📌 গোপালগঞ্জের বৌলতলী ইউনিয়নের গান্দিয়াসুর গ্রামের তরুণ সুনির্মল দাস বাপী শতাধিক হারিয়ে যাওয়া বাদ্যযন্ত্র তৈরি ও সংরক্ষণ করছেন। লোকসংস্কৃতির এই নীরব রক্ষক আধুনিকতার মুখে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের পুনর্জন্মের প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন
গোপালগঞ্জের বৌলতলী ইউনিয়নের গান্দিয়াসুর গ্রামে বসবাসকারী তরুণ সুনির্মল দাস বাপী এক সুরের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। শতাধিক হারিয়ে যাওয়া বাদ্যযন্ত্রের জীবন্ত সংগ্রহশালা হিসেবে পরিচিত এই গ্রামের ঘরেই বেজে ওঠে বাংলার লোকসংস্কৃতির জীবন্ত সুর। দোতারা থেকে শুরু করে মন্দিরা, ঢোল, বাঁশি, ডমরু, শিঙ্গা, ডুগডুগি, বেহালা — এসব বাদ্যযন্ত্রের প্রতিটি তারই হাতে তৈরি। সুনির্মল দাস বাপী শুধু বাদ্যযন্ত্র তৈরি করছেন না, তিনি লোকসংস্কৃতির এই নীরব রক্ষক হিসেবে কাজ করছেন যাতে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য বাঁচে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলতলী ইউনিয়নের গান্দিয়াসুর গ্রামের তরুণ সুনির্মল দাস বাপী শতাধিক বাদ্যযন্ত্র তৈরি করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে দোতারা, একতারা, ঢোল, খমক, বাঁশি, সারিন্দা, মন্দিরা, ডুগডুগি, বেহালা, ডমরু, শিঙ্গা সহ আরও অনেক হারিয়ে যাওয়া বাদ্যযন্ত্র
- 📌 প্রতিটি বাদ্যযন্ত্রের তৈরিতে আলাদা কৌশল প্রয়োজন — শুকনো কাঠ থেকে শুরু করে বাঁশ, নারকেলের খোল, চামড়া, তার ও পেরেকের সমন্বয়ে তৈরি হয় এই ঐতিহ্যবাহী যন্ত্রগুলো
- 📌 সুনির্মল দাস বাপী বলেছেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তির কারণে লোকবাদ্যের ব্যবহার অনেক কমে গেছে। আমি চাই আমাদের শিকড়ের এই সুর যেন হারিয়ে না যায়’
- 📌 তিনি নতুন প্রজন্মের কাছে লোকবাদ্যের পরিচয় তুলে ধরছেন এবং একদিন এমন একটি কেন্দ্র গড়ে তুলবেন যেখানে দেশীয় বাদ্যযন্ত্র সংরক্ষণ ও শেখানো হবে নিয়মিত
📰 বিস্তারিত
সুনির্মল দাস বাপীর সংগ্রহে রয়েছে শতাধিক প্রকারের বাদ্যযন্ত্র, যার মধ্যে অনেকগুলোই দেশের কোথাও আর পাওয়া যায় না। শৈশব থেকেই সুরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক। পরিবারে ছিল সংগীতচর্চার পরিবেশ। ছোট বেলায় বাবার কাছ থেকে বাদ্যযন্ত্র তৈরির প্রথম পাঠ পেয়েছিলেন তিনি। সময়ের সঙ্গে সেই শেখা পরিণত হয় ভালোবাসায়, আর সেই ভালোবাসার মিশ্রণে দক্ষতা হয়ে ওঠে পরিচয়। প্রথমে প্রতিবেশী কারুশিল্পী বিজয় পাণ্ডের কাছ থেকে দোতারা ও বেহালা তৈরির হাতে খড়ি নেন তিনি। এরপর একের পর এক যন্ত্র তৈরির প্রচেষ্টায় সফলতা লাভ করেন।
সুনির্মল দাস বাপী বলেছেন, ‘আগে গ্রাম বাংলার পালাগান, যাত্রা, বাউলগান বা লোকজ অনুষ্ঠান এসব বাদ্যযন্ত্র ছাড়া কল্পনাই করা যেত না। এখন আধুনিক প্রযুক্তির কারণে লোকবাদ্যের ব্যবহার অনেক কমে গেছে। কিন্তু আমি চাই আমাদের শিকড়ের এই সুর যেন হারিয়ে না যায়।’ তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে লোকবাদ্য আবার মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারে।
তিনি শুধু বাদ্যযন্ত্র তৈরি আর বাজানোতেই নিজেকে ব্যস্ত রাখেননি। নতুন প্রজন্মের কাছে লোকবাদ্যের পরিচয় তুলে ধরতেও কাজ করছেন। শিশু-কিশোরদের বাদ্যযন্ত্র দেখান, বাজিয়ে শোনান, এবং প্রতিটি যন্ত্রের ইতিহাস ও ব্যবহার বোঝান। তাঁর স্বপ্ন একদিন এমন একটি কেন্দ্র গড়ে তুলবেন, যেখানে দেশীয় বাদ্যযন্ত্র সংরক্ষণ ও শেখানো হবে নিয়মিত।
"আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি পশ্চিমা সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে। আমাদের সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে সুনির্মল দাস বাপীর মতন তরুণ শিল্পানুরাগী আরও বেশি বেশি দরকার। আর সেজন্যই সরকারিভাবে তাঁদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা করা দরকার।"
— রাখাল কিশোর ঠাকুর, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী এবং গোপালগঞ্জের ত্রিবেনী সংগীত একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলতলী ইউনিয়নের গান্দিয়াসুর গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সুনির্মল দাস বাপী, রাখাল কিশোর ঠাকুর, মো. নজরুল ইসলাম, ফারহান কবীর সিফাত
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: শতাধিক বাদ্যযন্ত্র (দোতারা, একতারা, ঢোল, খমক, বাঁশি, সারিন্দা, মন্দিরা, ডুগডুগি, বেহালা, ডমরু, শিঙ্গা সহ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!