📌 কণ্ঠনালির ক্যানসার ধূমপান, মদ্যপান ও অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাদ্য গ্রহণের কারণে হতে পারে। গলার স্বর পরিবর্তন, শ্বাসকষ্ট ও গলায় আটকে থাকার অনুভূতি লক্ষণ। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা করলে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব
কণ্ঠনালির ক্যানসার একটি মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা যা ধূমপান, মদ্যপান এবং অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাদ্য গ্রহণের মতো জীবনশৈলীর কারণে হতে পারে। স্বরযন্ত্র বা ল্যারিংসে অবস্থিত ভোকাল কর্ডের আক্রমণে এই রোগ দেখা দেয়। এতে গলাব্যথা, কণ্ঠস্বর পরিবর্তন এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কণ্ঠনালির ক্যানসারের অন্যতম কারণ হলো ধূমপান, মদ্যপান, জর্দা, সাদাপাতা, অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাদ্য গ্রহণ, অতিরিক্ত গরম খাবার খাওয়া এবং কণ্ঠনালির অতি ব্যবহার।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কণ্ঠনালির ক্যানসার হতে পারে জন্মগত সমস্যা, প্রদাহ, পলিপ, টিউমার বা ক্যানসার থেকে
- 📌 ধূমপান, মদ্যপান, জর্দা, সাদাপাতা, অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাদ্য ও গরম খাবার ক্যানসারের প্রধান কারণ
- 📌 গলার স্বর পরিবর্তন ১৫ দিনের বেশি স্থায়ী হলে বা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে
- 📌 শ্বাসকষ্ট, গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতি, ঢোক গিলতে অসুবিধা, গলা ফুলে যাওয়া ও কান ব্যথা লক্ষণ
- 📌 প্রাথমিক পর্যায়ে রেডিওথেরাপি, শেষ পর্যায়ে অপারেশন চিকিৎসা পদ্ধতি
- 📌 ফাইবার অপটিক ভিডিও ল্যারেংগসকপি ও হিস্টোপ্যাথলজি পরীক্ষা দ্বারা ক্যানসার শনাক্ত করা যায়
📰 বিস্তারিত
স্বরযন্ত্র বা ল্যারিংসে দুটি ভোকাল কর্ড থাকে, যার কম্পনের মাধ্যমে আমরা কথা বলি। ল্যারিংস বা ভোকাল কর্ড আক্রান্ত হলে গলাব্যথা, কণ্ঠস্বর পরিবর্তন এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। কণ্ঠনালির ক্যানসার একটি মারাত্মক রোগ যা ধূমপান, মদ্যপান, জর্দা, সাদাপাতা, অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাদ্য গ্রহণ, অতিরিক্ত গরম খাবার খাওয়া এবং কণ্ঠনালির অতি ব্যবহারের কারণে হতে পারে।
কণ্ঠনালির ক্যানসারের উপসর্গগুলির মধ্যে অন্যতম হলো কণ্ঠস্বরের আকস্মিক পরিবর্তন, যা ১৫ দিনের বেশি স্থায়ী হচ্ছে বা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া শ্বাসকষ্ট, গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতি, ঢোক গিলতে অসুবিধা, গলা ফুলে যাওয়া বা গলার গ্ল্যান্ড ফুলে যাওয়া এবং কান ব্যথা হতে পারে। কারণ, একই নার্ভ কান ও কণ্ঠনালির সঙ্গে সংযুক্ত।
অধ্যাপক ডা. এম আলমগীর চৌধুরী, ইএনটি বিভাগের প্রধান, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ, ঢাকার ধানমন্ডি থেকে জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগ নির্ণয় করা গেলে প্রায় সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। কিন্তু রোগ শনাক্ত হতে দেরি হলে খুব বেশি সুফল পাওয়া যায় না। তিনি বলেন, যদি কারও দুই সপ্তাহের বেশি গলার স্বর পরিবর্তন বা ভাঙা থাকে বা এই স্বর পরিবর্তন ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়, তবে অবশ্যই নাক, কান ও গলা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
"কণ্ঠনালির ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা করলে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। কিন্তু রোগ শনাক্ত হতে দেরি হলে খুব বেশি সুফল পাওয়া যায় না।"
চিকিৎসা পদ্ধতিতে ফাইবার অপটিক ভিডিও ল্যারেংগসকপির মাধ্যমে সহজে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব। হিস্টোপ্যাথলজি করলে ক্যানসার শনাক্ত করা যায়। রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি ও অপারেশনের মাধ্যমে কণ্ঠনালির ক্যানসারের চিকিৎসা করা যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হলে রেডিওথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা করানো হয়। শেষ পর্যায়ে এলে অপারেশন করতে হয়। অপারেশনের পর কথা বলার জন্য আলাদা ব্যবস্থা নিতে হয়, যেমন কৃত্রিম স্বরযন্ত্রের সংযোজন অথবা খাদ্যনালির মাধ্যমে কথা বলা, যা বিশেষ ব্যায়ামে শেখানো হয়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ, ধানমন্ডি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক ডা. এম আলমগীর চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ দিন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!