📌 বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭.১৩% এ নেমেছে। তবে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ও জ্বালানির দাম বেড়েছে। আমদানিনির্ভর পণ্যের মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়ছে।
বাংলাদেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা স্বস্তি হলেও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ও জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ১৩ শতাংশে নেমেছে। আগের প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) এই হার ছিল ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ। তবে সবজির দাম কমার পাশাপাশি ডিম, আলু, মাছ, মাংস ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের দাম বাড়ার কারণে খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে প্রোটিনের অবদান ৫১ শতাংশের বেশি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 খাদ্য মূল্যস্ফীতি জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালে ৭.১৩% এ নেমেছে (আগের প্রান্তিক: ৮.৬৮%)
- 📌 প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার (ডিম, মাংস, মাছ, দুধ) মূল্যস্ফীতিতে ৫১% এর বেশি অবদান রাখছে
- 📌 জ্বালানি মূল্যস্ফীতি ১৭.৪ শতাংশে উঠেছে (আগের প্রান্তিক: ১৭ শতাংশ)
- 📌 আমদানিনির্ভর পণ্যের মূল্যস্ফীতির অবদান বেড়েছে ২৭ শতাংশে (আগের: ২৪.৯%)
- 📌 ৪৭ শতাংশ পরিবার খাদ্য সংগ্রহে ঋণ নিচ্ছে — বিবিএস জরিপ
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতির ধরন: জুলাই–সেপ্টেম্বর ২০২৬’ প্রতিবেদনে দেখা যায়, সবজির দাম কমার পাশাপাশি চাল ও গমের দাম কমলেও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের দাম বাড়ার কারণে খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষত পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের দাম বাড়ার ফলে সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি হলেও অন্যান্য খাদ্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব এখনও অব্যাহত রয়েছে।
সার্বিক মূল্যস্ফীতিও কমে গেছে — গড়ে ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ (আগের প্রান্তিক: ৯ দশমিক ২১ শতাংশ)। তবে জ্বালানি খাতে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে। কাঠ, গোবর ও পাটকাঠির মতো জ্বালানি পণ্যের দাম বেড়ে ২২ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে (আগের: ২১ দশমিক ৮ শতাংশ)। জ্বালানি তেল ও লুব্রিকেন্টের মূল্যস্ফীতিও ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষে জ্বালানির দাম বাড়ানো হলেও তা পরিসংখ্যানে প্রতিফলিত হয়নি। ফলে পরবর্তী মাসে জ্বালানি খাতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) জানিয়েছে, সরকার মাল্টা, আপেল, নাশপাতি ও আঙুরের ওপর শুল্ক-কর বাড়িয়েছে। ফলে ফলের দাম বেড়েছে। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের শুল্কও বাড়ানো হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সায়েমা হক বলেছেন, চার বছরের বেশি সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি থাকায় মানুষের জীবনে এর প্রভাব কম অনুভূত হয়। তবে দরিদ্রদের জন্য খাদ্য ব্যয় বেশি। খাদ্যের দাম বাড়লে তাদের খাবারের তালিকা কাটছাঁট করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।
"দীর্ঘ সময় খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেশি থাকলে দরিদ্রদের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। প্রোটিন-জাতীয় খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পুষ্টি চাহিদায় প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে শিশুদের পুষ্টিতে দুধের দাম বাড়ার প্রভাব বেশি।"
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপে দেখা গেছে, ৪৭ শতাংশ পরিবার খাদ্য সংগ্রহে ঋণ নিচ্ছে। মূল্যস্ফীতির চাপে গত দুই বছর ধরে সাধারণ মানুষের আয় ও খরচের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। মজুরি বাড়ার হার খাদ্য ও অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়ার চেয়ে ধীরগতিতে, ফলে আয় বাড়লেও আগের মতো পণ্য কেনা সম্ভব নয়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বাংলাদেশ ব্যাংক, অধ্যাপক সায়েমা হক (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭.১৩%, ৮.৬৮%, ৫১%, ১৭.৪%, ২২.১%, ৪৭%
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!