📌 সরকারের নতুন কর আইনে ৩০ সেপ্টেম্বর আগে কর রিটার্ন জমা দিলে ৫% করছাড় দেওয়ার ঘোষণা করা হলেও, নিয়ম মেনে আগেভাগে কর পরিশোধকারী সৎ করদাতারা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বকেয়া করের ওপর ছাড় দেওয়ার এই নিয়মে কর না দিলে সুবিধা পাওয়ার অদ্ভুত মারপ্যাঁচ রয়েছে
সরকারের নতুন কর আইনের একটি অদ্ভুত নিয়ম করদাতাদের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এই নিয়মে দেখা যাচ্ছে, নিয়ম মেনে আগেভাগে কর পরিশোধকারী সৎ করদাতারা করছাড় পাচ্ছেন না, অন্যদিকে কর না দিলে সুবিধা পাচ্ছেন। সরকার ঘোষণা করেছে, ৩০ সেপ্টেম্বর আগে কর রিটার্ন জমা দিলে প্রদেয় করের ওপর ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করছাড় দেওয়া হবে। কিন্তু এই ছাড় বকেয়া করের ওপর হিসাব করা হচ্ছে, যা সৎ করদাতাদের জন্য অন্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সরকার করদাতাদের উৎসাহিত করতে ঘোষণা করেছে, ৩০ সেপ্টেম্বর আগে কর রিটার্ন জমা দিলে ৫% করছাড় পাওয়ার সুযোগ থাকবে
- 📌 এই ছাড় বকেয়া করের ওপর হিসাব করা হচ্ছে — অর্থাৎ আগেভাগে কর পরিশোধকারী সৎ করদাতারা সুবিধা পাচ্ছেন না
- 📌 দুজন করদাতার উদাহরণে দেখা গেছে, আরিফ নিয়ম মেনে আগেভাগে কর পরিশোধ করলেও কোনো ছাড় পাননি, অন্যদিকে কর না দিলে তানভীর ২ হাজার ২৫০ টাকা সুবিধা পেলেন
- 📌 একই পরিমাণ আয় (১২ লাখ টাকা) এবং একই পরিমাণ কর (৪৫ হাজার টাকা) থাকা সত্ত্বেও, নিয়ম মেনে কর দিলে সুবিধা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই
- 📌 এই নিয়মের কারণে করদাতারা কোম্পানিদের চাপ দিতে পারে, যাতে উৎসে কর না কাটানো হয় — যা সরকারের জন্য অর্থনৈতিক ক্ষতি সৃষ্টি করবে
📰 বিস্তারিত
সরকারের নতুন কর আইনে করদাতাদের জন্য একটি অদ্ভুত মারপ্যাঁচ রয়েছে। সরকার ঘোষণা করেছে, ৩০ সেপ্টেম্বর আগে কর রিটার্ন জমা দিলে প্রদেয় করের ওপর ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করছাড় দেওয়া হবে। কিন্তু এই ছাড় বকেয়া করের ওপর হিসাব করা হচ্ছে, যা সৎ করদাতাদের জন্য অন্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, পুরো বছরে আগেভাগে পরিশোধ করা করের পর যে বকেয়া থাকে, তার ওপরই এই ছাড় দেওয়া হবে।
দুজন করদাতার উদাহরণে এই নিয়মের মারপ্যাঁচ বোঝা যায়। আরিফ এবং তানভীর দুজনেই বাৎসরিক আয় ১২ লাখ টাকা এবং বছর শেষে দুজনেরই মোট আয়করের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৫ হাজার টাকা। কিন্তু তাদের ক্ষেত্রে ফলাফল সম্পূর্ণ আলাদা। আরিফের কাজ করা কোম্পানি নিয়ম মেনে প্রতি মাসে বেতন থেকে উৎসে কর কেটে সরকারকে জমা দিয়েছে। ফলে বছর শেষে তার কোনো বকেয়া কর ছিল না। তাই তিনি ৩০ সেপ্টেম্বর আগে রিটার্ন জমা দিলেও কোনো করছাড় পাননি। অন্যদিকে, তানভীরের কাজ করা প্রতিষ্ঠান করের নিয়ম মেনে চলেনি। তারা তার বেতন থেকে এক পয়সাও কর কাটেনি। ফলে বছর শেষে তার পুরো ৪৫ হাজার টাকাই বকেয়া ছিল। তাই তিনি ৩০ সেপ্টেম্বর আগে রিটার্ন জমা দিলে বকেয়া করের ওপর ৫ শতাংশ হারে ২ হাজার ২৫০ টাকা করছাড় পেয়ে গেলেন।
এই নিয়মের কারণে সৎ করদাতারা বঞ্চিত হচ্ছেন। আরিফ নিয়ম মেনে সব কর আগেভাগে পরিশোধ করলেও কোনো সুবিধা পাননি, অন্যদিকে কর না দিলে তানভীর সুবিধা পেলেন। একই পরিমাণ আয় এবং একই পরিমাণ কর থাকা সত্ত্বেও, নিয়ম মেনে কর দিলে সুবিধা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া, এই নিয়মের কারণে কর্মচারীরা কোম্পানিদের চাপ দিতে পারে, যাতে বেতনের ওপর সম্পূর্ণ উৎসে কর কর্তন না করা হয়। এতে সরকারের আগাম কর পাওয়ার সুযোগ কমে যাবে, যা অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হবে।
"এই ছাড়টি ‘বকেয়া করের’ ওপর না দিয়ে একজন মানুষের সারা বছরের ‘মোট করের’ ওপর হিসাব করা। তাহলে আরিফ ও তানভীর—উভয়েই সমানভাবে ২ হাজার ২৫০ টাকার সুবিধা পেতেন এবং করদাতাদের মনে কোনো ক্ষোভ জন্মাত না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (কর আইনের প্রয়োগ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আরিফ, তানভীর, স্নেহাশীষ বড়ুয়া (এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ সেপ্টেম্বর, ৫ শতাংশ, ২৫ হাজার টাকা, ১২ লাখ টাকা, ৪৫ হাজার টাকা, ২ হাজার ২৫০ টাকা, ৪২ হাজার ৫০০ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!