📌 খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায় পাহাড়ি জমিতে রেড লেডি পেঁপে চাষ শুরু করে কৃষক মেহেদী হাসান রানা। দুই একর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে তিনি প্রতি মাসে ৪ লাখ টাকা আয় করছেন এবং মৌসুম শেষে ১৫-১৬ লাখ টাকার প্রত্যাশা করছেন। সরকারি সহায়তা ও কারিগরি পরামর্শের পাশাপাশি স্থানীয় যুবকদেরও এই উদ্যোগে অনুপ্রাণিত করছেন তিনি
খাগড়াছড়ির পাহাড়ি এলাকায় একটি অসাধারন কৃষি উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষক মেহেদী হাসান রানা ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকার আয়ের স্বপ্ন বুনছেন। পাহাড়ি জমিতে বাণিজ্যিকভাবে রেড লেডি জাতের পেঁপে চাষ শুরু করে তিনি বর্তমানে প্রতি মাসে চার লাখ টাকা আয় করছেন। এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে ইউটিউব ভিডিও থেকে অনুপ্রেরণা এবং স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের কারিগরি সহায়তা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতী ইউনিয়নে পাহাড়ি জমিতে রেড লেডি পেঁপে চাষ শুরু করে কৃষক মেহেদী হাসান রানা।
- 📌 দুই একর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে প্রতি কেজি পেঁপে ৩০-৪০ টাকা বিক্রি করে বর্তমানে প্রতি মাসে চার লাখ টাকা আয় করছেন তিনি।
- 📌 মৌসুম শেষে ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রির আশা করছেন রানা।
- 📌 ইউটিউব ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০২২-২৩ সালে পেঁপে চাষ শুরু করেন রানা।
- 📌 স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কারিগরি সহায়তা দিয়ে রানাকে উৎসাহিত করেছেন।
- 📌 বাগান প্রস্তুত, চারা, সেচ ও পরিচর্যায় প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন রানা।
- 📌 স্থানীয় যুবকরা রানার উদ্যোগ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে পেঁপে চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
📰 বিস্তারিত
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতী ইউনিয়নের মাহবুব মেম্বার পাড়ায় পাহাড়ি জমিতে রেড লেডি পেঁপে চাষের মাধ্যমে কৃষক মেহেদী হাসান রানা একটি নতুন স্বপ্ন বুনছেন। বেলছড়ি ইউনিয়নের খেদাছড়া এলাকায় বাসকারী রানা পাহাড়ি এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে পেঁপে চাষ শুরু করেছেন। তিনি ইউটিউব ভিডিও দেখে পেঁপে চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন এবং স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের সহায়তায় এই উদ্যোগ শুরু করেন।
২০২২-২৩ সালের গোড়ার দিকে ইউটিউবে বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক ভিডিও দেখে পেঁপে চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন রানা। তার পাশে দাঁড়ান উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা, যারা পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে তাকে উৎসাহিত করেন। এরপর খাগড়াছড়ির জিরো মাইল এলাকার এগ্রোসেল নার্সারি থেকে প্রায় দুই হাজার রেড লেডি জাতের পেঁপের চারা সংগ্রহ করেন তিনি। জমি নিজের না থাকায় দুই বছরের জন্য দেড় লাখ টাকায় লিজ নিয়ে শুরু করেন বাগান।
কঠোর পরিশ্রম এবং ধৈর্যের ফলস্বরূপ বাগানের প্রতিটি গাছে ঝুলছে পরিপক্ব পেঁপে। গত মাস থেকে শুরু হয়েছে ফল সংগ্রহ ও বিক্রি। প্রতি কেজি পাকা পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পাইকারি বিক্রি করছেন রানা। ইতোমধ্যে বাগান থেকে প্রায় চার লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি করেছেন তিনি। মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত আরও ফলন পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন উদ্যোক্তা রানা। তার হিসাব অনুযায়ী, পুরো মৌসুম শেষে বাগান থেকে মোট ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি হতে পারে।
"পাহাড় এবং সমতলে পেঁপের চাহিদা ব্যাপক। সঠিক সেচ, জৈব সার ও নিয়মিত পরিচর্যায় ভালো ফলন পেয়েছি। গাছ পরিপক্ব হলে ফলন আরও বাড়বে। এ পর্যন্ত বাগান প্রস্তুত, চারা, সেচ ও পরিচর্যায় প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা পেঁপে সংগ্রহ শুরু করেছেন। বাজারদর অনুকূলে থাকলে এ বছর প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি করার আশা করছি। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে পেঁপে চাষ করতে চাই।"
রানার সফলতায় অনুপ্রাণিত হচ্ছেন স্থানীয় বেকার যুবকরা। প্রতিদিন তার বাগান দেখতে ও পরামর্শ নিতে আসছেন তরুণরা। রানা মনে করেন, সরকারি সহায়তা ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে পাহাড়ের অনাবাদি জমিতে পেঁপে চাষ বাড়িয়ে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন রানার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, ‘মেহেদী হাসান রানা একজন আগ্রহী ও পরিশ্রমী উদ্যোক্তা। পেঁপে চাষে আগ্রহী হলে তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। রানার বাগানটি এলাকার অন্যান্য কৃষককেও বাণিজ্যিকভাবে পেঁপে চাষে উৎসাহিত করবে বলে আশা করছি।’ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ জানান, রেড লেডি জাতের পেঁপে বাণিজ্যিক চাষের জন্য সম্ভাবনাময় একটি জাত। তিনি বলেন, ‘মাটিরাঙ্গার মাটি ও আবহাওয়াও এ চাষের উপযোগী। সঠিক পরিচর্যা ও আধুনিক প্রযুক্তি অনুসরণ করলে কৃষকেরা ভালো ফলন ও আয় করতে পারেন। রানার উদ্যোগটি অন্য কৃষকদেরও বাণিজ্যিক পেঁপে চাষে উৎসাহিত করবে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলা, গোমতী ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মেহেদী হাসান রানা, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫-১৬ লাখ টাকা (মৌসুম শেষে আয়ের প্রত্যাশা), ৪ লাখ টাকা (বর্তমান মাসিক আয়), ৩০-৪০ টাকা (প্রতি কেজি পেঁপের দাম), ৮-৯ লাখ টাকা (বাগান প্রস্তুতির খরচ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!