📌 কোরআনের ৫৫ নম্বর সুরা রহমানে আল্লাহর অসীম রহমত, সৃষ্টির বিস্ময়কর নেয়ামত এবং মানুষের কৃতজ্ঞতার আহ্বান তুলে ধরা হয়েছে। এই ৭৮ আয়াতবিশিষ্ট সুরায় আল্লাহর করুণা, জান্নাত ও জাহান্নামের বিবরণ এবং সৃষ্টির সৌন্দর্য বর্ণিত হয়েছে
কোরআনের ৫৫ নম্বর সুরা রহমানে আল্লাহর অসীম রহমত, মহাবিশ্বের সৃষ্টির বিস্ময়কর নেয়ামত এবং মানুষের প্রতি তাঁর অসীম অনুগ্রহের কথা অত্যন্ত গভীরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এই সুরাটি মোট ৭৮টি আয়াত নিয়ে গঠিত এবং এর বিষয়বস্তু ও গুরুত্ব নিয়ে মুফাসসিরদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। সুরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে কিনা তা নিয়ে মতভেদ থাকলেও, এর বিষয়বস্তু ও ভাষার কারণে অধিকাংশ মুফাসসির একে মক্কি সুরা হিসেবে গণ্য করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **সুরা রহমানের আয়াত সংখ্যা**: মোট ৭৮টি আয়াত নিয়ে গঠিত এই সুরাটি কোরআনের ৫৫ নম্বর সুরা।
- 📌 **মূল বিষয়বস্তু**: আল্লাহর নেয়ামত, কৃতজ্ঞতার আহ্বান, জান্নাত ও জাহান্নামের বিবরণ এবং মহাবিশ্বের অবিনশ্বরতা বর্ণিত হয়েছে।
- 📌 **কৃতজ্ঞতার বার্তা**: পুরো সুরায় ৩১ বার ‘তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?’ আয়াতটি ব্যবহৃত হয়েছে।
- 📌 **সৃষ্টির নেয়ামত**: কোরআন শিক্ষা, মানুষের সৃষ্টি, বাক্শক্তি, সূর্য-চন্দ্রের আবর্তন, প্রকৃতির ভারসাম্য, সমুদ্রের গভীরতা এবং জান্নাতের সৌন্দর্য বর্ণিত হয়েছে।
- 📌 **রাসুলুল্লাহ (সা.) এর উক্তি**: হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘প্রতিটি জিনিসের আলাদা সৌন্দর্য রয়েছে; আর কোরআনের সৌন্দর্য হলো সুরা আর-রহমান।’
📰 বিস্তারিত
সুরা রহমানে আল্লাহর অসীম রহমত এবং সৃষ্টির বিস্ময়কর নেয়ামতের কথা অত্যন্ত সুন্দরভাবে বর্ণিত হয়েছে। এই সুরায় ‘ফাবিআইয়ি আলাই রাব্বিকুমা তুকাজজিবান’ (অতএব তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?) আয়াতটি বারবার পুনরাবৃত্তি করে মানুষকে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
সুরাটিতে আল্লাহর নেয়ামতের মধ্যে রয়েছে কোরআন শিক্ষা, মানুষের সৃষ্টি, বাক্শক্তি প্রদান, সূর্য ও চন্দ্রের সুশৃঙ্খল আবর্তন, প্রকৃতির ভারসাম্য, সমুদ্রের গভীরতা, ফল-ফসল এবং জান্নাতের অনাবিল সৌন্দর্য। এছাড়াও, জান্নাতের দুটি উদ্যানের বর্ণনা এবং জাহান্নামের শাস্তির বিবরণ দেওয়া হয়েছে, যা মানুষকে পুণ্য অর্জন ও পাপাচার থেকে বিরত থাকতে উদ্বুদ্ধ করে।
সুরা রহমানের গুরুত্ব সম্পর্কে একটি হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মক্কার কুরাইশরা আল্লাহর ‘রহমান’ নামটির ব্যাপারে বিদ্রূপ করত। তারা বলত, ‘রহমান আবার কে?’ তাদের এই অস্বীকারের জবাব হিসেবে আল্লাহ তাআলা এই সুরা অবতীর্ণ করেন। নবীজি (সা.) বলেছেন, এই সুরা পাঠের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে তা ইহকাল ও পরকালের জন্য কল্যাণকর হয়।
"প্রতিটি জিনিসের আলাদা সৌন্দর্য রয়েছে; আর কোরআনের সৌন্দর্য হলো সুরা আর-রহমান।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মক্কা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুফাসসিররা, হজরত আলী (রা.), রাসুলুল্লাহ (সা.)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৫ (সুরা নম্বর), ৭৮ (আয়াত সংখ্যা), ৩১ (বার কৃতজ্ঞতার আহ্বান)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!