📌 চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল দেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারের উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালসের ৫৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে নির্মিতব্য এই প্রকল্পটি পুরো অঞ্চলের বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে
চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল দেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারের উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, এই প্রকল্প শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে। রোববার চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারের উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে লালদিয়া টার্মিনাল হবে মাইলফলক
- 📌 ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালস ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করছে এই প্রকল্পে
- 📌 চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের
- 📌 টার্মিনালটিতে থাকবে সাতটি শিপ-টু-শোর গ্যান্ট্রি ক্রেন, ৩২টি ইলেকট্রিক রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন ও ৪১টি ইলেকট্রিক টার্মিনাল ট্র্যাক্টর
- 📌 চট্টগ্রাম বন্দর দেশের ৯২ শতাংশ আমদানি-রফতানি ও ৯৮ শতাংশ কনটেইনার হ্যান্ডলিং পরিচালনা করে
📰 বিস্তারিত
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার বিষয়টি নিয়ে প্রায়ই আলোচনা হয়। আসলে এটি হওয়ার বিষয়, করার নয়। লালদিয়া টার্মিনালসহ চট্টগ্রামে আরো অনেক প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে, যার মাধ্যমে বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে। এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম সত্যিকারের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে উঠবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের নির্বাচিত সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব সরকার। সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষী অর্থনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক কাঠামো শক্তিশালী করা হচ্ছে।’
ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালসের বিনিয়োগ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের শীর্ষ বন্দরগুলো পরিচালনা করে। তারা লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণে ৫৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে, যা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পাবে। এপিএম টার্মিনালসের বাংলাদেশে আসাটা একটি মাইলস্টোন। তারা লালদিয়ায় আধুনিক বন্দর নির্মাণ করবে, যার জন্য সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করছে।’
সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। এখানে বাণিজ্যিক হাব রয়েছে, যা আরো প্রসারিত হচ্ছে। বন্দরে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে আলোচনা চলছে। লালদিয়া এপিএম টার্মিনাল পিপিপি পদ্ধতিতে নির্মিত হচ্ছে, যেখানে থাকবে অত্যাধুনিক সুবিধা।’
এপিএম টার্মিনালসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রমেশ ডেভিড বলেন, ‘টার্মিনালটিতে অ্যাডভান্সড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। সাতটি শিপ-টু-শোর গ্যান্ট্রি ক্রেন, ৩২টি ইলেকট্রিক রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন এবং ৪১টি ইলেকট্রিক টার্মিনাল ট্র্যাক্টর থাকবে। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।’
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান গেটওয়ে হিসেবে কাজ করে। দেশের ৯২ শতাংশ আমদানি-রফতানি এবং ৯৮ শতাংশের বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং এই বন্দরেই সম্পন্ন হয়। আগামী ১০ বছরে আমাদের কনটেইনার হ্যান্ডলিং দ্বিগুণ হবে।’
‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা দেশের অর্থনীতিকে একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম বন্দর, লালদিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ৭টি ক্রেন, ৩২টি ইলেকট্রিক ক্রেন, ৪১টি ট্র্যাক্টর, ৯২ শতাংশ আমদানি-রফতানি, ৯৮ শতাংশ কনটেইনার হ্যান্ডলিং
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!