📌 ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের আমদানি এলসি খোলার পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ। তবে মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি কমায় বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত মিলছে না। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, উচ্চ সুদহার ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা বিনিয়োগের প্রধান অন্তরায়।
দেশের আমদানি বাজারে সাম্প্রতিক সময়ে গতি দেখা গেলেও সেই প্রবৃদ্ধি এখনো বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হচ্ছে না। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নতুন আমদানি এলসি খোলার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৪৭০ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ বেশি। তবে এলসির বিপরীতে প্রকৃত আমদানি দায় পরিশোধের প্রবৃদ্ধি প্রায় শূন্যের কাছাকাছি রয়ে গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নতুন এলসি খোলার পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৪৭০ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ শতাংশ বেশি
- 📌 এলসির বিপরীতে প্রকৃত আমদানি দায় পরিশোধ হয়েছে ৭ হাজার ৪০ কোটি ডলার, প্রবৃদ্ধি মাত্র ০.১৪ শতাংশ
- 📌 মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ, যা নতুন কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে
- 📌 শিল্পের কাঁচামাল আমদানিও কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ
- 📌 উচ্চ সুদহার, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট ও ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা বিনিয়োগের প্রধান বাধা
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে নতুন এলসি খোলার পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৪৭০ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৭ শতাংশ বেশি। তবে এলসির বিপরীতে প্রকৃত আমদানি দায় পরিশোধের পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৪০ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় মাত্র ১০ কোটি ডলার বেশি। ফলে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ০.১৪ শতাংশ। অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন, এলসি খোলার পরিমাণ বৃদ্ধি ভবিষ্যৎ আমদানির সম্ভাব্য সংকেত হতে পারে, তবে তা সরাসরি বিনিয়োগের প্রমাণ নয়।
বিনিয়োগের সবচেয়ে স্পষ্ট সূচক হিসেবে বিবেচিত হয় মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি। গত অর্থবছরে এই খাতে আমদানি দায় পরিশোধ কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ। প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার থেকে তা নেমে এসেছে ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে। শিল্পের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি ও নতুন কারখানা স্থাপনের জন্য এই যন্ত্রপাতির প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। শুধু যন্ত্রপাতি নয়, শিল্পের কাঁচামাল আমদানিও কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ। ফলে বিদ্যমান শিল্পের উৎপাদন বৃদ্ধির গতি খুবই মন্থর।
অন্যদিকে, অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে পণ্য আমদানি প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে ৬ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি হয়েছিল। এপ্রিল মাসে আমদানি ছিল সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি। তবে মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামালের আমদানি কম থাকায় এই প্রবৃদ্ধি উৎপাদনশীল খাত থেকে আসছে না।
উদ্যোক্তাদের মতে, উচ্চ সুদহার, গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিশ্চয়তা, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং ব্যবসায়িক আস্থার সংকট বিনিয়োগের প্রধান অন্তরায়। বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরলেও গ্যাস-বিদ্যুতের অপ্রতুলতা এবং ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার নতুন বিনিয়োগে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
"রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরলেও গ্যাস-বিদ্যুতের অপ্রতুলতা এবং ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার এখনো বড় বাধা। এসব সমস্যা দূর না হলে নতুন বিনিয়োগে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ ফিরবে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অর্থনীতিবিদদের, ব্যক্তিরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ হাজার ৪৭০ কোটি ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!