📌 নীলফামারীর সৈয়দপুরে প্রশাসনকে অবহিত করার পরও থামানো যায়নি চতুর্থ শ্রেণির এক শিশুর বাল্যবিবাহ। কাজীর মাধ্যমে কাবিন সম্পন্ন হওয়া ওই শিশু তিন দিন স্বামীর সংসারে কাটিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় প্রশাসনকে জানানোর পরও থামানো যায়নি চতুর্থ শ্রেণির এক শিশুশিক্ষার্থীর বাল্যবিবাহ। মাত্র ১৩ বছর বয়সে কাজীর মাধ্যমে কাবিন সম্পন্ন হওয়া ওই শিশু তিন দিন ধরে স্বামীর সংসারে অবস্থান করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার কারণে ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় চতুর্থ শ্রেণির এক শিশুর বাল্যবিবাহ সম্পন্ন হয়েছে
- 📌 শিশুটির বর্তমান বয়স ১৩ বছর ১ মাস ৬ দিন
- 📌 প্রশাসনকে অবহিত করার পরও থামানো যায়নি বিয়ের আয়োজন
- 📌 বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠানের কোনো ছাত্রীর বিয়ে হয়েছে বলে তাঁর জানা ছিল না
- 📌 উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জানান, বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তাঁদের কিছু করার নেই বলে জানিয়েছেন
📰 বিস্তারিত
সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াশোনা করে এমন এক শিশুকে গোপনে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকার পরদিনই তাঁকে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের কার্যক্রম সম্পন্ন হয় কামারপুকুর ইউনিয়নের নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার মাওলানা মোতাসিম বিল্লাহর মাধ্যমে। শিশুটির জন্ম তারিখ ২০১৩ সালের ২২ জুলাই হওয়ায় তাঁর বর্তমান বয়স দাঁড়ায় ১৩ বছর ১ মাস ৬ দিন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে বাল্যবিবাহের খবর জানানোর পরও ঘটনাটি থামানো যায়নি। সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাব্বির হোসেন ঘটনার খবর পেয়ে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মোখছেদুল ইসলামকে নির্দেশ দেন বিয়েটি বন্ধ করার জন্য। সচিব গ্রাম পুলিশ ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যকে শিশুটির নানির বাড়িতে পাঠান। কিন্তু তাঁরা ফিরে আসার পর রাতে শিশুটিকে তাঁর নানির বড় বোনের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেই বিয়ের কাবিন সম্পন্ন করা হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঘটনার বিষয়ে জানতে পারেন পিয়ন ও কয়েকজন শিক্ষার্থীর মাধ্যমে। তিনি জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠানের কোনো ছাত্রীর বিয়ে হয়েছে বলে তাঁর জানা ছিল না। তিনি আরও বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে আর আমাদের কিছুই করার নেই। তবে মেয়েটির অভিভাবকদের ডেকে কেন বিয়ে দেওয়া হয়েছে তা জানার চেষ্টা করব।’
বিয়ের শিকার শিশুটি সংবাদকর্মীদের জানায়, ‘আমার বিয়ে হয়েছে। আমি এখন স্বামীর সংসার করব। স্কুলে আর যাওয়া হবে না।’ ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটনে বরের বাড়িতে গেলে বর ও কনেকে সরিয়ে ফেলা হয়। পরে শিশুটির বড় নানি ও বরের মা বিয়ের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বর ও কনেকে ডাকেন।
‘মূলত ছেলে ও মেয়ের আত্মীয়স্বজনের চাপেই বিয়েটা হয়েছে। তবে এটা আমার ভুল হয়েছে। ভবিষ্যতে আর এমন কাজ করব না।’ — কাজী মাওলানা মোতাসিম বিল্লাহ
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সৈয়দপুর উপজেলা, কামারপুকুর ইউনিয়ন, নীলফামারী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিশুশিক্ষার্থী, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ বছর, ২২ জুলাই ২০১৩
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!