📌 কর্ণফুলী ইপিজেড দুই দশক ধরে বাংলাদেশের রফতানিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে ১৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য রফতানি করেছে। চট্টগ্রামের এই ইপিজেডে ১৪টি দেশের বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করেছে এবং বৈচিত্র্যময় পণ্য রফতানি করে দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে
দু’দশক ধরে বাংলাদেশের রফতানির ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে দাঁড়িয়েছে কর্ণফুলী রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (কর্ণফুলী ইপিজেড)। এই ইপিজেড ২০০৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া উদ্বোধন করে। দুই দশক ধরে এই এলাকায় ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্য রফতানি করেছে ১৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। ২০০৭ সালের নভেম্বর মাসে প্রথম রফতানি শুরু হয় পাওলো ফুটওয়্যার (বিডি) লি.-এর মাধ্যমে, যা ২০০৭-০৮ অর্থবছরে মাত্র ৯.৮৬ মিলিয়ন ডলার থেকে বর্তমানে ১৪,১৫৬.৪৬ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কর্ণফুলী ইপিজেড দুই দশক ধরে ১৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য রফতানি করেছে, যা বাংলাদেশের রফতানির ইতিহাসে একটি মাইলফলক
- 📌 ২০০৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কর্ণফুলী ইপিজেড উদ্বোধন করেন
- 📌 গার্মেন্টসের বাইরে তাঁবু, বাইসাইকেল, চামড়াজাত পণ্য, ফার্নিচার, ব্যাগ, আন্ডারগার্মেন্টস ও ফ্যাশন পণ্য রফতানি করে বৈচিত্র্যময় পণ্য শিল্প গড়ে তোলা হয়েছে
- 📌 বর্তমানে বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশের বিনিয়োগকারীরা কর্ণফুলী ইপিজেডে বিনিয়োগ করেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো চীন, তাইওয়ান, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত
- 📌 ২০০৬-০৭ অর্থবছরে ১.৯১ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ নিয়ে শুরু হওয়া ইপিজেডে বর্তমানে বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮৭.৩৩ মিলিয়ন ডলার
- 📌 চট্টগ্রাম স্টিল মিলসের জায়গায় গড়ে ওঠা এই ইপিজেডে ২৫৮টি শিল্পপ্লট রয়েছে, প্রতিটি ২ হাজার বর্গমিটার আয়তনের
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত কর্ণফুলী ইপিজেডের পথচলা শুরু হয় ১৯৯৮ সালে চিটাগং স্টিল মিলসের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর। চিটাগং স্টিল মিলসের জমি বেপজার হস্তান্তর করা হয় ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি ও ডিসেম্বর মাসে। প্রথম ধাপে ২২ ফেব্রুয়ারি ৭৪ একর এবং দ্বিতীয় ধাপে ২০ ডিসেম্বর ১৪৮.৪২ একর জমি হস্তান্তর করা হয়। এই জমিতে আধুনিক অবকাঠামো ও কারখানা গড়ে তোলা হয়, যা বর্তমানে বাংলাদেশের রফতানির একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
কর্ণফুলী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক বলেন, চিটাগং স্টিল মিলসের জমিতে ইপিজেড গড়ে তোলার পেছনে ছিল তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রচেষ্টা। তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে চিটাগং স্টিল মিলসের জমিকে ইপিজেডে রূপান্তর করার জন্য অনুরোধ জানান। এরপর ২০০৪ সালে জমি উন্নয়ন শুরু হয় এবং ২০০৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।
মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক আরও জানান, চিটাগং স্টিল মিলসের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া হয়েছিল। ১৯৯৯ সালের ৭ জুলাই চিটাগং স্টিল মিলস স্থায়ীভাবে কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এই এলাকায় কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হলো কর্ণফুলী ইপিজেডের প্রধান লক্ষ্য।
"চিটাগং স্টিল মিলসের জমিতে কর্ণফুলী ইপিজেড গড়ে তোলা হয়েছে। এই এলাকায় আধুনিক অবকাঠামো, কারখানা ও ইউটিলিটি সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। এখানে বর্তমানে ১৪টি দেশের বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করেছে।"
সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে কর্ণফুলী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক, বেপজার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো: তানভির হোসেন, বেপজার নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগ) আনোয়ার পারভেজ এবং কম্পবেলি গ্লোবাল লিমিটেডের সিইও লি হেঙ্গো উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, কর্ণফুলী ইপিজেডের মাধ্যমে বাংলাদেশের রফতানি শিল্প বৈচিত্র্যময় ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে। এখানে রফতানি করা পণ্যগুলো বিশ্বের বিভিন্ন প্রখ্যাত ব্র্যান্ড ও প্রতিষ্ঠানের কাছে সরবরাহ করা হয়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কর্ণফুলী নদীর তীরে, চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক (কর্ণফুলী ইপিজেড নির্বাহী পরিচালক), মো: তানভির হোসেন (বেপজার সদস্য)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪ বিলিয়ন ডলার (রফতানি), ২৫৮টি শিল্পপ্লট, ৭৮৭.৩৩ মিলিয়ন ডলার (বিনিয়োগ), ১০ কিলোমিটার (চট্টগ্রাম শহর থেকে দূরত্ব)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!