📌 ইতালীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা তিন্তো ব্রাস ৯৩ বছর বয়সে রোমে মৃত্যুবরণ করেছেন। যৌনতানির্ভর চলচ্চিত্রের জন্য পরিচিত হলেও তিনি ছিলেন একজন পরীক্ষাধর্মী চলচ্চিত্রকার। তার নির্মিত ‘সালোঁ কিটি’ ও ‘ক্যালিগুলা’ চলচ্চিত্র আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দিয়েছে
ইতালীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অনন্য পরিচালক তিন্তো ব্রাসের মৃত্যু ঘটেছে। ৪ নভেম্বর রোমে ৯৩ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তার স্ত্রী কাতেরিনা ভার্জি ও দুই সন্তান বোনিফাচিও ব্রাস এবং বিয়াত্রিচা ব্রাস আনসা সংবাদ সংস্থাকে মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন। এই মৃত্যুতে শেষ হলো ইউরোপীয় চলচ্চিত্রের এক ব্যতিক্রমী অধ্যায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৯৩ বছর বয়সে রোমে মারা গেছেন ইতালীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা তিন্তো ব্রাস
- 📌 ‘সালোঁ কিটি’ ও ‘ক্যালিগুলা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন তিনি
- 📌 শিল্পী পরিবারের সন্তান হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৩ সালের ২৬ মার্চ ইতালির মিলানে
- 📌 প্যারিসে চলচ্চিত্রের ইতিহাস ও নির্মাণশৈলী নিয়ে গবেষণা করেন এবং রবার্তো রোসেলিনির সহকারী হিসেবে কাজ করেন
- 📌 সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ‘কি লাভোরা এ পারদুতো’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পরিচিতি পান
- 📌 ‘সালোঁ কিটি’ চলচ্চিত্রে যৌনতা ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের সমন্বয় দেখিয়েছেন
📰 বিস্তারিত
তিন্তো ব্রাসের চলচ্চিত্র জীবন ছিল পরীক্ষাধর্মী ও বিদ্রোহী। তিনি শিল্প-সংস্কৃতির পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ছোটবেলা থেকেই শিল্পের প্রতি আগ্রহ ছিল তার। শুরুতে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত চলচ্চিত্রের প্রতি তার টান ছিল বেশি। পঞ্চাশের দশকের শেষ দিকে প্যারিসে গিয়ে তিনি চলচ্চিত্রের ইতিহাস ও নির্মাণশৈলী নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। সেখানে তিনি ফ্রঁসেজে সিনেমাথেকের আর্কাইভিস্ট ও সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্যারিসে থাকাকালীন তিনি ইতালীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা রবার্তো রোসেলিনির সাথে পরিচিত হন। রোসেলিনির ‘জেনারেল দেলা রোভেরে’ চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে তার চলচ্চিত্র জীবনের ভিত্তি গড়ে ওঠে।
ব্রাসের চলচ্চিত্র নির্মাণে নিজস্ব শৈলী ছিল। তিনি প্রচলিত ধারার অনুকরণে আগ্রহী ছিলেন না। ক্যামেরা, সম্পাদনা ও দৃশ্য নির্মাণে তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে চেয়েছিলেন। ১৯৬৩ সালে তিনি ‘ইন কাপো আল মন্ডো’ চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন, যা পরে ‘কি লাভোরা এ পারদুতো’ নামে পরিচিতি পায়। এই চলচ্চিত্রে ভেনিসের পটভূমিতে এক বেকার তরুণের জীবন, হতাশা ও সমাজের সঙ্গে তার সংঘাতকে তুলে ধরা হয়। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হওয়ার পর ছবিটি প্রশংসা পায়, কিন্তু সেন্সরশিপের কারণে আপত্তি হয়। এই ঘটনা ছিল ব্রাসের সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শুরু।
১৯৬৪ সালে ইতালির শিল্প ও নকশাবিষয়ক প্রদর্শনী ত্রিয়েনালে দি মিলানোর জন্য তিনি দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। এই চলচ্চিত্রগুলোতে তিনি দৃশ্যভাষা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন, যা তাকে সত্তরের দশকের ‘আন্তোনিওনি’ নামে পরিচিতি দেয়। লন্ডনে তিনি বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন, যার মধ্যে ‘ডেডলি সুইট’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন জ্যঁ-লুই ত্রিনতিনিয়াঁ ও ইভা অলিন। ব্রাসের এই চলচ্চিত্রগুলোতে তিনি কেবল গল্প বলার দিকে মনোযোগ দেননি, বরং দৃশ্যের বিন্যাস, সম্পাদনার গতি এবং চরিত্রের মানসিক অবস্থাকে ভিন্নভাবে পর্দায় তুলে ধরেন।
"তিন্তো ব্রাসের চলচ্চিত্রগুলো ছিল পরীক্ষাধর্মী ও বিদ্রোহী। তিনি সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যৌনতা ও ব্যক্তিগত জীবনকে মানুষের অভিব্যক্তির অংশ হিসেবে দেখিয়েছেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রোম, ইতালি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তিন্তো ব্রাস, কাতেরিনা ভার্জি, বোনিফাচিও ব্রাস, বিয়াত্রিচা ব্রাস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯৩ বছর বয়স, ৪ নভেম্বর, ১৯৩৩ সালের ২৬ মার্চ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!