📌 রাশিয়া ইথিওপিয়াকে ১২টি সু-৩৫ যুদ্ধবিমান সরবরাহ করেছে এবং এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রদানের পরিকল্পনা করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে রাশিয়ার প্রভাব বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবং ইথিওপিয়ার অভ্যন্তরীণ সংঘাত মোকাবেলায় সামরিক সক্ষমতা জোরদার করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে
রাশিয়া ইথিওপিয়াকে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১২টি সু-৩৫ যুদ্ধবিমান সরবরাহ করেছে এবং চারটি এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রদানের পরিকল্পনা করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে রাশিয়ার প্রভাব বৃদ্ধি এবং ইথিওপিয়ার অভ্যন্তরীণ সংঘাত মোকাবেলায় সামরিক সক্ষমতা জোরদার করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাশিয়া ইথিওপিয়াকে ১২টি সু-৩৫ যুদ্ধবিমান সরবরাহ করেছে এবং চারটি এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রদানের পরিকল্পনা করেছে।
- 📌 ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ মস্কো সফরে এই চুক্তির কথা ঘোষণা করেছেন।
- 📌 রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ে সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
- 📌 ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাশিয়া-ইথিওপিয়া বাণিজ্যের পরিমাণ ১৩০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।
- 📌 ইথিওপিয়া পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন না করে বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে।
- 📌 ইথিওপিয়ার সামরিক অভিযানে নতুন যুদ্ধবিমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
- 📌 ইরিত্রিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের আশঙ্কায় এস-৪০০ ব্যবস্থা ইথিওপিয়ার সীমিত বিমানবাহিনী ও ড্রোন মোকাবেলায় কার্যকর হতে পারে।
📰 বিস্তারিত
রাশিয়া ইথিওপিয়াকে সামরিক সহযোগিতার নতুন স্তর প্রদান করেছে। ইথিওপিয়ায় ১২টি সু-৩৫ যুদ্ধবিমান সরবরাহের পাশাপাশি চারটি এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে রাশিয়ার প্রভাব বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবং ইথিওপিয়ার অভ্যন্তরীণ সংঘাত মোকাবেলায় সামরিক সক্ষমতা জোরদার করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
দুই দিনের রাশিয়া-আফ্রিকা সম্মেলনে মস্কো সফরকালে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ এই চুক্তির কথা জানান। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে রাশিয়া ও ইথিওপিয়া একসঙ্গে কাজ করছে। তিনি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের গুরুত্বও তুলে ধরেন।
রাশিয়ার আগ্রহ ইথিওপিয়ার সঙ্গে সামরিক সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাসের সাথে জড়িত। স্নায়ুযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন ইথিওপিয়ার সাবেক কমিউনিস্ট সরকারকে সমর্থন দিয়েছিল। সেই সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় দুই দেশ এখন সামরিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করছে। অস্ত্র বিক্রি রাশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক স্বার্থও বটে। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে আয় বাড়ানোর পাশাপাশি ক্রেতা দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক বজায় রাখতে পারে মস্কো।
বিশ্লেষকদের মতে, ইথিওপিয়া পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন না করে বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে সহযোগিতার সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে। আফ্রিকার দ্বিতীয় সর্বাধিক জনবহুল দেশ হওয়ায় ইথিওপিয়া আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ বাজার। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে রাশিয়া আফ্রিকায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আফ্রিকার প্রধান অস্ত্র আমদানির ১৫ শতাংশ এসেছে রাশিয়া থেকে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ১৯ শতাংশ এবং চীনের ১৭ শতাংশ।
ইথিওপিয়ায় নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার মধ্যেই যুদ্ধবিমান সরবরাহের বিষয়টি সামনে এসেছে। টাইগ্রে অঞ্চলে সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে লড়াই, আমহারা অঞ্চলে আরেকটি বিদ্রোহ এবং ইরিত্রিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের আশঙ্কা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ২০২২ সালের নভেম্বরে স্বাক্ষরিত প্রিটোরিয়া শান্তিচুক্তির মাধ্যমে দুই বছরব্যাপী ভয়াবহ যুদ্ধের অবসান ঘটেছিল। তবে গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় সেই চুক্তি কার্যত ভেঙে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
"আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে রাশিয়া ও ইথিওপিয়া একসঙ্গে কাজ করছে। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিও গুরুত্ব দেন" — ভ্লাদিমির পুতিন
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইথিওপিয়া, মস্কো, হর্ন অব আফ্রিকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ, ভ্লাদিমির পুতিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২টি সু-৩৫ যুদ্ধবিমান, ৪টি এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ১৩০ কোটি ডলার বাণিজ্য, ১৫ শতাংশ আফ্রিকার অস্ত্র আমদানি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!