📌 ফেসবুক ও মেসেঞ্জার অনলাইনে নারীর প্রতি সহিংসতার প্রধান প্ল্যাটফর্ম। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও ডিজিট্যালি রাইটের গবেষণায় দেখা গেছে, প্রযুক্তিসহায়ক ৮ ধরনের সহিংসতার শিকার ৪৬% নারী, সক্রিয় ব্যবহারকারীদের মধ্যে এই হার ৬৪%। শিক্ষার্থী ও তরুণীরা সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী
অনলাইনে নারীর প্রতি সহিংসতার প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ফেসবুক ও মেসেঞ্জার উঠে এসেছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও ডিজিট্যালি রাইটের গবেষণায় দেখা গেছে, প্রযুক্তিসহায়ক সহিংসতার শিকার ৪৬ শতাংশ নারী, যেখানে সক্রিয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে এই হার ৬৪ শতাংশ। গবেষণায় ১৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সী ৫২১ জন নারীর ওপর জরিপ চালানো হয়, যা ৭ থেকে ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ সালের মধ্যে সম্পন্ন হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফেসবুক ও মেসেঞ্জার অনলাইনে নারীর প্রতি সহিংসতার প্রধান প্ল্যাটফর্ম — মেসেঞ্জারে ৪০ শতাংশ, ফেসবুকে ৩৭ শতাংশ নারী শিকার
- 📌 ৮ ধরনের সহিংসতা উল্লেখ করা হয়েছে: হয়রানি, অর্থনৈতিক শোষণ, যৌন নির্যাতন, পরিচয় অপব্যবহার, প্রাইভেসি লঙ্ঘন, সাইবার আক্রমণ, অ্যানোনিমাস অ্যাপ ব্যবহার ও এআই/ডিপফেক প্রযুক্তি
- 📌 শিক্ষার্থী ও তরুণী সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী — ১৫-২৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে সহিংসতার হার ৪৯ শতাংশ, বিশ্ববিদ্যালয় পাস নারীদের মধ্যে ৭৭ শতাংশ
- 📌 হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক শোষণ সবচেয়ে বেশি — ৫৩ শতাংশ নারী এর শিকার, অর্থনৈতিক শোষণে ৩৭ শতাংশ
- 📌 সহিংসতার শিকার নারীদের মাত্র ৫ শতাংশ পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন, ৫৬ শতাংশের অভিযোগের কোনো পদক্ষেপ নেই প্ল্যাটফর্ম থেকে
- 📌 ৭২ শতাংশ নারী মনে করেন, অনলাইনে সহিংসতার শিকার হলে ভুক্তভোগীকেই দোষারোপ করা হয়
📰 বিস্তারিত
‘অ্যাবিউজ বিয়ন্ড দ্য স্ক্রিন’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। গবেষণায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেটের সিটি করপোরেশনভুক্ত এলাকাসহ উপজেলায় জরিপ চালানো হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, তরুণী ও শিক্ষিত নারীরা এই ধরনের সহিংসতার বেশি শিকার।
গবেষণায় উল্লেখিত ৮ ধরনের সহিংসতার মধ্যে হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক শোষণ সবচেয়ে বেশি — ৫৩ শতাংশ নারী এর শিকার। তুলনামূলক বেশি বয়সী নারী ও গৃহবধূরা অর্থনৈতিক শোষণ ও প্রতারণার শিকার হয়েছেন বেশি। ভুয়া তথ্যের ফাঁদে ফেলে তাদের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। যৌন ও ছবিভিত্তিক সহিংসতার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী — এই ধরনের সহিংসতার শিকার ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী।
এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে নারীর মুখাবয়ব ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য বিকৃত করে ব্ল্যাকমেল করার প্রবণতা দেখা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে সাবেক প্রেমিকেরা নারীদের নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। মানহানি করতে দলবদ্ধভাবে নারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট বা পোস্টে হামলা ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করা হচ্ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রামের নারী ও অভিবাসীদের পরিবারের সদস্যরা ইমো ও টিকটকের মাধ্যমে বেশি হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। অন্যদিকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে শহরের নারীরা ব্ল্যাকমেল ও সম্মতি ছাড়া ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার শিকার হচ্ছেন বেশি। সহিংসতার শিকার হয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে অভিযোগ করা নারীদের ৫৬ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্ল্যাটফর্মগুলো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
"এ সহিংসতা একটি পদ্ধতিগত সংকট। সংকটের কারণ ও সমাধান নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার। নারীর প্রতি বৈষম্য বন্ধ না হলে তাঁদের বিরুদ্ধে সহিংসতার নতুন নতুন রূপ দেখা দিতে থাকবে।"
— বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, রাজশাহী, সিলেট (সিটি করপোরেশন ও উপজেলা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফওজিয়া মোসলেম (বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি), মিরাজ আহমেদ চৌধুরী (ডিজিট্যালি রাইটের প্রতিষ্ঠাতা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫২১ জন নারী জরিপে অংশগ্রহণ, ৮ ধরনের সহিংসতা, ৬৪% সক্রিয় নারী শিকার, ৪৯% তরুণী শিক্ষার্থী শিকার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!