📌 জাপান থেকে চার দিনের সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে ফিরেছেন। সফরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ ও ২৯৫ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের নতুন মাইলফলক হিসেবে সফরটি চিহ্নিত করা হয়েছে
জাপানের চার দিনের উচ্চপর্যায়ের সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার রাত ২টা ৪৮ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশে ফিরেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি জাপানের টোকিও থেকে রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে উড়ান ত্যাগ করে। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীনের তথ্য অনুযায়ী, এই সফরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের নতুন মাইলফলক স্থাপিত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৯ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচি বাংলাদেশ-জাপান অংশীদারত্ব জোরদার করার জন্য আলোচনা করেন।
- 📌 ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার বেসরকারি বিনিয়োগের প্রস্তাব ও ২৯৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার ঋণ প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি নেওয়া হয়।
- 📌 ৬টি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়, যার মধ্যে রয়েছে উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ১ কোটি ৩৪ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান চুক্তি।
- 📌 ১৭টি বেসরকারি খাতের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয় জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) আয়োজনে।
- 📌 ৫টি অগ্রাধিকার খাত (মোটরগাড়ি, জ্বালানি, প্রযুক্তি, দ্রুতগতির রেল, কৃষিপণ্য) বিনিয়োগের জন্য জাপানি প্রতিষ্ঠানদের আহ্বান জানানো হয়।
- 📌 জাপানের জ্বালানি টার্মিনাল ও টয়োটা কারখানা পরিদর্শন করে প্রধানমন্ত্রী জাপানের শিল্প ও প্রযুক্তি সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।
📰 বিস্তারিত
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের সফরে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের নতুন মাইলফলক স্থাপিত হয়। সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিলো উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর, বিনিয়োগের সম্ভাবনা আলোচনা এবং জাপানের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনা পরিদর্শন।
২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা এবং আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো ও আইসিটি খাতে ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার বেসরকারি বিনিয়োগের প্রস্তাব। এছাড়াও, জাপানের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
সফরে বাংলাদেশ ও জাপান ৬টি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষর করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সর্বোচ্চ ১ কোটি ৩৪ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান চুক্তি। পাশাপাশি ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়ন, কৃষি, কর্মসংস্থান কর্মসূচি এবং মৎস্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সহযোগিতার জন্যও একটি অভিপ্রায়পত্র স্বাক্ষর করা হয়।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপানের রাজনৈতিক নেতা, উন্নয়ন সহযোগী ও ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসো, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট আকিহিকো তানাকা, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর কাজুহিকো আমাকাওয়া এবং জেট্রোর প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকা উপস্থিত ছিলেন।
২৮ অক্টোবর টোকিওতে জেট্রোর আয়োজনে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেন। তিনি জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাঁচটি অগ্রাধিকার খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। এগুলো হলো মোটরগাড়ি উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ, দ্রুতগতির রেল ও লজিস্টিকস এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপানের ফুতসুতে জেইআরএর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ইচিকাওয়ায় নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করেন। এছাড়াও, নাগোয়া সফরে টয়োটা মোটর করপোরেশনের মোটোমাচি কারখানা ও টয়োটা কমেমোরেটিভ মিউজিয়াম অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড টেকনোলজি পরিদর্শন করে জাপানের শিল্প ও প্রযুক্তি সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।
"জাপানের সাথে বাংলাদেশের অংশীদারত্বের নতুন মাইলফলক স্থাপন করা হয়েছে। এই সফরে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (বাংলাদেশ), টোকিও, নারিতা, ফুতসু, নাগোয়া (জাপান)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসো, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার প্রেসিডেন্ট আকিহিকো তানাকা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ, ২৯৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার ঋণ, ৬টি চুক্তি, ১৭টি বেসরকারি সমঝোতা স্মারক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!