📌 পাকিস্তান থেকে আমদানি করা ১৫০ টন তামাকে ক্ষতিকর রাসায়নিকের সন্দেহে কাস্টমস গোয়েন্দারা পরীক্ষা শুরু করেছে। চট্টগ্রাম বন্দরে আটকে থাকা ১০ কনটেইনার তামাকের নমুনা বিজ্ঞান পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। রাজস্ব ফাঁকিরও সন্দেহ রয়েছে
চট্টগ্রাম বন্দরে আটকে থাকা ১৫০ টন পাকিস্তানি আমদানি তামাকে ক্ষতিকর রাসায়নিকের সন্দেহে কাস্টমস গোয়েন্দারা তদন্ত শুরু করেছে। কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণ টেবিল টেস্টে তামাকপাতায় সহজে আগুন ধরছিল না, যা অন্য কোনো ক্ষতিকর পদার্থ মেশানো থাকার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এজন্য নমুনা সংগ্রহ করে বিজ্ঞান পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রাম বন্দরে ১৫০ টন পাকিস্তানি তামাকে ক্ষতিকর রাসায়নিকের সন্দেহে পরীক্ষা শুরু
- 📌 ১০ কনটেইনার তামাকের নমুনা বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) ও অন্যান্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে
- 📌 প্রতি কেজি তামাকের মূল্য ঘোষণা করা হয়েছে ১.৪৫ ডলার, রাজস্ব ফাঁকির সন্দেহে তদন্ত চলছে
- 📌 এই তামাক দিয়ে প্রায় ৪৯৪ কোটি টাকার সিগারেট তৈরি সম্ভব, বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগে লাইসেন্স স্থগিত
- 📌 গ্লোবাল লিফ টোব্যাকো কোম্পানির বন্ড লাইসেন্স স্থগিত, চালানটির খালাস বন্ধ রাখা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রাম বন্দরে আটকে থাকা ১০ কনটেইনার তামাকের নমুনা সংগ্রহ করে বিজ্ঞান পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণ টেবিল টেস্টে তামাকপাতায় সহজে আগুন ধরছিল না। এ কারণে তামাকের সঙ্গে দৃশ্যমান নয় এমন অন্য কোনো পদার্থ মেশানো আছে কি না, তা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহমেদ বলেছেন, ‘সাধারণ টেবিল টেস্টে এই তামাকপাতায় সহজে আগুন ধরছিল না। তাই এর মধ্যে অন্য কোনো ক্ষতিকর সাবস্ট্যান্স বা রাসায়নিক পদার্থ মেশানো আছে কি না, সে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।’
বিজ্ঞান পরীক্ষাগারে পাঠানো নমুনা পরীক্ষা শেষে যদি অবৈধ কিছু পাওয়া যায়, তাহলে আমদানিকারকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চালানটি এসেছে পাকিস্তান থেকে এবং বাণিজ্যিক নথিতে দুবাইয়ের ‘টেট্রা ট্রেড এফজেডসিও’ এবং পাকিস্তানের ‘আলী লিফ ট্রেডার্স’-এর নাম রয়েছে। চালানটির সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট চট্টগ্রামের ইসলাম অ্যান্ড সন্স। ১৯ অক্টোবর চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। পরদিন ২০ অক্টোবর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে।
কাস্টমস গোয়েন্দার হিসাব অনুযায়ী, এই ১৫০ টন তামাক দিয়ে প্রায় ২১ কোটি ৪৩ লাখ শলাকা প্রিমিয়াম সিগারেট তৈরি করা যেতে পারে। ওই সিগারেটের বাজারমূল্য প্রায় ৪৯৪ কোটি টাকা হতে পারে। কর্মকর্তারা বলেছেন, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে তামাকটি খোলাবাজারে চলে গেলে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাবে এবং বৈধ সিগারেট প্রস্তুতকারকেরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে।
অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর চট্টগ্রাম বন্দরে আটকে থাকা ১০ কনটেইনার তামাকের খালাস বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগে গ্লোবাল লিফ টোব্যাকো কোম্পানির বন্ড লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিচারাধীন। শুনানি ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত চালানটির খালাসের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।
"সাধারণ টেবিল টেস্টে এই তামাকপাতায় সহজে আগুন ধরছিল না। তাই এর মধ্যে অন্য কোনো ক্ষতিকর সাবস্ট্যান্স বা রাসায়নিক পদার্থ মেশানো আছে কি না, সে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম বন্দর, চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রেজভী আহমেদ (কাস্টমস গোয়েন্দা অতিরিক্ত মহাপরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫০ টন তামাক, ১০ কনটেইনার, ১.৪৫ ডলার/কেজি, ২১ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি, ৪৯৪ কোটি টাকা সিগারেটের সম্ভাব্য মূল্য
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!