📌 প্যালান্টির সাথে ইউক্রেনের যৌথ প্রকল্পে যুদ্ধক্ষেত্রের ডেটা সংগ্রহে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চার বছরের তথ্য ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ডেটা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করছিলেও প্যালান্টির হাতে এ তথ্য পড়ার ফলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্ন উঠছে।
ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সংগৃহীত রক্তের বিনিময়ে প্যালান্টির হাতে পড়েছে যুদ্ধের মূল্যবান ডেটা। রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে ইউক্রেন প্রথমবারের মতো যুদ্ধক্ষেত্রের ডেটা সংগ্রহের পদ্ধতি গড়ে তুলেছে, যা প্যালান্টির প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে। এই ডেটা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুদ্ধের নকশা বুঝতে এবং রাশিয়ান আক্রমণের পূর্বাভাস দিতে সাহায্য করছে। তবে এই ডেটা প্যালান্টির হাতে পড়ার ফলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষত গাজার গণহত্যা সংক্রান্ত তাদের প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **প্যালান্টির সিইও আলেক্স কার্প** ইউক্রেনের প্রথম বড় ওয়েস্টার্ন টেক কোম্পানির সিইও যিনি যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি সফর করেছেন। ২০২২ সালের জুনে ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভোলোদিমির জেলেনস্কি বলেছিলেন, “আমি রাশিয়ার বিরুদ্ধে ডিজিটাল ফ্রন্টলাইনে এই কোম্পানির সমর্থন পাওয়ার জন্য আনন্দিত।”
- 📌 **ব্রেভ১ ডেটারুম** নামক বিশেষকৃত সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্যালান্টির সাথে যৌথভাবে যুদ্ধক্ষেত্রের ডেটা সংগ্রহ করছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে প্রশিক্ষণ দেয়।
- 📌 **ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের ডেটা** বিশ্বের কোনো দেশের কাছে নেই। এই ডেটা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে রাশিয়ান আক্রমণ পূর্বাভাস দিতে এবং প্রতিক্রিয়া জানাতে সাহায্য করছে।
- 📌 **প্যালান্টির প্রযুক্তি** যুদ্ধক্ষেত্রের বিভিন্ন ডেটা (মিসাইল, রাডার, এআইএস, ওপেন সোর্স) একত্রিত করে একটি একক প্ল্যাটফর্মে প্রদর্শন করে, যা “বattlefield-এর বৃহত্তর দৃশ্য” প্রদান করে।
- 📌 **বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এল্কে শ্বার্জ** বলেছেন, “যুদ্ধক্ষেত্রের ডেটা খুবই বিরল এবং অর্জন করা কঠিন। যারা এই ডেটার অ্যাক্সেস পায়, তাদের একটি রণনীতিগত সুবিধা থাকে।”
- 📌 **ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা ভালেরি মার্কাস** ফেসবুকে লিখেছেন, “ইউক্রেনের কাছে বিশ্বের কোনো দেশের নেই এমন একটি সম্পদ রয়েছে।”
📰 বিস্তারিত
প্যালান্টির প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ২০০১ সালের নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের আক্রমণের পর মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পকে একক ডেটা পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য। কোম্পানির নামকরণ করা হয়েছিল জে আর আর টলকিয়েনের ‘দ্য লর্ড অফ দ্য রিংস’ থেকে, যা অমনিসায়েন্সের মতো ক্ষমতা প্রদান করে। প্যালান্টির প্রযুক্তি বিভিন্ন ধরনের ডেটাকে একত্রিত করে, যেমন মিসাইল, রাডার, অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) এবং ওপেন সোর্স ডেটা। এই ডেটাগুলো একসাথে দেখলে যুদ্ধক্ষেত্রের “বৃহত্তর দৃশ্য” প্রদান করে।
ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের ডেটা বিশ্বের অন্য কোনো দেশের কাছে নেই। এই ডেটা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুদ্ধের নকশা বুঝতে এবং রাশিয়ান আক্রমণ পূর্বাভাস দিতে সাহায্য করছে। তবে এই ডেটা প্যালান্টির হাতে পড়ার ফলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষত, গাজার গণহত্যা সংক্রান্ত প্যালান্টির প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এল্কে শ্বার্জ বলেছেন, “যুদ্ধক্ষেত্রের ডেটা খুবই বিরল এবং অর্জন করা কঠিন। যারা এই ডেটার অ্যাক্সেস পায়, তাদের একটি রণনীতিগত সুবিধা থাকে। ইউক্রেনের ডেটা যদিও অন্য কোনো যুদ্ধে সরাসরি প্রযোজ্য না হয়, তবে এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
"আমি রাশিয়ার বিরুদ্ধে ডিজিটাল ফ্রন্টলাইনে এই কোম্পানির সমর্থন পাওয়ার জন্য আনন্দিত"
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা ভালেরি মার্কাস ফেসবুকে লিখেছেন, “ইউক্রেনের কাছে বিশ্বের কোনো দেশের নেই এমন একটি সম্পদ রয়েছে। আমরা এই ডেটাকে একটি বেসরকারি টেক কোম্পানির হাতে তুলে দিয়েছি, যার শর্তাবলী অজানা।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইউক্রেন (বিশেষত যুদ্ধক্ষেত্র), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (প্যালান্টির সদর দপ্তর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলেক্স কার্প (প্যালান্টির সিইও), ভোলোদিমির জেলেনস্কি (ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি), এল্কে শ্বার্জ (কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক), ভালেরি মার্কাস (ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৭০ বিলিয়ন ডলার (প্যালান্টির মূল্য), ১.৪ শতাংশ (প্যালান্টির কর হার), ৪ বছর (রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়কাল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!