📌 ঢাকার যাত্রাবাড়ী ধলপুরে এসআরবি অভিযানে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান কারখানাশ্রমিক মারুফ। অভিযানের সময় গুলির উৎস নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে, কারণ এসআরবি সদস্যরা দাবি করেছেন তারা আকাশের দিকে ফাঁকা গুলি ছুড়েছিলেন। তবে নিহত তরুণের পরিবার দাবি করে, গুলি আসতো দূর থেকে
ঢাকার যাত্রাবাড়ী ধলপুরের একটি অন্ধকার ও আড়ালপূর্ণ এলাকায় এসআরবি অভিযানের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান কারখানাশ্রমিক মারুফ ওরফে দুখু মিয়া। ঘটনাস্থলে গুলির উৎস নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে, কারণ এসআরবি সদস্যরা দাবি করেছেন তারা আকাশের দিকে ফাঁকা গুলি ছুড়েছিলেন। তবে নিহত তরুণের পরিবার এবং স্থানীয়রা দাবি করছেন, গুলি আসতো দূর থেকে। ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিটি পল্লি এলাকার একটি পরিত্যক্ত চারতলা ভবনের চারপাশে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবীরা কারবার করতেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মারা যান মারুফ: ঢাকার ধলপুরে এসআরবি অভিযানের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান কারখানাশ্রমিক মারুফ (৪২)। তার স্ত্রী মীম আক্তার রুনাকে জানিয়েছিলেন, "তাড়াতাড়ি রান্না করো, অনেক ক্ষুধা লেগেছে। আমি আসছি" — কিন্তু আর ফিরে আসেননি তিনি।
- 📌 গুলির উৎস রহস্য: এসআরবি সদস্যরা দাবি করেছেন তারা আত্মরক্ষার্থে আকাশের দিকে চারটি ফাঁকা গুলি ছুড়েছিলেন। কিন্তু নিহত তরুণের পরিবার দাবি করে, গুলি আসতো দূর থেকে। ঘটনাস্থলে মাদকদ্রব্য (২৪৫টি ইয়াবা বড়ি + ১৩৯ পুরিয়া হেরোইন) পাওয়া গেছে।
- 📌 হামলার ঘটনা: চারজন মাদক কারবারিকে আটক করার চেষ্টা করছিলেন এসআরবি সদস্যরা। কিন্তু মাদকসেবীরা তাদের পরিচয় বুঝে ফেলে হামলা চালায়। হামলাকারীরা গুলি ছোড়ে, মারধর করে এবং পিস্তল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এরপর এসআরবি সদস্যরা চারটি গুলি ছুড়ে সরে আসেন।
- 📌 তদন্তের দাবি: মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) স্বাধীন তদন্তের দাবি করেছে। মারুফের শরীরে গুলির গতিপথ নিয়ে পুলিশ ও পরিবারের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার যাত্রাবাড়ী ধলপুরের সিটি পল্লি এলাকায় এসআরবি সদস্যরা মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছিলেন। অভিযানের সময় চারজন মাদক কারবারিকে আটক করার চেষ্টা করছিলেন তারা। কিন্তু মাদকসেবীরা তাদের পরিচয় বুঝে ফেলে হামলা চালায়। হামলাকারীরা গুলি ছোড়ে, মারধর করে এবং এসআরবি সদস্যদের পিস্তল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে এসআরবি সদস্যরা চারটি গুলি ছুড়ে সেখান থেকে সরে আসেন। ঘটনাস্থলে ২৪৫টি ইয়াবা বড়ি ও ১৩৯ পুরিয়া হেরোইন পাওয়া যায়।
এসআরবি-১০-এর অধিনায়ক মো. আসাদুজ্জামান জানান, হামলাকারীরা প্রথমে গুলি ছোড়ে। এরপর তাঁদের ঘিরে ধরে মারধর করে। তাঁদের মুঠোফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে দুই সদস্যের পিস্তল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়। তখন তাঁদের পক্ষ থেকে চারটি গুলি ছোড়া হয়। তিনি দাবি করেন, হামলাকারীদের দিক থেকেও ছয় থেকে আটটি গুলির শব্দ পাওয়া গেছে। এসআরবি সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে আসার সময়ও গুলির শব্দ শুনেছেন।
নিহত তরুণ মারুফের শরীরে গুলির গতিপথ নিয়ে পুলিশ ও পরিবারের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। মারুফের মা সেলিনা বেগম জানান, তাঁর ছেলের গলায় গুলি লেগেছিল। এজাহারে ডান কাঁধে গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ কর্মকর্তারা গলার দিক থেকে শরীরের নিচের অংশ পর্যন্ত গুলির গতিপথের কথা বলছেন। ফলে গুলি ঠিক কোন দিক থেকে এসেছিল, তা নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত ও ব্যালিস্টিক পরীক্ষার ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
"মাদক অপারেশন হয়েছে এবং সেখানে আমাদের সদস্যদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছিল। তাঁরা প্রাণ রক্ষার্থে ওখানে ফাঁকা গুলি করে সেখান থেকে সরে আসেন। এরপর হতাহতের ঘটনা কী আছে, সেটা তদন্তে বের হয়ে আসবে।"
ঘটনাস্থলটি হলো ধলপুর ওয়াসা গেটসংলগ্ন সিটি পল্লি এলাকা, যা স্থানীয়ভাবে আউটফল ও তেলেগু কলোনি নামেও পরিচিত। এলাকাটি অন্ধকার ও আড়ালপূর্ণ, যেখানে অর্ধনির্মিত ও পরিত্যক্ত ভবন রয়েছে। ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামি জানান, এলাকাটিতে গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করা কঠিন। অনেক স্থানে হেঁটে যেতে হয়। তিনি বলেন, "এই এলাকায় একটি পরিত্যক্ত চারতলা ভবন রয়েছে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবীরা কারবার করতেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকার যাত্রাবাড়ী ধলপুর, সিটি পল্লি এলাকা (আউটফল ও তেলেগু কলোনি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মারুফ ওরফে দুখু মিয়া (৪২), মীম আক্তার রুনা (স্ত্রী), মো. আসাদুজ্জামান (এসআরবি-১০ অধিনায়ক), মল্লিক আহসান উদ্দিন সামি (ওয়ারী উপকমিশনার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪৫টি ইয়াবা বড়ি, ১৩৯ পুরিয়া হেরোইন, চারটি গুলি (এসআরবি), ৬-৮টি গুলি (হামলাকারীরা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!