📌 চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হার নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যাচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেশি হলেও মৃত্যু ঘটেছে নারীদেরই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইইডিসিআর মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখছে
চলতি বছরের শুরু থেকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দেশব্যাপী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৮ হাজার ৯২৯ জন। তাদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ১৭ হাজার ৯০৮ জন বা ৬২ শতাংশ। অন্যদিকে নারী রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ১৫ জন বা ৩৮ শতাংশ। তবে মৃত্যু পরিসংখ্যান সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র তুলে ধরে। এ বছর ডেঙ্গুতে মোট ৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে নারী ৪৮ জন, যা মোট মৃত্যুর ৫৯ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে পুরুষের মৃত্যুহার দাঁড়িয়েছে ৪১ শতাংশে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে মোট ৮২ জনের, যার মধ্যে ৫৯ শতাংশই নারী
- 📌 ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের হার ৬২ শতাংশ হলেও মৃত্যুহার বেশি নারীদের
- 📌 ২১ থেকে ৫০ বছর বয়সী নারীরাই ডেঙ্গুজনিত মৃত্যুর প্রধান শিকার
- 📌 শহরাঞ্চলের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে ৩৭ জনের, যার মধ্যে ২৬ জনই নারী
📰 বিস্তারিত
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরের শুরু থেকে গত রোববার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৮ হাজার ৯২৯ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ রোগীর সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৯০৮ জন বা ৬২ শতাংশ। অন্যদিকে নারী রোগীর সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ১৫ জন বা ৩৮ শতাংশ। তবে মৃত্যু পরিসংখ্যান সম্পূর্ণ বিপরীত। এ বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু হয়েছে ৮২ জনের। তাদের মধ্যে নারী মৃত্যু হয়েছে ৪৮ জনের, যা মোট মৃত্যুর ৫৯ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে পুরুষের মৃত্যুহার দাঁড়িয়েছে ৪১ শতাংশে।
বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে যে, প্রজননক্ষম ও কর্মক্ষম বয়সী অর্থাৎ ২০ থেকে ৫০ বছর বয়সী নারীরাই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন সবচেয়ে বেশি। মৃতদের মধ্যে ২১ থেকে ৫০ বছর বয়সী নারীদের সংখ্যাই বেশি। শহরাঞ্চলের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে ৩৭ জনের, যার মধ্যে ২৬ জনই নারী। অন্যদিকে সিটি করপোরেশনের বাইরের হাসপাতালগুলোতে মৃত্যু হয়েছে ৪৪ জনের, যার মধ্যে পুরুষ ও নারী সমান সংখ্যক অর্থাৎ ২২ জন করে।
এ প্রেক্ষাপটে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার বেশি হওয়ার কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শহরাঞ্চলে নারীদের হাসপাতালে দেরিতে ভর্তি হওয়া, শারীরিক জটিলতা সময়মতো শনাক্ত না হওয়া এবং ঘরোয়া পরিবেশে মশার কামড়ে আক্রান্ত হওয়ার পর অবহেলা তাদের মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে গুরুতর লক্ষণ দেখা দেওয়ার পরই নারীরা হাসপাতালে আসেন, যার ফলে চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ে।
‘ল্যাবরেটরি থেকে আমরা মূলত ডেঙ্গুর সেরোটাইপ বা ধরন এবং পজিটিভিটির হার নিয়ে কাজ করি। এ বছর ঢাকায় নমুনা পরীক্ষায় “ডেন-৩” সেরোটাইপ বেশি পাওয়া গেছে। অন্যদিকে ঢাকার বাইরে বান্দরবান থেকে সংগৃহীত নমুনায় “ডেন-২” বেশি মিলেছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সারা দেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, আইইডিসিআর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: মৃত্যু ৮২ জন, নারী মৃত্যু ৪৮ জন (৫৯%), নারী রোগী ৩৮%
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!