📌 ঝিনাইদহের মহারাজপুর ও কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নের ছয় গ্রামের মানুষ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ভেঙে পড়া বেগবতী নদীর ব্রিজের মেরামত অপেক্ষায়। বাঁশের সাঁকোই তাদের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা বর্ষায় আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্কুলগামী শিশুদের চলাচলও বিপদে পড়েছে
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বেগবতী নদীর ওপর ভেঙে পড়া ব্রিজের মেরামত বা নতুন নির্মাণে এক বছরেরও বেশি সময় বিতর্কিত অপেক্ষায় রয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে মহারাজপুর ও কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নের অন্তত ছয় গ্রামের মানুষের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বাঁশের সাঁকোই তাদের একমাত্র স্বস্তির মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা বর্ষায় নদীর পানি বাড়লে আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০ ফুট দীর্ঘ ব্রিজ গত বছরের জুলাই মাসে ভেঙে পড়লেও এখনও মেরামত বা নতুন নির্মাণ হয়নি।
- 📌 ৬ গ্রামের ২১৯ জন শিক্ষার্থী ডেফলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন, তাদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
- 📌 স্কুলগামী শিশুদের জন্য বাঁশের সাঁকো পারাপার ঝুঁকিপূর্ণ, প্রায় ২ কিলোমিটার পথ ঘুরে স্কুলে যেতে হয়।
- 📌 কৃষিপণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় কৃষকদের পন্য বাজারজাত করার খরচ বাড়ছে।
- 📌 ৩টি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় ব্রিজ নির্মাণের জন্য, কিন্তু কোনটি প্রথম অনুমোদিত হবে তা স্পষ্ট নয়।
📰 বিস্তারিত
বেগবতী নদীর ওপর অবস্থিত প্রায় ২০ ফুট দীর্ঘ ব্রিজটি গত বছরের জুলাই মাসে ভেঙে পড়লেও এখনও সরকারি উদ্যোগে মেরামত বা নতুন ব্রিজ নির্মাণের কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এই ব্রিজের ভেঙে পড়ায় মহারাজপুর ইউনিয়নের উত্তর ভবানীপুর, কুতুবপুর, পরমানন্দপুর, কুলবাড়িয়া এবং কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নের ডেফলবাড়িয়া গ্রামের অন্তত ছয়টি গ্রামের মানুষের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ব্রিজ দিয়ে চলাচল বন্ধ থাকায় স্থানীয় লোকজন বাঁশের সাঁকো তৈরি করে নদী পারাপারের একমাত্র ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহার করছেন। তবে বর্ষায় নদীর পানি বাড়লে সাঁকো দিয়ে পারাপার আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। উত্তর ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘এই সড়ক দিয়ে মহারাজপুর ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রাম ও কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নের একটি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন চলাচল করে। ব্রিজ ভেঙে পড়ার পর থেকে সরকারি উদ্যোগে কোনো মেরামত বা নতুন ব্রিজ নির্মাণ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে বাঁশের সাঁকো বানিয়ে চলাচল করছি। ব্রিজ না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকটা পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে, যা সময় ও খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।’
ব্রিজ ভেঙে পড়ার সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি ভোগ করছেন স্কুলগামী শিশুরা। উত্তর ভবানীপুর গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে আরাফাত হোসেন ডেফলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। ব্রিজ ভেঙে পড়ার আগে পাড়ার অন্য ছেলেমেয়েদের সঙ্গে এই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন স্কুলে যেত সে। এখন প্রায় দুই কিলোমিটার পথ ঘুরে স্কুলে যেতে হচ্ছে ছোট্ট শিশুটিকে। জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি প্রতিদিন ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিতে পারি না। নদীর পানিতে পড়ে যেতে পারে, এই ভয়ে এখন বিকল্প রাস্তা দিয়ে স্কুলে পাঠাই। ব্রিজ থাকতে ঝুঁকি ছিল না, কিন্তু বাঁশের সাঁকো পার হওয়া শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।’
ডেফলবাড়িয়া গ্রামের রবি জোয়ার্দ্দার বলেন, ‘ডেফলবাড়িয়া প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কয়েকটি গ্রামের কয়েক শত শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার পর তাদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, এলাকার কৃষকদেরও বিপদে পড়েছেন। ব্রিজ দিয়ে কৃষিযান চলাচল বন্ধ থাকায় অনেকে দীর্ঘ পথ ঘুরে পাট, ধানসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য পরিবহন করছেন। এতে পন্য বাজারজাত করার খরচ বাড়ছে।’
ডেফলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান শামীম জানান, ‘ডেফলবাড়িয়া ও উত্তর ভবানীপুর গ্রামের ২১৯ জন শিক্ষার্থী আমার বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। ব্রিজ ভেঙে পড়ায় শিশুদের চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীসহ এলাকার মানুষের নিরাপদ চলাচলের স্বার্থে দ্রুত ব্রিজ পুনর্নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।’
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ব্রিজটির বিষয়ে তাঁদের কাছে তথ্য রয়েছে। গুরুত্ব দিয়ে ব্রিজ নির্মাণের জন্য তিনটি প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। যেটি আগে অনুমোদন হবে, সেই প্রকল্পের মাধ্যমে ব্রিজটি নির্মাণ করা হবে।’
"ব্রিজ থাকতে ঝুঁকি ছিল না, কিন্তু বাঁশের সাঁকো পার হওয়া শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।" — জাহিদুল ইসলাম, উত্তর ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঝিনাইদহ সদর উপজেলা, মহারাজপুর ও কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রেজাউল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম, আরাফাত হোসেন, রবি জোয়ার্দ্দার, আজিজুর রহমান শামীম, মো. আবুল কালাম আজাদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ ফুট (ব্রিজের দৈর্ঘ্য), ২১৯ জন (শিক্ষার্থী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!