📌 জাপানে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জনেরও বেশি শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা বেড়ে গেছে। তাদের দীর্ঘায়ুর পেছনে রয়েছে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, 'হারা হাচি বু' প্রথা, ইকিগাই দর্শন এবং নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা
জাপান বিশ্বের দীর্ঘায়ু লাভের এক অনন্য উদাহরণ। এই দ্বীপরাষ্ট্রে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়স পেরিয়ে যাওয়া মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো ১ লাখের কোটা ছাড়িয়ে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জনে পৌঁছেছে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে বয়সের সাথে সাথে স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে, কিন্তু জাপানিদের দীর্ঘায়ুর গল্পে লুকিয়ে আছে তাদের জীবনযাত্রার কিছু গোপন রহস্য।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জাপানে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জনে পৌঁছেছে — ৫৬ বছর ধরে ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে
- 📌 জাপানিদের দীর্ঘায়ুর মূল কারণ: সামুদ্রিক মাছ, শাকসবজি, সয়া পণ্য (টফু, মিসো) এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ভরপুর খাদ্যাভ্যাস
- 📌 ‘হারা হাচি বু’ প্রথা (পেট ৮০% ভরে খাওয়া) ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
- 📌 ‘ইকিগাই’ দর্শন (জীবনের উদ্দেশ্য) এবং নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে
- 📌 জাপানের সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা প্রবীণদের দীর্ঘায়ুতে সহায়তা করে
- 📌 শতবর্ষীদের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে জাপানে তরুণ জনসংখ্যার ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে
📰 বিস্তারিত
জাপান বিশ্বের দীর্ঘায়ুর দেশ হিসেবে পরিচিত। এই দ্বীপরাষ্ট্রে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়স পেরিয়ে যাওয়া মানুষের সংখ্যা ১ লাখের কোটা ছাড়িয়ে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জনে পৌঁছেছে। জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা টানা ৫৬ বছর ধরে ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৮ শতাংশ শতবর্ষী নারী।
জাপানিদের দীর্ঘায়ুর পেছনে রয়েছে তাদের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। পশ্চিমাদের মতো চর্বিযুক্ত বা অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার তাদের থালায় খুব একটা জায়গা পায় না। তাদের প্রধান খাবার হলো সামুদ্রিক মাছ, নানা পদের শাকসবজি, সয়া পণ্য (টফু, মিসো) এবং ভাত। মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে।
জাপানিদের একটি প্রচলিত প্রাচীন প্রবাদ আছে ‘হারা হাচি বু’ — এর অর্থ হলো পেট ১০০ ভাগ না ভরিয়ে, সব সময় ৮০ ভাগ পূর্ণ হওয়া মাত্র খাওয়া থামিয়ে দেওয়া। এই অভ্যাসের ফলে পরিপাকতন্ত্র অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ে না এবং অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার ঝুঁকি অনেক কমে যায়।
জাপানিদের কাছে দীর্ঘ জীবন মানে স্রেফ বেঁচে থাকা নয়, বরং বেঁচে থাকার একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকা। একে তাঁরা বলেন ‘ইকিগাই’। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পেছনে প্রত্যেকের একটি লক্ষ্য বা আনন্দ থাকে — নাতি-নাতনিকে নিয়ে আনন্দ করা, বাগানের পরিচর্যা বা কোনো শখ পূরণ করা। অবসরে গিয়ে অলস বসে থাকার সংস্কৃতি জাপানে নেই। মানসিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং জীবনের শেষদিন পর্যন্ত নিজেকে প্রয়োজনীয় ভাবার এই প্রবণতা প্রবীণদের বিষণ্নতা ও আলঝেইমারের মতো মানসিক রোগ থেকে দূরে রাখে।
জাপানের প্রবীণরা সারা দিনই কোনো না কোনো শারীরিক শ্রমে যুক্ত থাকেন। গাড়ি ব্যবহার করার চেয়ে তাঁরা হেঁটে বাজারে যেতে, বাস বা ট্রেনে যাতায়াত করতে বা সাইকেল চালাতে বেশি পছন্দ করেন। সকালে রেডিও তাইসো টিউন করে সংগীতের তালে ৩ মিনিটের হালকা স্ট্রেচিং বা রিদমিক শরীরচর্চা করা জাপানের ঘরে ঘরে এক অতি পরিচিত দৃশ্য।
জাপানের সর্বজনীন ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা প্রবীণদের দীর্ঘায়ু লাভে বড় ভূমিকা রাখছে। সেখানে নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক এবং অত্যন্ত সহজলভ্য। ফলে যেকোনো বড় রোগ শুরুতে ধরা পড়ে এবং সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়।
“জাপানিদের দীর্ঘায়ুর এই অভাবনীয় জয়গান শুনে চমকে উঠলেও, এই অর্জনের আড়ালে জমা হচ্ছে এক গভীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক চিন্তা। শতবর্ষীদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়লেও জাপানে নতুন শিশুর জন্মহার একদম তলানিতে এসে ঠেকেছে। প্রবীণদের যত্ন নেওয়ার মতো তরুণ কর্মক্ষম মানুষের সংকট দেখা দেওয়ায় দেশটির সামাজিক নিরাপত্তা ও পেনশনের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাপান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জাপানিদের (সাধারণ জনগণ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জন শতবর্ষী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!