📌 নরসিংদী সদর উপজেলার চরদিঘলদীতে আধিপত্য যুদ্ধে দু’পক্ষের টেঁটাযুদ্ধে অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আহতদের নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছে, নরসিংদীর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে গ্রেপ্তারের ভয় রয়েছে
নরসিংদী সদর উপজেলার চরদিঘলদীতে আধিপত্য বিস্তারের জন্য সংঘটিত টেঁটাযুদ্ধে অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে জিৎরামপুর গ্রামের টিটিরচর এলাকায় সংঘর্ষে দু’পক্ষের লোকজন আহত হন। স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আহতদের নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নরসিংদী সদর উপজেলার চরদিঘলদী ইউনিয়নের জিৎরামপুর গ্রামে ভোরে সংঘর্ষে ২৪ জন আহত
- 📌 আহতদের মধ্যে ১২ জন চাঁন মিয়া পক্ষের, ১২ জন শহীদ মেম্বার পক্ষের এবং ১ জন ককটেল বিস্ফোরণে আহত
- 📌 স্থানীয়রা নরসিংদীর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভয় করে নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকায় পাঠানো হয়েছে
- 📌 শহীদ মেম্বার পক্ষের মমিন মিয়া বলেন, দুই মাস ধরে বাড়িঘরে যেতে পারছেন না
- 📌 চাঁন মিয়া অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের লোকজনের সঙ্গে শহীদ মেম্বারের যোগসাজশ রয়েছে
📰 বিস্তারিত
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, ভোরে সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জিৎরামপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চাঁন মিয়া পক্ষ ও শহীদ মেম্বার পক্ষের দ্বন্দ্ব চলছে। গত দুই মাসে এলাকায় দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে চার-পাঁচবার সংঘর্ষ হয়েছে। আজ ভোরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দু’পক্ষের সমর্থকরা টেঁটাসহ দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
শহীদ মেম্বার পক্ষের মমিন মিয়া জানান, তাঁদের পক্ষের ১২ জন টেঁটাবিদ্ধ হয়ে এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছেন। এছাড়াও ককটেল বিস্ফোরণে রমজান নামে একজন আহত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের কাছে তাঁদের বাড়িঘরে নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। অন্যদিকে চাঁন মিয়া বলেন, রাতে প্রতিপক্ষ তাঁদের ওপর টেঁটা ও ককটেল নিয়ে হামলা চালায়। এতে তাঁদের পক্ষের ১২ জন আহত হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, শহীদ মেম্বারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের লোকজনের যোগসাজশ রয়েছে।
শহীদ মেম্বার পক্ষের একজন ব্যক্তি জানান, ভোররাতে চাঁন মিয়ার লোকজন আগে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁদের ওপর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে তাঁর পক্ষের নারীসহ প্রায় ১৪-১৫ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, নরসিংদীর কোনো হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গেলে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এই ভয়ে তাঁরা নরসিংদীতে চিকিৎসার জন্য যাননি।
"আমরা দুই মাস ধরে বাড়িঘরে যেতে পারছি না। বাড়িতে ফিরতে গেলেই হামলা হচ্ছে।" — মমিন মিয়া, শহীদ মেম্বার পক্ষের একজন
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নরসিংদী সদর উপজেলা, চরদিঘলদী ইউনিয়ন, জিৎরামপুর গ্রাম, টিটিরচর এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মমিন মিয়া (শহীদ মেম্বার পক্ষ), চাঁন মিয়া, ওসি কামাল হোসেন, রমজান (আহত)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ জন আহত (১২ জন চাঁন মিয়া পক্ষ, ১২ জন শহীদ মেম্বার পক্ষ, ১ জন ককটেল বিস্ফোরণে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!