📌 শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় ১৫টি এআই ক্যামেরা স্থাপন করে বন্যহাতি ও মানুষের সংঘাত কমাতে চেষ্টা করছে সরকারি সংস্থা। গত ১৩ বছরে এই এলাকায় ৩৩টি হাতি ও ৩৪ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। ক্যামেরাগুলো হাতির উপস্থিতি শনাক্ত করে মোবাইলে সতর্কবার্তা পাঠায়, যা সংঘাত কমাতে সাহায্য করছে
শেরপুরের গারো পাহাড়ি এলাকায় বন্যহাতি ও মানুষের দীর্ঘদিনের সংঘাত মোকাবেলায় এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। নালিতাবাড়ী উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলে ১৫টি এআই ক্যামেরা স্থাপন করে বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো হাতির চলাচল পর্যবেক্ষণ করছে। এই ক্যামেরাগুলো হাতির উপস্থিতি শনাক্ত করে মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠায়, যা সংঘাত কমাতে সাহায্য করছে বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় ১৫টি এআই ক্যামেরা স্থাপন করে হাতি-মানুষের সংঘাত কমাতে চেষ্টা করছে বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা
- 📌 গত ১৩ বছরে এই এলাকায় ৩৩টি বন্যহাতি ও ৩৪ জন মানুষের প্রাণহানি হয়েছে সংঘাতে
- 📌 ক্যামেরাগুলো হাতির উপস্থিতি শনাক্ত করে মোবাইলে সতর্কবার্তা পাঠায়, যা বন বিভাগ ও এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সাহায্য করছে
- 📌 স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করছেন, ক্যামেরার মাধ্যমে আগাম খবর পাওয়ায় হাতির আক্রমণ অনেকটাই কমেছে
- 📌 বন্যহাতির চলাচলের আরও এলাকায় ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা
📰 বিস্তারিত
শেরপুরের গারো পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বন্যহাতি ও মানুষের মধ্যে সংঘাত চলছে। খাবারের সন্ধানে পাহাড়ের বন থেকে লোকালয়ে নেমে আসা হাতির পালের কারণে ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতি হয় এবং ঘটে প্রাণহানির ঘটনা। এই সংঘাত কমাতে এবার তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হয়েছে। নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড়ে পরীক্ষামূলকভাবে স্থাপন করা হয়েছে ১৫টি এআই ক্যামেরা। এই ক্যামেরাগুলো বন্যহাতির উপস্থিতি শনাক্ত করে এক মিনিটের মধ্যে মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠায়। এতে বন বিভাগ ও এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারছেন এবং সংঘাত কমাতে সাহায্য করছেন।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ বছরে শেরপুরের গারো পাহাড়ি অঞ্চলে মানুষ-হাতির সংঘাতে ৩৩টি বন্যহাতি মারা গেছে। একই সময়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৪ জন মানুষ। সংঘাতের কারণে দুই পক্ষেরই প্রাণহানি ঘটছে, যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও উদ্বেগের বিষয়। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, বন্যহাতির স্বাভাবিক চলাচলের পথ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় প্রাণীগুলো বাংলাদেশের পাহাড়ি এলাকায় আটকে পড়ছে। উত্তরে ভারতের বিস্তীর্ণ বনভূমি থাকলেও সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া ও নানা বাধার কারণে হাতিগুলোর সেখানে যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে খাবারের সন্ধানে প্রায়ই বাংলাদেশের পাহাড়ি গ্রামগুলোতে নেমে আসছে তারা।
এই পরীক্ষামূলক প্রকল্পে বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্স এবং মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা রয়েছে। ক্যামেরাগুলো বন্যহাতির উপস্থিতি শনাক্ত করতে পারে এবং হাতির অবস্থান শনাক্ত হলেই টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মোবাইলে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। এতে হাতি লোকালয়ে প্রবেশের আগেই বন বিভাগ ও এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সতর্ক করা হচ্ছে।
"আগে বন্যহাতি আসার খবর পেতে অনেক দেরি হতো। হঠাৎ সামনে হাতি চলে এলে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়তেন। এখন ক্যামেরার মাধ্যমে আগেই খবর পাওয়া যাচ্ছে। বন বিভাগের লোকজনও দ্রুত চলে আসছেন। স্থানীয়দের সচেতন করাও সহজ হয়েছে। এতে এলাকায় হাতির আক্রমণ অনেকটাই কমেছে।"
— আরফান আলী, নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের সমশ্চুড়া এলাকার বাসিন্দা ও এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সভাপতি
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা, গারো পাহাড়ি এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আরফান আলী (এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সভাপতি), কাওসার হোসেন (মধুটিলা রেঞ্জের বনবিট কর্মকর্তা), স্থানীয় বাসিন্দারা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫টি এআই ক্যামেরা, ৩৩টি বন্যহাতি, ৩৪ জন মানুষ, ১৩ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!