📌 আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ জন শিক্ষক ও কর্মকর্তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন শিক্ষক ও আটজন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে। সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চূড়ান্ত রায়ের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা নেয়। রংপুরের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিনজন শিক্ষক ও আটজন কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মোট ১১ জনকে স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১১ জন শিক্ষক ও কর্মকর্তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে — এর মধ্যে ৩ জন শিক্ষক ও ৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে।
- 📌 ১ অক্টোবর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য সচিব ও রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান এই সিদ্ধান্তের নিশ্চয়তা দেন।
- 📌 ১২৩তম সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেখানে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলীর সভাপতিত্ব ছিল।
- 📌 ৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
- 📌 ১৬ জুলাই ২০২৪ কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন শহিদ আবু সাঈদ।
📰 বিস্তারিত
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চূড়ান্ত রায়ের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা নেয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই ২০২৪-এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১নং গেটে পুলিশের গুলিতে শহিদ হন আবু সাঈদ। তার মৃত্যুর পর দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং বিচার দাবি করে আন্দোলন চলতে থাকে।
গত ৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর রায়ের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ট্রাইব্যুনালের রায়ের কপি পাওয়ার পর বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করা হয়। ১ অক্টোবর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য সচিব ও রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান এই সিদ্ধান্তের নিশ্চয়তা দেন।
সিন্ডিকেট সভায় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলীর সভাপতিত্বে বিস্তারিত আলোচনা হয়। স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম। এছাড়াও বহিষ্কৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান ওরফে তুফান, সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান পলাশ, এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নিরাপত্তাকর্মী নূর আলম মিয়া এবং এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন।
"শহিদ আবু সাঈদের হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া আদেশের কপি আমরা গত পরশুদিন পেয়েছি। কপি পাওয়ার পর বিষয়টি সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করা হয়। শহিদ আবু সাঈদের প্রতি সম্মান এবং তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।"
প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সূত্রে জানা যায়, ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষায় আরও সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি), রংপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান, প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী, শহিদ আবু সাঈদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ জন বহিষ্কৃত, ৩ জন শিক্ষক, ৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী, ১২৩তম সিন্ডিকেট সভা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!