📌 গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) মাত্র ২ হাজার ১৬০টি আসনে ১০ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮০% হলের বাইরে থাকতে বাধ্য। আবাসন সংকটের কারণে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে শিক্ষার্থীদের ওপর।
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটের কঠিন বাস্তবতা প্রকাশ পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১০ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ২ হাজার ১৬০টি আসনে আবাসন সুবিধা রয়েছে, যার ফলে প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী হলের বাইরে থাকতে বাধ্য। ক্যাম্পাসের আশপাশের মেস ও ভাড়া বাসায় থাকতে বাধ্য শিক্ষার্থীদের ওপর অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত চাপ বাড়ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গোবিপ্রবিতে মোট ১০ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ২ হাজার ১৬০টি আসনে আবাসন সুবিধা — ৮০ শতাংশ হলের বাইরে থাকতে বাধ্য
- 📌 পাঁচটি আবাসিক হলে (বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, শহীদ তিতুমীর, বনলতা, অপরাজিতা) মোট আসন ২ হাজার ১৬০টি — মেয়েদের জন্য মাত্র ৮০০টি আসন
- 📌 মেস ও ভাড়া বাসায় থাকতে বাধ্য শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি খরচ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
- 📌 সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী লাবিবা তাসফিয়া বলেন, ‘বাসাভাড়া, খাবার ও যাতায়াতের খরচে পরিবারকে অতিরিক্ত চাপ পড়ছে’
- 📌 অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী রেদোয়ান ইসলাম সিয়াম জানান, ‘সন্ধ্যার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে অংশ নিতে পারছেন না নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে’
- 📌 বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. সোহেল হাসান বলেন, ‘২০ শতাংশ শিক্ষার্থী মাত্র আবাসন সুবিধা পাচ্ছেন; নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সংকট কমবে’
📰 বিস্তারিত
গোবিপ্রবিতে বর্তমানে ৯টি অনুষদের অধীনে ৩৩টি বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। প্রতি বছর নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও আবাসিক হলের আসন সংখ্যা বাড়েনি। ফলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবাসন সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি আবাসিক হলের মধ্যে বিজয় দিবস হলে ৪০০টি, স্বাধীনতা দিবস হলে ৩৬২টি, শহীদ তিতুমীর হলে ৬০৮টি, বনলতা হলে ৩৪০টি এবং অপরাজিতা হলে ৪৫০টি আসন রয়েছে। মোট আসন সংখ্যা ২ হাজার ১৬০টি।
হলে আসন না পেয়ে শিক্ষার্থীদেরকে ক্যাম্পাসের আশপাশের এলাকায় মেস বা ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে। বিকল্প কম থাকায় তুলনামূলক বেশি ভাড়া, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশসহ বিভিন্ন শর্ত মেনে থাকতে হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী লাবিবা তাসফিয়া বলেন, ‘মেয়েদের জন্য আবাসিক হলে আসন ৮০০টিরও কম, যা শিক্ষার্থীর তুলনায় অপ্রতুল। এছাড়াও একটি ছাত্রী হল এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। ফলে অনেক ছাত্রীকে ক্যাম্পাসের বাইরে থাকতে হচ্ছে।’
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী রেদোয়ান ইসলাম সিয়াম জানান, ‘হলে আসন না পাওয়ায় আমাদের মেস বা ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে। এতে বাসাভাড়া, খাবার ও যাতায়াতের অতিরিক্ত খরচের পাশাপাশি নিরাপত্তা উদ্বেগ থাকে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শেষে বাসায় ফেরার সময় নিরাপত্তাহীনতা কাজ করে। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় কার্যক্রমে অংশ নেওয়া সম্ভব হয় না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা দিবস হলের প্রভোস্ট সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর তুলনায় পাঁচটি আবাসিক হলে আসনসংখ্যা অনেক কম। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আমাদের কাছে এলেও আসন না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না।’ তিনি আরও বলেন, ‘ছেলেদের জন্য আরও তিনটি এবং মেয়েদের জন্য দুটি হল নির্মাণ করা গেলে আবাসনসংকট অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।’
"আবাসন কোনো বিলাসিতা নয়; এটি শিক্ষার্থীর নিরাপদ ও স্বাভাবিক শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।" — রেদোয়ান ইসলাম সিয়াম
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. সোহেল হাসান (উপাচার্য), ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান (প্রভোস্ট সহকারী), লাবিবা তাসফিয়া, রেদোয়ান ইসলাম সিয়াম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০ শতাংশ (হলের বাইরে থাকা শিক্ষার্থী), ১০ হাজার (মোট শিক্ষার্থী), ২ হাজার ১৬০টি (আবাসিক হলের আসন), ৮০০টি (মেয়েদের জন্য আসন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!