📌 গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে বিশ্বের ২২টি দেশের ১১০টি বন্দরে ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৫টি শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃত্বে এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া হয়েছে, যেখানে বন্দর শ্রমিকেরা অস্ত্র পরিবহন বন্ধের দাবি জানিয়েছে
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বন্দরে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে আজ (৩০ অক্টোবর) ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাঁচ মহাদেশের ২২টি দেশের অন্তত ১১০টি বন্দরে এই কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছে ২৫টি শ্রমিক ইউনিয়ন। বন্দর শ্রমিকেরা ‘যুদ্ধের জন্য কাজ করবে না’ এই স্লোগানে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর গণহত্যা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিশ্বের ২২টি দেশের ১১০টি বন্দরে ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ২৫টি শ্রমিক ইউনিয়ন অংশ নিয়েছে
- 📌 ধর্মঘটের মূল দাবি: ফিলিস্তিনি গণহত্যা বন্ধ এবং সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের অবসান
- 📌 গ্রিসের পিরেয়াস বন্দরের শ্রমিক নেতা মার্কোস বেকরিস বলেছেন, বন্দর শ্রমিকদের কর্মবিরতি অস্ত্র সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করবে
- 📌 জার্মানিতে বসবাসরত মোহাম্মদ আল-আত্তার বলেছেন, মাত্র দুই দিনের কর্মবিরতি হাজারো জীবন বাঁচাতে পারে
- 📌 ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইসরায়েলের জন্য ৩১৫টি অস্ত্র চালান শনাক্ত করা হয়েছে, যা ৫৬টি বন্দর দিয়ে পরিবহিত হয়েছিল
- 📌 ধর্মঘটে অংশগ্রহণকারী বন্দরগুলো বিশ্বের প্রায় ১৩.৫ শতাংশ আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন পরিচালনা করে
📰 বিস্তারিত
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বন্দর শ্রমিকেরা গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে আজ (৩০ অক্টোবর) ধর্মঘটের মাধ্যমে তাদের প্রতিবাদ প্রকাশ করেছেন। পাঁচ মহাদেশের ২২টি দেশের অন্তত ১১০টি বন্দরে এই কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছে ২৫টি শ্রমিক ইউনিয়ন। বন্দর শ্রমিকেরা ‘যুদ্ধের জন্য কাজ করবে না’ এই স্লোগানে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর গণহত্যা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধর্মঘটের আয়োজকরা মনে করেন, অস্ত্র পরিবহন ও সামরিক সরবরাহব্যবস্থায় বন্দর শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে তাঁদের কর্মবিরতি ইসরায়েলসহ বিভিন্ন দেশে অস্ত্র সরবরাহ ও সামরিক পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
গ্রিসের এথেন্সের পিরেয়াস বন্দরের শ্রমিক ইউনিয়ন এনইডিইপির নেতা মার্কোস বেকরিস বলেছেন, ‘অস্ত্র গন্তব্যে পৌঁছাতে পরিবহন, অবকাঠামো ও শ্রমিকদের হাত প্রয়োজন। শ্রমিকদের শক্তির জায়গা সেখানেই।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘শ্রমিকেরাই প্রকৃত শক্তি। মাত্র দুই দিন কাজ বন্ধ রাখতে পারলে হাজারো মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।’
২০২৫ সালের শুরুর দিকে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের বন্দর শ্রমিক ইউনিয়ন অস্ত্র পরিবহন বন্ধ এবং ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানাতে একত্রিত হয়। শুরুতে পাঁচটি দেশের ২০টি বন্দরের পাঁচটি ইউনিয়ন এ উদ্যোগে যুক্ত ছিল। পরে গ্রিসের এথেন্স, ইতালির জেনোয়া ও তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে আন্দোলন বিস্তৃত হয়। চলতি বছরের মে মাসে ইস্তাম্বুল ঘোষণার মাধ্যমে ৩০ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক কর্মসূচির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
আয়োজকদের হিসাবে, ফ্রান্স, ইতালি, ভারত, গ্রিস ও তুরস্কে ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘট পালিত হয়েছে। মরক্কো ও সাইপ্রাসসহ কয়েকটি দেশে দুই ঘণ্টার কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ইতালির শ্রমিক ইউনিয়ন ইউএসবি দেশজুড়ে সাধারণ ধর্মঘটেরও ডাক দিয়েছে।
"অস্ত্র গন্তব্যে পৌঁছাতে পরিবহন, অবকাঠামো ও শ্রমিকদের হাত প্রয়োজন। শ্রমিকদের শক্তির জায়গা সেখানেই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বিশ্বের ২২টি দেশের ১১০টি বন্দর (ফ্রান্স, ইতালি, ভারত, গ্রিস, তুরস্ক, মরক্কো, সাইপ্রাস)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মার্কোস বেকরিস (গ্রিসের পিরেয়াস বন্দরের শ্রমিক নেতা), মোহাম্মদ আল-আত্তার (জার্মানিতে বসবাসরত বন্দর শ্রমিক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১০টি বন্দর, ২৫টি শ্রমিক ইউনিয়ন, ৩১৫টি অস্ত্র চালান, ৫৬টি বন্দর, ১৩.৫ শতাংশ পণ্য পরিবহন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!