📌 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম জনপ্রশাসনকে নাগরিকবান্ধব করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, নতুন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য একাডেমিক গবেষণা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার প্রয়োজন। তিনি সরকারি অর্থের সীমাবদ্ধতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল গঠনের ও দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম জনপ্রশাসনকে নাগরিকবান্ধব করার জন্য শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান মজবুত করতে শিক্ষক ও গবেষকদের উচ্চমানের গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 উপাচার্য ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, জনপ্রশাসনকে নাগরিকবান্ধব করার জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক ও একাডেমিক শক্তি প্রয়োজন।
- 📌 ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এনেছে, কিন্তু নতুন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রম জরুরি।
- 📌 গবেষণার জন্য অর্থের অভাব থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল গঠনের ও দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।
- 📌 লোকপ্রশাসন বিভাগের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উপাচার্য বলেছেন, কর্মকর্তাদের মূল দায়িত্ব নাগরিকদের সেবা করা, না শাসন চালানো।
- 📌 সম্মেলনে উপস্থাপিত গবেষণাপত্র রাষ্ট্রকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ রূপরেখা হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের উদ্যোগে ‘পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, জনপ্রশাসন ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত সরকারের সময়ে জনপ্রশাসনকে অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল, যার ফলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনপ্রশাসনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
উপাচার্য বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। তিনি মন্তব্য করেন, নতুন প্রজন্মের তরুণরা শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য নয়, বৈষম্যহীন ও আইনের শাসনভিত্তিক একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিল। তিনি বলেন, গণআন্দোলন অন্যায় শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারে, তবে উন্নত ও নতুন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা এবং একাডেমিক গবেষণা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত নীতি সংস্কার, নাগরিক অধিকার ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক গবেষণাপত্রগুলো রাষ্ট্রকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ রূপরেখা হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি জনপ্রশাসনকে পুরনো ধ্যানধারণা থেকে বের হয়ে আরও উন্মুক্ত ও নিরপেক্ষ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কর্মকর্তাদের মনে রাখতে হবে—তাদের মূল দায়িত্ব নাগরিকদের সেবা করা, নাগরিকদের ওপর শাসন চালানো নয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লোকপ্রশাসন বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. সৈয়দা লাসনা কবীর। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এবং বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম।
"আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও স্বতন্ত্র অবস্থানে নিতে হলে শিক্ষক ও গবেষকদের উচ্চমানের গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: উপাচার্য ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ অক্টোবর (সম্মেলনের তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!