ দাতাদের জন্যও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরকারের উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে মর্টগেজের হার কমিয়ে ৮.৪ শতাংশে নিয়ে আসা (পূর্বে ১৩.৫ শতাংশ) এবং ৩ বিলিয়ন সেডি (প্রায় ২৫৬ মিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের জন্য ১৫ থেকে ২০ বছরের মেয়াদে বাসগৃহ নির্মাণের লক্ষ্য রাখা। এছাড়াও, সাগলেমি বাসগৃহ প্রকল্পের প্রথম ৭০০ ইউনিটের নির্মাণের লক্ষ্য ২০২৭ সালের মার্চে পূরণ করা হয়েছে। ডেডেসুয়া এলাকায় ২০০ একর জমির উপর সবুজ শহর প্রকল্পের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ঘানার রাষ্ট্রপতি জন ড্রামানি মহামা ঘোষণা করেছেন, সরকারি কর্মচারীদের বাদে অনিয়মিত কর্মসংস্থানকারী শ্রমিকদেরও বাসগৃহের সুযোগ দেওয়ার জন্য ব্যাংকগুলোকে বিকল্প অর্থপ্রদান পদ্ধতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “একটি ব্যবস্থা যা এই জীবিকা স্বীকৃতি দেয় না, আমাদের জাতির একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে বাসগৃহ মালিকানা থেকে বঞ্চিত করে রাখে।”
বাসগৃহ মন্ত্রী আহমেদ ইব্রাহিম, যিনি রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধিত্বে আফ্রিকা রিয়েল এস্টেট কনফারেন্স এন্ড এক্সপোতে অংশ নিয়েছেন, বলেছেন, বেসরকারি খাতের আরও অংশগ্রহণের মাধ্যমে সস্তা বাসগৃহ ও মর্টগেজ অর্থপ্রদানের সুযোগ বাড়ানো দরকার।
ব্যক্তিগত বাঁচানো ও ধাপে ধাপে নির্মাণের মাধ্যমে ঘানার ৯০ শতাংশ বাসগৃহ তৈরি হয়, যেখানে মর্টগেজের হার মাত্র ০.৩ শতাংশ জিডিপি। এই পরিসংখ্যানগুলি দেখায় যে, অধিকাংশ পরিবার নিজেই বাসগৃহ নির্মাণের জন্য অর্থ সংগ্রহ করে, যা প্রায়শই অনেক বছর ধরে চলতে থাকে।
ব্যাকবোন ক্যাপিটাল ভেঞ্চার্সের সিইও বাকো আম্বিয়ান্ডা বলেছেন, আফ্রিকার বাসগৃহের সমস্যা নেই—বরং বাসগৃহ নির্মাণের খরচ, অর্থপ্রদানের সুযোগ ও সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে মেলবন্ধুতা নেই। তিনি বলেছেন, “আফ্রিকার বাসগৃহের চ্যালেঞ্জ নেই—বরং বাসগৃহ নির্মাণের খরচ, অর্থপ্রদানের সুযোগ ও পরিবারের ক্রয় ক্ষমতা ও অর্থপ্রদান পদ্ধতির মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে।”
ঘানার রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক স্যামুয়েল আমেগায়িবোর বলেছেন, অর্থপ্রদানের সুযোগ ও নিরাপদ জমি পাওয়ার অসুবিধা নির্মাণকারীদের জন্য প্রধান বাধা। তিনি উল্লেখ করেছেন, যদিও বর্তমানে অর্থপ্রদানের হার ৯ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে কমেছে (পূর্বে ৩০ শতাংশ), তবুও অর্থপ্রদান খুবই ব্যয়বহুল। জমির মালিকানা ও অবকাঠামোর অসুবিধা নির্মাণকারীদের জন্য আরও বাধা সৃষ্টি করছে।
"একটি ব্যবস্থা যা এই জীবিকা স্বীকৃতি দেয় না, আমাদের জাতির একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে বাসগৃহ মালিকানা থেকে বঞ্চিত করে রাখে,"
"আফ্রিকার বাসগৃহের চ্যালেঞ্জ নেই—বরং বাসগৃহ নির্মাণের খরচ, অর্থপ্রদানের সুযোগ ও পরিবারের ক্রয় ক্ষমতা ও অর্থপ্রদান পদ্ধতির মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে."
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আক্রা, ঘানা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বাকো আম্বিয়ান্ডা (ব্যাকবোন ক্যাপিটাল ভেঞ্চার্স), স্যামুয়েল আমেগায়িবোর (ঘানার রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশন), আহমেদ ইব্রাহিম (বাসগৃহ মন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১.৮ মিলিয়ন (বাসগৃহের ঘাটতি), ৫৬.৭ শতাংশ (শহুরে জনসংখ্যা), ৫ শতাংশ (বাসগৃহের ক্রয় ক্ষমতা), ৮.৪ শতাংশ (মর্টগেজ হার), ১৩.৫ শতাংশ (পূর্বের মর্টগেজ হার), ২৫৬ মিলিয়ন ডলার (বিনিয়োগ), ৭০০ ইউনিট (সাগলেমি প্রকল্প), ২০০ একর (ডেডেসুয়া সবুজ শহর প্রকল্প)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!