📌 সুন্দরবনের নদী-খালে গবেষণা করে নতুন পাঁচ প্রজাতির মাছ ও দুই প্রজাতির চিংড়ি শনাক্ত করা হয়েছে। গবেষণায় ৩৮২ প্রজাতির মাছের উপস্থিতি নথিবদ্ধ হয়েছে, যার মধ্যে ২৫১ প্রজাতির মাছ ও ৫১ প্রজাতির ক্রাস্টেশিয়ান রয়েছে। ডিএনএ বারকোডিং পদ্ধতি ব্যবহার করে এই শনাক্তকরণ করা হয়েছে
সুন্দরবনের নদী-খালে গবেষণা করে নতুন সাত প্রজাতির মাছ ও চিংড়ি শনাক্ত করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই মাছ ও চিংড়িগুলো সুন্দরবনে আগে থেকেই উপস্থিত ছিল, কিন্তু তাদের সঠিক পরিচয় আগে থেকে ছিল না। গবেষণাটি পরিচালনা করেছে বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস) ও আরণ্যক ফাউন্ডেশন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সুন্দরবনের নদী-খালে নতুন পাঁচ প্রজাতির মাছ ও দুই প্রজাতির চিংড়ি শনাক্ত করা হয়েছে। মাছের নাম: বড় আঁইশ পারশে, ফোঁটা বাটা, বার্মিজ এক ঠুঁইটা, কুলি বেলে ও সবুজ ফোঁটা বেলে। চিংড়ির নাম: মাকড়সা চিংড়ি ও ফোঁটা চিংড়ি।
- 📌 গবেষণায় ১৬ মাস ধরে ৬৫টি নদী-খালে ৮৩টি মাছ ও ২৮টি ক্রাস্টেশিয়ানের নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ডিএনএ বারকোডিং পদ্ধতি ব্যবহার করে এই শনাক্তকরণ করা হয়েছে।
- 📌 সুন্দরবনে মোট ৩৮২ প্রজাতির মাছের উপস্থিতি নথিবদ্ধ হয়েছে, যার মধ্যে ২৫১ প্রজাতির মাছ ও ৫১ প্রজাতির ক্রাস্টেশিয়ান রয়েছে।
- 📌 গবেষণায় দেখা গেছে, সুন্দরবনের জলজ সম্পদ সংরক্ষণের জন্য ডিএনএ বারকোডিং পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর।
📰 বিস্তারিত
সুন্দরবনের জলজ সম্পদ নিয়ে গবেষণা করে নতুন সাত প্রজাতির মাছ ও চিংড়ি শনাক্ত করা হয়েছে। গবেষণাটি পরিচালনা করেছে বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস) ও আরণ্যক ফাউন্ডেশন। গবেষণায় ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ১৬ মাস ধরে সুন্দরবনের নদী-খালের মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া ও অন্যান্য জলজ প্রাণীদের বৈচিত্র্য, বিস্তৃতি, আহরণের প্রবণতা এবং জলজ পরিবেশের অবস্থা নিয়ে গবেষণা করা হয়। গত ১৩ আগস্ট খুলনার আভা সেন্টারে এক অনুষ্ঠানে ‘সুন্দরবনের জলজ সম্পদের মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণার খসড়া প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।
গবেষক দলের প্রধান ও বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক এম এনামুল হক বলেছেন, ডিএনএ বারকোডিং পদ্ধতি ব্যবহার করে মাছের প্রজাতি নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা সম্ভব। তিনি বলেন, ডিএনএ হলো জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বহনকারী উপাদান। কোনো জীবের ডিএনএর নির্দিষ্ট অংশের বিন্যাস বিশ্লেষণ করে তা পরিচিত প্রজাতির ডিএনএ তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। এই পদ্ধতিতে দেখতে একই রকম হলেও ভিন্ন প্রজাতির মাছকে আলাদা করে শনাক্ত করা সম্ভব।
গবেষণায় শনাক্ত করা পাঁচটি মাছের নাম হলো: বড় আঁইশ পারশে (Planiliza macrolepis), ফোঁটা বাটা (Crenimugil seheli), বার্মিজ এক ঠুঁইটা (Dermogenys burmanica), কুলি বেলে বা চ্যাপ্টা মাথা বেলে (Butis humeralis) এবং সবুজ ফোঁটা বেলে (Acentrogobius viridipunctatus)। চিংড়ির নাম হলো: মাকড়সা চিংড়ি (Cloridos scorpio) ও ফোঁটা চিংড়ি (Nematopalaemon tenuipes)। গবেষক এম এনামুল হক বলেছেন, এই মাছ ও চিংড়িগুলো সুন্দরবনে আগে থেকেই ছিল, তবে আগে সেগুলো সঠিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি।
"ডিএনএ বারকোডিংকে অনেকটা জীবের আঙুলের ছাপের সঙ্গে তুলনা করা যায়। কোনো জীবের ডিএনএর নির্দিষ্ট একটি অংশের বিন্যাস বিশ্লেষণ করে তা পরিচিত প্রজাতির ডিএনএ তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। এভাবে দেখতে প্রায় একই রকম হলেও ভিন্ন প্রজাতির মাছকে আলাদা করে শনাক্ত করা সম্ভব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুন্দরবনের নদী-খাল, খুলনার আভা সেন্টার, খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এম এনামুল হক (সাবেক পরিচালক, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট), মফিজুর রহমান চৌধুরী (বন বিভাগের মৎস্য বিশেষজ্ঞ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ প্রজাতি (মাছ ও চিংড়ি), ১৬ মাস (গবেষণা সময়কাল), ৮৩টি মাছ ও ২৮টি ক্রাস্টেশিয়ানের নমুনা, ৩৮২ প্রজাতির মাছ, ৬৫টি নদী-খাল, ২৫১ প্রজাতির মাছ, ৫১ প্রজাতির ক্রাস্টেশিয়ান
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!