📌 চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সিইউসিএসইউ অফিস সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমানের নেতৃত্বে সহকারী অধ্যাপক হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভকে গলা ধরে টেনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার সমালোচনা। একাধিক ভিডিও প্রমাণ সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেই। দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদকীয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের অফিস সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমানের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী সহকারী অধ্যাপক হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভকে গলা ধরে টেনে হিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ক্যাম্পাস রাজনীতি ও বিশ্ববিদ্যালয় শাসনের জন্য এক নজিরবিহীন নিম্নস্তরের পরিচয় দেয়। এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং প্রকাশ্য শারীরিক সহিংসতা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আবদুল্লাহ আল নোমান (সিইউসিএসইউ অফিস সম্পাদক) ও তার সঙ্গীরা সহকারী অধ্যাপক হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভকে গলা ধরে টেনে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান
- 📌 একাধিক ভিডিও ক্লিপে স্পষ্টভাবে নোমান ও অন্যদের শিক্ষককে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যেতে দেখা যায়
- 📌 এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় — প্রকাশ্য শারীরিক সহিংসতা, যা ব্যাখ্যার অতীত
- 📌 নির্বাচিত ছাত্রনেতা সহিংসতা ঠেকানোর বদলে নিজেই তা নেতৃত্ব দিয়েছেন
- 📌 সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরও নোমানের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি
- 📌 নোমানের দাবি "শিক্ষককে হয়রানি করা হয়নি" — এটি সাধারণ বুদ্ধির অপমান
- 📌 প্রক্টর নিশ্চিত করেছেন শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত চলছে
📰 বিস্তারিত
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় শুধু হামলা নয় — বরং এটি যে নৈতিক পতনের পরিচয় দেয় তা। একজন নির্বাচিত ছাত্রনেতা যাঁর সহিংসতা ঠেকানোর কথা ছিল, তিনি নিজেই তার নেতৃত্ব দিলেন। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই নীরবতা অক্ষম্য।
শিক্ষককে গলা ধরে টেনে নিয়ে যাওয়া নোমানের দাবি অনুযায়ী "সুরক্ষামূলক কাজ" ছিল না — এটি হামলা। "কিছু শিক্ষার্থী তাঁকে পেটাতে চেয়েছিল" — এই কথা তাঁর দায়িত্ব থেকে তাঁকে মুক্ত করে না। উল্টো এটি নিশ্চিত করে যে এটি ছাত্রনেতার নেতৃত্বে একটি মব ছিল। "শিক্ষককে হয়রানি করা হয়নি" দাবি সাধারণ বুদ্ধি ও মেধার অপমান।
"বিশ্ববিদ্যালয় হলো যথাযথ প্রক্রিয়া বজায় রাখার স্থান, মব রুলের নয়। শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে প্রতিষ্ঠানের সুস্পষ্ট তদন্ত প্রক্রিয়া রয়েছে। তদন্ত চলাকালীন নিজ হাতে আইন তুলে নেওয়া আইনশৃঙ্খলার অভাব ছাড়া আর কিছুই নয়।" — দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদকীয়
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অস্বস্তিকর প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন দিনের আলোয় এমন সহিংসতা কীভাবে ঘটল? শিক্ষককে কেন সুরক্ষা দেওয়া হলো না? প্রচুর ভিজ্যুয়াল প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও আবদুল্লাহ আল নোমানের বিরুদ্ধে কেন কোনো ব্যবস্থা ঘোষণা করা হলো না? প্রশাসন নিষ্ক্রিয় থাকার মাধ্যমে কার্যত ক্যাম্পাস রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে সহিংসতাকে স্বাভাবিক করছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের উদ্ধৃতি দিয়ে এই কাজকে বৈধতা দেওয়া ইতিহাসের গভীর বিকৃতি। নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ থেকে জন্ম নেওয়া একটি আন্দোলনকে বাধ্যবাধকতা ও শারীরিক নির্যাতন বৈধ করতে ব্যবহার করা তার আত্মত্যাগকে হেয় করে এবং তার মূল্যবোধের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেম
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
- 👤 আক্রান্ত: হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভ — সহকারী অধ্যাপক
- 👤 আক্রমণকারী: আবদুল্লাহ আল নোমান — অফিস সম্পাদক, সিইউসিএসইউ
- 📋 প্রমাণ: একাধিক ভিডিও ক্লিপ (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্য)
- ⚖️ শিক্ষকের বিরুদ্ধে: একাধিক তদন্ত চলমান (প্রক্টর নিশ্চিত)
- 📝 ধরন: সম্পাদকীয় (দ্য ডেইলি স্টার)
- 📋 উৎস: দ্য ডেইলি স্টার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!