📌 মুঠোফোনের নীল আলো ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায় না, বলেছে নতুন গবেষণা। বিজ্ঞানীরা জানান, ফোনের আলো হল মূল কারণ নয়, বরং জীবনযাত্রার অন্যান্য কারণগুলো ঘুমের মান প্রভাবিত করে
মুঠোফোনের নীল আলো ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায় না, বলেছেন বিজ্ঞানীরা। দশ বছর ধরে নীল আলোর কারণে ঘুম নষ্ট হওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য। গবেষণা থেকে জানা গেছে, ফোনের আলো হল মূল কারণ নয়, বরং জীবনযাত্রার অন্যান্য কারণগুলো ঘুমের মান প্রভাবিত করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নতুন গবেষণা বলছে, মুঠোফোনের নীল আলো ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায় না।
- 📌 ২০১৪ সালের গবেষণায় ১২ জনের মধ্যে অর্ধেকের ঘুম আসতে দেরি হয়েছিল আইপ্যাডের আলোর কারণে।
- 📌 ১১টি গবেষণার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ফোনের আলো ঘুমে সর্বোচ্চ ৯ মিনিট বিলম্বিত করতে পারে।
- 📌 স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেমি জেইটজার বলেছেন, নীল আলোর প্রভাব অত্যন্ত সামান্য, মূল কারণ হল জীবনযাত্রার অভ্যাস।
- 📌 ফোনের ‘অটো-ডিমিং’ ফিচার এবং নীল আলো প্রতিরোধী চশমা মানসিক সংকেত হিসেবে কাজ করে।
📰 বিস্তারিত
দশ বছর ধরে ডিজিটাল ডিভাইসের স্ক্রিন বা মুঠোফোনের নীল আলো ঘুম নষ্ট হওয়ার প্রধান কারণ বলে সতর্ক করা হত। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো এই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ফোনের আলোর কারণে ঘুম নষ্ট হওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ নয়। বিশেষজ্ঞরা জানান, নীল আলোর কিছু প্রভাব থাকলেও মূল কারণ হল জীবনযাত্রার অভ্যাস।
২০১৪ সালের একটি গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ১২ জনের মধ্যে অর্ধেক মানুষ ঘুমানোর আগে আইপ্যাডে পড়াশোনা করতেন। বাকিরা পড়তেন কাগজের বই। দেখা গেল আইপ্যাড ব্যবহারকারীদের ঘুম আসতে দেরি হচ্ছিল। পরদিন সকালে তাঁরা ঝিমুনি বোধ করছিলেন এবং শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কম ছিল। গবেষকদের মতে, আইপ্যাডের এলইডি স্ক্রিন থেকে নির্গত আলোর কারণে তাঁদের ঘুম আসতে দেরি হয়েছিল। তবে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা ও আচরণগত বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জেমি জেইটজার এই গবেষণাকে অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর বলেছেন। তিনি বলেছেন, গবেষণাটির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি দুর্বল ছিল না, কিন্তু তা মানুষকে ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছে দিয়েছিল।
গবেষণায় দেখা গেছে, ফোন, ল্যাপটপ ও ট্যাবলেটের স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলোর পরিমাণ সূর্যের আলোর তুলনায় অত্যন্ত সামান্য। স্ক্রিন থেকে আসা এই আলোর কারণে ঘুমের সময় সর্বোচ্চ ৯ মিনিট বিলম্বিত হতে পারে। অর্থাৎ এর প্রভাব জীবনযাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তন আনার মতো নয়। জেইটজার ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, নীল আলোর কিছুটা ভূমিকা থাকলেও অন্য অনেক কারণ ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।
তিনি আরও বলেছেন, দিনের বেলা যত বেশি আলোর সংস্পর্শে থাকা সম্ভব হবে, সন্ধ্যার আলোর প্রভাব ততটাই কম হবে। দিনের বেলা ঘরের আলো উজ্জ্বল রাখা এবং সন্ধ্যার পর থেকে কমাতে শুরু করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। ঘুমের পরিবেশ ও সময়মতো বিছানায় যাওয়ার অভ্যাসও ভালো ঘুমে সাহায্য করে। ফোনের ‘অটো-ডিমিং’ ফিচার এবং নীল আলো-প্রতিরোধী চশমার ব্যবহার অনেকের ক্ষেত্রে মানসিক সংকেত হিসেবে কাজ করে। এটি শরীরকে মনে করিয়ে দেয় যে এখন ঘুমাতে হবে।
"গবেষণাগারে যদি একজন মানুষকে সারা দিন খুব মৃদু আলোয় রেখে হঠাৎ তীব্র আলোর সংস্পর্শে আনা হয়, এমন পরিস্থিতিতে নীল আলো মানুষের ওপর প্রবল প্রভাব ফেলে, কিন্তু তা মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব চিত্র নয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গবেষণাগার, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক জেমি জেইটজার, গবেষকরা, ব্যবহারকারীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ জন, ১১টি গবেষণা, ৯ মিনিট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!