📌 চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুতে মারা যান পাঁচ বছর বয়সী সিরাজুম মুনিরা। তার মা হাসান বানু বলেছেন, ‘মেয়েটা কথা বলতে বলতেই মারা গেল, আমি কীভাবে এই কষ্ট ভুলে বাঁচব?’ পরিবারের সদস্যরা স্মৃতিচারণ করছেন মেয়েটির সুন্দর স্মৃতি নিয়ে
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার আমিরাবাদ এলাকায় ডেঙ্গুতে মারা যান পাঁচ বছর বয়সী সিরাজুম মুনিরা। তার মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যরা গভীর দুঃখ প্রকাশ করছেন। মেয়েটির মা হাসান বানু কাঁদতে কাঁদতে বলেছেন, ‘আমার এমন সুন্দর মেয়েটা কথা বলতে বলতেই চলে গেল। এই কষ্ট ভুলে আমি কীভাবে বাঁচব?’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিরাজুম মুনিরা (৫) ডেঙ্গুতে মারা যান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউয়ে মৃত্যু
- 📌 মেয়েটি আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়র প্রাক্–প্রাথমিক শ্রেণিতে পড়তেন
- 📌 ১০ সেপ্টেম্বর রাতে জ্বর শুরু, পরীক্ষায় ডেঙ্গু পাওয়ার পর অবস্থা খারাপ
- 📌 মা হাসান বানু বলেন, ‘মেয়েটি ঘুরতে পছন্দ করত, নতুন জামা আনার কথা বলত, এখন আর ফোন দেবে না’
- 📌 বাবা মো. নুরুন্নবী বলেন, ‘মেয়েটা মায়া লাগিয়ে চলে গেল, এই কষ্ট ভুলে জানি না কীভাবে থাকব’
- 📌 সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘সিরাজুম মুনিরার মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক’
📰 বিস্তারিত
সিরাজুম মুনিরা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার আমিরাবাদ এলাকার বাসিন্দা মো. নুরুন্নবীর স্ত্রী হাসান বানুর পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে। মুনিরা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়র প্রাক্–প্রাথমিক শ্রেণিতে পড়তেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, ১০ সেপ্টেম্বর রাতে মুনিরার জ্বর শুরু হয়। পরদিন জ্বর কিছুটা কমলেও ১৭ সেপ্টেম্বর রোববার আবার জ্বর দেখা দেয়। পরিবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান এবং ডেঙ্গু পরীক্ষার পরামর্শ দেন। পরীক্ষা করে পরদিন সোমবার প্রতিবেদন আসে, কিন্তু পরিবার ওই দিন চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেনি।
মঙ্গলবার চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। মুনিরাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে আইসিইউয়ে ভর্তি করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মুনিরার মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যরা মুনিরার স্মৃতিচারণ করছেন। তার মা হাসান বানু বলেন, ‘মেয়েটি ঘুরতে যেতে পছন্দ করত। নতুন জামা আনার কথা বলত। রাতে দেরি হলেই ফোন দিয়ে আমার খবর নিত। এখন আর কেউ ফোন দেবে না। অল্প দিনেই মেয়েটা এত মায়া লাগিয়ে চলে গেল। এই কষ্ট ভুলে জানি না কীভাবে থাকব।’
মুনিরার বাবা মো. নুরুন্নবী বলেন, ‘মেয়েটা ঘুরতে যেতে পছন্দ করত। নতুন জামা আনার কথা বলত। রাতে দেরি হলেই ফোন দিয়ে আমার খবর নিত। এখন আর কেউ ফোন দেবে না। অল্প দিনেই মেয়েটা এত মায়া লাগিয়ে চলে গেল। এই কষ্ট ভুলে জানি না কীভাবে থাকব।’ মুনিরার নানি সালেহা বেগম বলেন, ‘মেয়েটা ইউটিউব দেখে হাতের লেখা অনুশীলন করত। অনেক সুন্দর করে ছবি আঁকত। ঘরের পাশে পুকুর ছিল, তাই তাকে সাঁতার শেখানো হয়েছিল। গোসল করতে গেলেই পুকুরে দাপিয়ে বেড়াত সে।’
"আমার পরির মতো মেয়েটা কথা বলতে বলতেই মারা গেল। এই কষ্ট ভুলে আমি কীভাবে বাঁচব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আমিরাবাদ, সীতাকুণ্ড উপজেলা, চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সিরাজুম মুনিরা (৫), হাসান বানু, মো. নুরুন্নবী, সালেহা বেগম, মো. ফখরুল ইসলাম (সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ বছর বয়স, ১০ সেপ্টেম্বর (জ্বর শুরু), ১৭ সেপ্টেম্বর (ডেঙ্গু পরীক্ষা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!