📌 গ্যাস সরবরাহের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিকে ফিরছে। শিল্প খাতে বাড়তি গ্যাসের দুই-তৃতীয়াংশ সরবরাহ করা হচ্ছে, বিদ্যুৎ খাতে এক-তৃতীয়াংশ। তবে শিল্প সংগঠনগুলো দাবি করছে, তিতাস গ্যাসের এলাকায় সরবরাহ কমে গেছে
দেশে গ্যাস সরবরাহের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে শিল্প খাতে বাড়তি গ্যাসের দুই-তৃতীয়াংশ সরবরাহ করা হচ্ছে, বিদ্যুৎ খাতে এক-তৃতীয়াংশ। তবে শিল্প সংগঠনগুলো দাবি করছে, তিতাস গ্যাসের এলাকায় সরবরাহ কমে গেছে এবং গ্রাহকদের সমস্যা অব্যাহত রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট, সরবরাহ ২৬০ কোটি ঘনফুটে উন্নীত হয়েছে
- 📌 দেশি গ্যাসক্ষেত্র থেকে ১৬১ কোটি ঘনফুট, এলএনজি থেকে ৯৯ কোটি ঘনফুট সরবরাহ
- 📌 শিল্প খাতে বাড়তি গ্যাসের দুই-তৃতীয়াংশ, বিদ্যুৎ খাতে এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ
- 📌 তিতাস গ্যাসের এলাকায় শিল্প, আবাসিক ও সিএনজি খাতে আগের মতো সরবরাহ না হওয়ায় গ্রাহকদের সমস্যা
- 📌 রামপাল ও পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট কারিগরি কারণে বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে
- 📌 শিল্প সংগঠনগুলো দাবি করে, তিতাস এলাকায় গ্যাস সরবরাহ ৩০ শতাংশ কম
- 📌 প্রধানমন্ত্রী সোমবার শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর ঘোষণা দেন
- 📌 বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনা অনুসারে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
গত ২১ জুলাই মহেশখালীর মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেটের ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের কারণে গ্যাস সরবরাহের পরিস্থিতি খারাপ হয়েছিল। সেটি থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে দিনে সরবরাহ কমে এসেছিল ২২০ কোটি ঘনফুটে। ১৫ আগস্ট টার্মিনাল চালু হওয়ার পর সরবরাহ বাড়িয়ে ২৩২ কোটি ঘনফুট করা হয়েছিল। এখন গ্যাস সরবরাহের পরিস্থিতি আগের মতো হয়ে আসছে। গত মঙ্গলবার এলএনজি থেকে ১০১ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হয়েছিল, ফলে মোট সরবরাহ ২৬৩ কোটি ঘনফুট হয়েছিল।
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বাড়তি গ্যাসের সর্বাধিক অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে শিল্প গ্রাহকদের। প্রধানমন্ত্রী সোমবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর ঘোষণা দেন। সোমবার রাত থেকে প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। তবে শিল্প সংগঠনগুলো দাবি করে, তিতাস গ্যাসের এলাকায় গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে।
তিতাস গ্যাসের এলাকায় শিল্প, আবাসিক ও সিএনজি খাতে আগের মতো সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে শিল্পের পাশাপাশি আবাসিক খাতে রান্নার কাজেও সমস্যা অব্যাহত রয়েছে। ঢাকা, সাভার, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ করে তিতাস। গত ২১ জুলাইয়ের আগে তিতাসকে মোট ১৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হত, এর মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে ৩০ কোটি ঘনফুট, সার কারখানায় ৭ কোটি ঘনফুট, শিল্পসহ অন্যান্য খাতে ১১৩ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হত। গতকাল তিতাস পেয়েছে ১৩৭ কোটি ঘনফুট, এর মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে ২২ কোটি ঘনফুট, সারে ৭ কোটি ঘনফুট, শিল্পসহ অন্যান্য খাতে ১০৮ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে বাড়তি গ্যাসের পুরোটা শিল্পে সরবরাহ করা হয়নি। তারা দাবি করেছেন, তিতাস এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো উচিত। রপ্তানি খাতের তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের চারটি সংগঠনের পক্ষ থেকে সঞ্চালন কোম্পানি জিটিসিএলকে একটি যৌথ চিঠি দেওয়া হয়েছে। সংগঠনগুলো হলো বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমইএ এবং বিটিটিএলএমইএ।
"দেশের সবচেয়ে বড় বিতরণ সংস্থা তিতাস গ্যাসকে শিল্প খাতের চাহিদার চেয়ে ৩০ শতাংশ কম সরবরাহ করা হচ্ছে। আর অন্য বিতরণ সংস্থাগুলোকে প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়তি সরবরাহ করা হচ্ছে। দ্রুত তিতাস এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছি।"
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ধীরে ধীরে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসছে। পরিকল্পনা অনুসারে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। আজ থেকে শিল্পে সরবরাহ আরও স্বাভাবিক হবে। এরপর দুটি কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্র (পায়রা ও রামপাল) থেকে উৎপাদন বাড়লে শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ আরও বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, সাভার, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, রামপাল, বাগেরহাট, মহেশখালী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী, জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা, ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৮০ কোটি ঘনফুট (গ্যাস চাহিদা), ২৬০ কোটি ঘনফুট (বর্তমান সরবরাহ), ১৬১ কোটি ঘনফুট (দেশি গ্যাস), ৯৯ কোটি ঘনফুট (এলএনজি সরবরাহ), ৩০ শতাংশ (তিতাস এলাকায় সরবরাহ কমে গেছে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!